সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১:৩১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০১৯
সংবাদদাতা,ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষা কেন্দ্রে মাদ্রাসা ছাত্রীর গায়ে আগুন দেয়ার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এব্যপারে ওই ছাত্রী চিকিৎসকের কাছে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। ওই মাদ্রাসা ছাত্রী চিকিৎসককে বলেছেন, ‘নেকাব, বোরকা ও হাতমোজা পরা চারজন ওড়না দিয়ে হাত বেঁধে শরীরে কিছু একটা ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। তারা প্রিন্সিপালের (সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা) বিরুদ্ধে করা যৌন হয়রানির মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আগুন দেয়। ওড়নাটি ছাই হওয়ার পর হাতের বাঁধন খুলে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অগ্নিদগ্ধ ওই শিক্ষার্থী এক চিকিৎসকের কাছে বলেছেন, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা কয়েক বছর ধরে নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করছিল। অধ্যক্ষ মেয়েদের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখাত। এতে রাজি না হলে যৌন নিপীড়ন করার চেষ্টা করত। নানাভাবে হেনস্তা করত। ২৭ মার্চের আগেও বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করেছে। তবে ২৭ মার্চ আগের সব অশোভন আচরণকে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ কারণেই বিষয়টি সে পরিবারকে জানিয়েছে। অন্য শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি জেনেছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তার পরিবার এবং সে খুব চাপে ছিল। এ কারণে সে ভাইয়ের সঙ্গে মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিতে যেত। ঘটনার দিন তার ভাইকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী আরও বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের পর তাকে ছাদে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নেকাব, বোরকা, হাতমোজা পরিহিত চারজনকে সে দেখতে পায়। তাদের মধ্য থেকে তার (অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী) সঙ্গে একজন কথা বলছিল। সে বারবার মামলা প্রত্যাহার করে নিতে বলে। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ অসত্য এ কথা বলতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। এতে রাজি না হওয়ায় ওই চারজন ওড়না দিয়ে তার হাত বেঁধে ফেলে। তারপর গায়ে কিছু একটা ছুড়ে মারে। তারপর বলে, ‘যা এবার পালা।’ গায়ে আগুন লাগা অবস্থাতেই সে দৌড়ে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে।
তারা কেউ কারও নাম উচ্চারণ না করলেও কোনো একপর্যায়ে একজন শম্পা বলে একজনকে ডাকে। সে যে কণ্ঠ শুনেছে সেটি নারী কণ্ঠ। তবে মুখ ঢাকা থাকায় কাউকে সে চিনতে পারেনি। ওড়না ছাই হয়ে যাওয়ার পর তার হাতের বাঁধন খুলে যায়। এদিকে ওই শিক্ষার্থীর ভাই, বাবা ও মা সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন।
এদিকে ওই ঘটনায় গ্রেফতার ১০ জনের মধ্যে ৭ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হল- মাদ্রাসার দারোয়ান মো. মোস্তফা, অধ্যক্ষের ফুফা শ্বশুর ও ব্যক্তিগত সহকারী নুরুল আমিন, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক আবছার উদ্দিন, সহপাঠী আরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, আলাউদ্দিন ও জসিম উদ্দিন।
পরীক্ষা কেন্দ্রে মাদ্রাসাছাত্রী অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় ফেনী জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) পিকেএম এনামুল করিমকে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন- ফেনী জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কাজী সলিম উল্যাহ ও সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল পারভেজ। তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক।
[ছবি : পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অগ্নিদগ্ধ মাদ্রাসা ছাত্রী]

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি