সিলেটের ৫ আসনে ৬ জামায়াত নেতাকে গ্রীণ সিগন্যাল

প্রকাশিত: ৭:১৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৭

কবীর আহমদ সোহেল: আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সারাদেশে পৃথক পর্যবেক্ষণ টিমের মাধ্যমে সম্ভাব্য আসন ও প্রার্থীদের অবস্থান যাচাই বাচাই করে নিয়েছে জামায়াত। এক্ষেত্রে দলটি নিজ দলের সক্ষমতা সম্ভাব্যতার পাশাপাশি বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থীদের দুর্বলতা খতিয়ে দেখেছে। জামায়াত হাই কমান্ডের এই পর্যবেক্ষণ শেষে সিলেট জেলার ৫টি আসনে ৬ জামায়াত নেতাকে গ্রীন সিগন্যাল দিয়েছে। পুরোদমে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেবার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নির্বাচন জোটগতভাবে হোক আর দলীয়ভাবে হোক নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। তথ্য জামায়াত সংশ্লিষ্ট সুত্রের।

সিলেটে নির্বাচনে প্রার্থীতার গ্রীন সিগন্যাল প্রাপ্তরা হচ্ছেন, সিলেট-৫(কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে মাওলানা হাবীবুর রহমান। তিনি এই আসনে একাধিকবার নির্বাচন করেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনে অর্ধ লক্ষাধিক ভোট পান।

জামায়াত হাইকমান্ড চমক দিয়েছে নতুন তিনটি আসনে। সিলেট-৪( জৈন্তাপুর-গোয়াইনঘাট-কোম্পানিগঞ্জ) আসনে জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীনকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

জয়নাল আবেদীন সিলেট জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা ।জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে  জয়নাল আবেদীন বেশ জনপ্রিয়। এই আসনে বিএনপি’র সম্ভাব্য প্রার্থী দিলদার হোসেন সেলিমের গ্রহণযোগ্যতা ও জনভিত্তি ভাল নেই। ‘অসুস্থতা’ তার আরেকটি নেতিবাচক দিক। জৈন্তাপুর গোয়াইনঘাটে বিএনপি’র দলীয় অবস্থানও আগের মত নেই। জামায়াত এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চায়।

আরও পড়ুন  সাবেক কাউন্সিলর শানু’র স্বামী খুন

সিলেট-৩(ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণসুরমা- বালাগঞ্জ আংশিক) আসনে জামায়াত হার্ডলাইনে। ফেঞ্চুগঞ্জ-দক্ষিণসুরমা দুই উপজেলায় জামায়াতের শক্ত অবস্থান। এ দুই উপজেলার চেয়ারম্যান ছিলেন জামায়াতের। গত উপজেলা নির্বাচনে দক্ষিণ সুরমায় জামায়াত নেতা মাওলানা লোকমান আহমদ ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেতা আলী আহমদ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে ফলাফল পাল্টে যায়। দক্ষিণ সুরমায় জয়লাভ করেন আওয়ামীলীগের আবু জাহিদ। এ নিয়ে এই উপজেলায় বিএনপি’র আলী সমর্থকদের সাথে জামায়াতের দুরত্ব অনেক। অন্যদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ আল হোসাইনকে ‘মিথ্যা’ মামলা দিয়ে বরখাস্তের পেছনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদের হাত রয়েছে বলে মনে করে জামায়াত।  এই আসনে কোন ছাড় দিতে নারাজ দলটি। তাই সাইফুল্লাহ আল হোসাইন ও মাওলানা লোকমান আহমদ কে প্রস্তুতি নেবার সিগন্যাল দিয়েছে হাই কমান্ড। অবস্থা বিবেচনায় যে কাউকে প্রার্থী করবে জামায়াত।

জামায়াতের সিলেট মহানগর আমীর এডভোকট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরকে নির্বাচনী প্রস্তুতির নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সিলেট-১ আসন নাকি সিলেট সিটি কর্পোরেশন এ নিয়ে জামায়াত হাই কমান্ড এখনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। এক্ষেত্রে তাঁরা অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেবার পক্ষে। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এডভোকট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে প্রার্থী হয়ে পরবর্তীতে আরিফুল হকের পক্ষে তা প্রত্যাহার করে নেন। এবার খুব একটা ছাড় দিতে নারাজ স্থানীয় জামায়াত।

আরও পড়ুন  ছাড়পত্র পেল ‘টুঙ্গীপাড়ার মিয়া ভাই’

গ্রীন সিগন্যাল পেয়েছেন এমন একজন জামায়াত নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রভাতবেলাকে বলেন, জামায়াত তার নিজস্ব শক্তিতে বিশ্বাসী। নিজস্ব শক্তি নিয়ে প্রস্তুতি নেবার পরামর্শ কেন্দ্রিয় জামায়াত দিয়েছে। আমরা সরকার পরিবর্তনের বিষয়টি মাথায় রেখে নির্বাচন করবো। কাজেই বিষয়টি জোটে কোন প্রভাব পড়বেনা। প্রার্থী হিসেবে যিনি বিজয়ী হতে পারবেন তিনিই নির্বাচন করবেন। এটা তো সহজ সমীকরন। সবকিছু নির্ভর করছে পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপর। বলেন জামায়াত নেতা।

সুত্রমতে, সিলেটের এই ৫ আসন ছাড়াও মৌলভীবাজার-১( জুড়ী-বড়লেখা) আসনে মাওলানা আমিনুল ইসলাম এবং সুনামগঞ্জের ছাতক দোয়ারাবাজার আসনে মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানীকে গ্রীন সিগন্যাল দেয়া হয়েছে।

সুত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায়  ইতোমধ্যে দলীয় কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।গঠিত হয়েছে নির্বাচন মনিটরিংয়ের জন্য জেলাভিত্তিক আসন কমিটি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ