কেয়ারটেকার ব্যবস্থায় নির্বাচন হলেই কেবল আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো|| জামায়াত

প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৩

কেয়ারটেকার ব্যবস্থায় নির্বাচন হলেই কেবল আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো|| জামায়াত

আজ শনিবার বিকেলে সিলেট রেজিস্টারী মাঠে আমাদের সমাবেশ করার ঘোষণা অনেক আগে দেয়া হয়েছিল। গতকাল রাতে পুলিশ অনুমতি না দেয়ার কথা জানায়। এ বিষয় নিয়ে আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন আহবান করা হয়। পুলিশি বাঁধার কারণে নির্ধারিত স্থানে সংবাদ সম্মেলন করাও সম্ভব হয়নি। নির্বাচনের ৪ মাস আগে যে সরকার সভা সমাবেশ করতে দেয়না তার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কেমনে সম্ভব? ইইউ প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক শেষে গণমাধ্যমে বক্তব্যকালে উপরোক্ত কথা বলেন জামায়াতের নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

 

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন চাই না। কেয়ারটেকার ব্যবস্থায় নির্বাচন হলেই কেবল আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এ সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। কেয়ারটেকার সরকার অথবা নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে। দলীয় সরকারের অধীনে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন চায় না।’
জামায়াতে ইসলামীর আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক কেমন, জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো দলের সঙ্গে নেই। আমরা সরকার পতনের আন্দোলনে আছি। আর বিএনপি বিএনপির মতো আছে।’
 
আরও পড়ুন: আওয়ামীলীগের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেবে না বিএনপি

জামায়াতের এ নায়েবে আমীর বলেন, আলোচনা সভায় বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন ও কেয়ারটেকার নির্বাচন নিয়ে কথা হয়েছে। জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম উত্থাপিত কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিন্তু আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলই ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতার অপব্যবহার করে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার নীল নকশা হিসেবে কেয়ারটেকার ব্যবস্থা বাতিল করেছে। সেটিই আমরা যৌক্তিকভাবে তুলে ধরেছি। আমরা বলেছি, কেনো কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন দরকার।

তাহের বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন ছিল তা বাংলাদেশের মানুষ জানে। তারা ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের দিনই ১৫৪ জনকে নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। নির্বাচনের আগেই যদি নির্বাচিত ঘোষণা আসে সেটিকে নির্বাচন বলা যায় না। আগের দিন রাতেই নির্বাচন হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার আমাদের জনসভা করতে দিচ্ছে না, অফিস খুলতে দিচ্ছে না। এখনই যদি এমন হয় তাহলে নির্বাচনের দিন কীভাবে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে? সেটা সম্ভব নয়। তাই এ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচন মানি না।’

সংলাপের বিষয় এলে জামায়াত বসবে কি না- জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, অতীতে কোনো সংলাপ পজিটিভ ফলাফল আনেনি। তাই সংলাপে এসে লাভ হবে না। কেয়ারটেকারের অধীনে নির্বাচন কিংবা নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিষয়ে সংলাপ হলে আমরা বসতে পারি।
 
আরও পড়ুন:

ইইউ প্রতিনিধিদল তাদের নিবন্ধন বিষয়ে কোনো আলোচনা করেছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্ধেকের বেশি দলের নিবন্ধন নেই। আমরা নিবন্ধিত দল। আমরা ৫টি নির্বাচনে নিবন্ধিত দল হিসেবে অংশ নিয়েছি। ২০১০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে। আমরা সে বিষয়ে রিট করি। আশা করি নির্বাচনের আগেই আপিল বিভাগে যদি সুষ্ঠু বিচার হয় তাহলে আমরা আবার নিবন্ধন ফিরে পাবো।

এসময় তিনি আগামী ২২ তারিখ চট্টগ্রামে জামায়াতের জনসভার কথা জানিয়ে বলেন, আমরা চট্টগ্রামে জনসভার অনুমতি চেয়েছি। আশা করি সে অনুমোদন আমরা পাবো।

বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আব্দুর রব এবং জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের জ্যেষ্ঠ সচিব চেরি মিরিলিন ডিও’র চিঠির জবাবে সাড়া দিয়ে শনিবার দুপুর আড়াইটায় বৈঠকে বসেন তারা। এর আগে সকালে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি এবং দুপুরে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছে ইইউ প্রতিনিধিদল। গত ৮ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ সফর চলবে ২৩ জুলাই পর্যন্ত।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ