ছাত্রীকে ধর্ষণ, মাদ্রাসা সুপারের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ৫:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৫, ২০২০

ছাত্রীকে ধর্ষণ, মাদ্রাসা সুপারের যাবজ্জীবন

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের দায়ে বাগেরহাটে মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ সময় তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২-এর বিচারক জেলা ও দায়রা জজ মো. নূরে আলম আসামির উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলায় বাদীপক্ষে ১৫ জন এবং আসামিপক্ষে দুজন মিলিয়ে মোট ১৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন বিচারক।

ধর্ষক ইলিয়াস জোমাদ্দার এ মামলায় একাই আসামি। তিনি শরণখোলা উপজেলার উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ি মাদ্রাসার সুপার এবং উপজেলার পূর্ব রাজাপুর গ্রামের আবদুল গফফার জোমাদ্দারের ছেলে।

 

আরও পড়ুন: মিন্নির আপিল গ্রহণ, অর্থদণ্ডাদেশ স্থগিত

 

মামলার বরাত দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বাগেরহাট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) রণজিৎ কুমার মণ্ডল বলেন, ২০১৯ সালের ৮ আগস্ট সকাল ৭টার দিকে আরবি শিক্ষা নিতে গেলে ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসার লাইব্রেরিতে নিয়ে ধর্ষণ করেন সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দার। এতে মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস ওই ছাত্রীকে জিনে ধরার কথা বলে পানি পড়া দেন। এর পর মেয়েটির বাবা-মা স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করান। একপর্যায়ে মেয়েটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে।

আরও পড়ুন  ২য় বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু; উদ্বোধনী ম্যাচ টাই!

ঘটনার ১১ দিন পর ১৯ আগস্ট মেয়েটির বাবা শরণখোলা থানায় মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দারের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেন। এ মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) তদন্ত করে।

 

আরও পড়ুন: নারায়ণগঞ্জে প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার

 

পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক (এসআই) আবু সাইয়েদ পালিয়ে বেড়ানো মাদ্রাসা সুপার ইলিয়াস জোমাদ্দারকে ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ওই বছরের ১৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার করেন।এর পর সুপার ইলিয়াস ধর্ষণের কথা স্বীকার করে তিন দিন পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইয়েদ তদন্ত শেষে ধর্ষণের সত্যতা পেয়ে ১৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন। এর পর আদালতের বিচারক মামলাটিকে আমলে নিয়ে ২০২০ সালের ৯ মার্চ চার্জ গঠন করে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে আদালতের বিচারক চিকিৎসক, পুলিশ, বাদী ও বিবাদী মিলিয়ে মোট ১৭ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। গত রবিবার এ মামলার বাদী বিবাদী পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ