কার্ডিফ কাউন্সিল নির্বাচন ৪ মে: আবারো লড়ছেন আলী আহমদ

প্রকাশিত: ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

কবীর আহমদ সোহেল: বৃটেনের সিটি অফ কার্ডিফ এন্ড কাউন্টি কাউন্সিল এর নির্বাচন আগামী ৪ মে। এটা স্থানীয় নির্বাচন। অনেকটা বাংলাদেশের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মত। বৃটেনের ৪টি রাজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ওয়েলস। এই ওযেলস্ এর রাজধানী কার্ডিফ। সঙ্গত কারণে কার্ডিফ সিটির নির্বাচন বৃটেনের রাজনীতিতে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর আগামী জুনে বৃটেন পার্লামেন্টের নির্বাচন। কার্ডিফ কাউন্সলের নির্বাচন পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে এমনটাই মনে করছেন বৃটেনের রাজীনিতিকরা। কাজেই রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচনকে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ‘ওয়ার্ম আপ’ হিসেবে দেখছেন। জোরেশোরে চালাচ্ছেন প্রচারণা। নিজ ধরনের মেনিফেস্টো উপস্থাপন করছেন। নাগরিক সুবিধা প্রদানে দলের অঙ্গিকার তুলে ধরছেন ভোটারদের কাছে।
কার্ডিফ কাউন্সিলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথেইস এন্ড সিটি সেন্টার আসনে (ওয়ার্ডে) প্রার্থী হয়েছেন সিলেটের কৃতি সন্তান আলী আহমদ। সিটি অফ কার্ডিফ এন্ড কাউন্টি কাউন্সিল এর সাবেক ডেপুটি লর্ড মেয়র আলী আহমদ বর্তমানে কার্ডিফ এন্ড বেটাউন আসনের কাউন্সিলর। আসন পরিবর্তন করে আবারো তাকে প্রার্থী করেছে লেবার পার্টি। ক্যাথেইস এন্ড সিটি সেন্টার আসনে জয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করে বাংলাদেশী বংশদ্ভেূাত এই লেবার কাউন্সিলর প্রভাতবেলাকে বলেন, এই আসনে মাত্র ৪০ বাংলাদেশী এবং ২০টি মুসলিম পরিবার রয়েছে। অধিবাসিদের ৭০ ভাগ ছাত্র।
কাউন্সিলর আলী আহমদ বলেন, কার্ডিফ ইউনিভার্সিটি, সিটি হল এন্ড সিটি সেন্টার, জাতীয় যাদুঘর, হাইকোর্ট, কার্ডিফ ক্যাসল্, ওয়েলস্ জাতীয় স্টেডিয়াম, পুলিশ হেড কোয়ার্টার এবং প্রধান রেল স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এই আসনে। ভোটাররা এই সব বিবেচনায় আমাকে ভোট দেবেন আশা করি।
১৬ হাজার ভোটার অধ্যুষিত এই আসনে আলী আহমদের সাথে প্রতিদ্বন্দিতা করছেন ১৮ জন প্রার্থী। এই ওয়ার্ডে আলী আহমদই একমাত্র বাঙালী এবং মুসলমান প্রার্থী।
কার্ডিফ কাউন্সিলের নির্বাচনে আছে কিছু বৈচিত্রতা। প্রতিটা ওয়ার্ডে রয়েছে একাধিক আসন। ভোটারের রয়েছে একাধিক ভোট। ক্যাথেইস এন্ড সিটি সেন্টার ওয়ার্ডে ৪ টি আসন। এই ওয়ার্ডের ভোটাররা ৪জন কাউন্সিলর নির্বাচন করবেন।
আলী আহমদ ২০১২ সালে কার্ডিফ কাউন্সিলের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে তিনি ডেপুটি লর্ড মেয়র নির্বাচিত হন। তিনি ছিলেন সিটি অফ কার্ডিফ এন্ড কাউন্টি কাউন্সিলের প্রথম বাংলাদেশী এবং প্রথম মুসলিম ডেপুটি লর্ড মেয়র। আলী আহমদ তাঁর নির্বাচনী এলাকার নাগরিকদের সেবা উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি বাংলাদেশ তথা সিলেটের সাথে কার্ডিফ কাউন্সিলের সেতুবন্ধন স্থাপনে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেন। কার্ডিফ সিলেট স্কুল পার্টনারশীপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে সিলেট কার্ডিফের ৩২টি স্কুল পারস্পরিক বাংলাদেশ বৃটেন সফর করে। এই প্রোগ্রামের অধীনে সিলেটের আরো প্রায় ২০টি স্কুল তাদের পার্টনারশীপ প্রোগ্রাম চালাচ্ছে। সিলেটের দক্ষিণ সুরমার চান্দাই ‘ছাহেববাড়ীর’ এই গর্বিত সন্তান আলী আহমদ। তার পিতা মরহম আলাউদ্দিন আহমদ কার্ডিফের খ্যাতিমান একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর দাদা মরহুম হযরত মাওলানা জহির উদ্দিন আহমদ (চান্দাইরছাহেব) একজন কামিল পীর ছিলেন।
আগামী ৪ মে অনুষ্ঠিতব্য সিটি অপ কার্ডিফ এন্ড কাউন্টি কাউন্সিল নির্বাচনে ৭৫ আসনের বিপরীতে লড়ছেন ৩শ ৩১ প্রার্থী। বৃটেনের প্রধান রাজনৈতিক দল ছাড়াও স্বতন্ত্রভাবে অংশ নিচ্ছেন কয়েকজন প্রার্থী।
নির্বাচনে লেবার পার্টির ৭৫ জন, লিবারেল ডেমোক্রেটস ৭৫ জন, কনজারভেটিভ ৭৪, প্লেড কিমরু ৫৯, গ্রীণ পার্টি ১৪, ইউকেআইপি ১২ এবং স্বতন্ত্রভাবে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।
আলী আহমদ ছাড়াও আরো কয়েকজন বাংলাদেশী বংশদ্ভুত বৃটিশ প্রার্থী লড়ছেন এই নির্বাচনে। তাদের মধ্যে লেন্ডলফ নর্থ আসনে দিলোয়ার আলী, রেডির এন্ড মরগানসটাউন আসনে রফিক ইসলাম, পেনটুইন আসনে সামছুন্নাহার আলী রয়েছেন। এরা সবাই লেবার প্রার্থী।
কার্ডিফে বাংলাদেশীদের সংখ্যা খুবই স্বল্প। তারপরও কাউন্সিল নির্বাচনে বাঙালী প্রার্থীদের নিয়ে উৎসাহ উদ্দীপনা কমতি নেই। অন্যান্য প্রার্থীদেও অবস্থা তেমন শক্ত না হলেও আলী আহমদেও অবস্থান মজবুত বলে জানাচ্ছেন কার্ডিফে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা। তারা বলছেন সবার দৃষ্টি এখন আলীর দিকে। কেননা লেবার পার্টিতেও তার অবস্থান ভাল। তিনি ওয়েলস লেবার পার্টির এক্সিকিউটিভ মেম্বার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ