সিলেট ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৬শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩, ২০২৪
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুড়ী নদী শহরের মধ্যেদিয়ে বয়ে যাওয়ার কারণেই ভবানীগঞ্জ ও কামিনীগঞ্জ বাজার বিভক্ত করেছে। কামিনীগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ বাজার দুটি নদীর দুপাশে অবস্থিত। কোনোটিতেই নেই নির্দিষ্ট ময়লার কোন ডাস্টবিন। যার কারণে শহরের সকল উচ্ছিষ্ট ময়লা, আর্বজনা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্রীজের উপর দিয়ে ফেলা হয় নদীতে। এতে করে বৃষ্টির পানিতে ভেসে ময়লা আর্বজনা, প্লাস্টিক ও পলিথিন হাকালুকি হাওরে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
এছাড়াও জুড়ী-ফুলতলা সড়কের উপর নির্মিত ব্রীজের নিচেও রয়েছে ময়লা আবর্জনার একটি বড় স্তুপ। এসব ময়লা আবর্জনা পানিতে ভেসে হাকালুকি হাওরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রয়েছে হুমকির মুখে।
পাথারিয়া বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সদস্য ও পরিবেশকর্মী লুৎফুর রহমান শাহান বলেন, দেশে ২০০২ সালে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে পলিথিনের ব্যবহার দেখলে বুঝার কোন উপায় নেই যে এদেশে পলিথিন নিষিদ্ধ! ভয়ানক এ পলিথিন বর্তমানে আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলজ প্রাণীর জন্য এক বিপদজনক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ করে এর বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
জুড়ী কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আম্বিয়া বলেন, জুড়ী এতো বড় বাজার। কিন্তু ময়লা ফেলার মতো নির্দিষ্ট কোন স্থান নেই। যদি ময়লার ফেলার স্থান থাকতো তাহলে নদীতে ময়লা যারা ফেলতো তাদের আইনের আওতায় আনা যেতো। এটি স্থায়ীভাবে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এভাবে ময়লা ফেলা ছাড়া আর বিকল্প রাস্তা দেখছি না। আগে আমাদের বাজারবাসীকে বাজারের বর্জ্য ফেলার মতো নির্দিষ্ট একটি স্থান করে দেয়া হোক।
তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পলিথিন দীর্ঘ সময়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়ে নানা প্রাণীর মধ্যে প্রবেশ করছে। জলাশয়ের মাছের মধ্যে এগুলো প্রবেশ করে। এভাবে এক সময় মানুষের শরীরেও চলে আসে। বর্ষাকালে এই নদীতে জমা হওয়া পলিথিন হাওর এলাকায় চলে যাবে, হাওরের ইকোসিস্টেমে বিরূপ প্রভাব পড়বে। তিনি আরো বলেন, মানুষকে সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করে পলিথিন কোন ভাবেই জলাশয়ে মিশতে না পারে।
জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লুসিকান্ত হাজং বলেন, জুড়ী উপজেলার ২টি বাজার কামিনীগঞ্জ ও ভবানীগঞ্জ বাজারের মধ্যে কামিনীগঞ্জ বাজারটি সরকারিভাবে ইজারাভুক্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কমিটিকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে একাধিকবার। যদি এসব ক্রমাগত এভাবে পরিবেশ বিপর্যয় করতে থাকে ঈদের পরে উচ্ছেদ সহ আরো কঠোর অবস্থানে যাবে প্রশাসন । তবে ভবানীগঞ্জ বাজারটি ইজারাভুক্ত না হওয়ায় এদিক থেকে তাদেরকে চাপ সৃষ্টি করা না গেলেও প্রশাসনিকভাবে এ বিষয়ে জোরদার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাছাড়া কাজের সুবিধার্থে দুটি বাজারকেই এক করে একসাথে লিজ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি