জগন্নাথপুরের সেই নবজাতক এখন সিলেটের ছোটমনি নিবাসে

প্রকাশিত: ১২:৫১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৯, ২০২০

জগন্নাথপুরের সেই নবজাতক এখন সিলেটের ছোটমনি নিবাসে

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নবজাতক মেয়েকে রেখে মা পালিয়ে যাওয়া সেই শিশুকে ‘ছোটমনি নিবাস’ সিলেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় জগন্নাথপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জগন্নাথপুর সমাজ সেবা কর্মকর্তা বিলাল হোসেন কাছে শিশুটি হস্তান্তর করেন। পরে তিনি শিশুটিকে ‘ছোটমনি নিবাস’ সিলেটে প্রেরণ করেন।

এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৪ টায় ওই নবজাতকের জন্ম হয়। জন্মের পর নবজাতককে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যান মা।

জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে সাদিয়া বেগম (১৬) নামের এক কিশোরীকে তার মা উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে এসে কিশোরীর মা জানান, ২-৩ দিন যাবত তাহার মেয়ের পায়খানা না হওয়ায় পেট ফুলে গিয়েছে। পরে কর্মরত চিকিৎসক ওই কিশোরীকে ভর্তি করেন।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর কর্মরত নার্স দেখতে পায় মেয়েটি গর্ভবতী এবং সন্তান ভূমিষ্ঠ হতে যাচ্ছে। এই খবর শুনার পর কিশোরীর মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কিছুক্ষণ পরে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সন্তানটিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন  স্বর্ণ চোরাচালান দ্বন্দ্বেই কি এমপি আজিম খুন?

এক পর্যায়ে নবজাতক শিশুটির মা ও নানি সন্ধ্যার পর শিশুটিকে হাসপাতালের সিঁড়ির উপর রেখে পালিয়ে যায়। পরে রাশিয়া বেগম (৫০) নামের এক মহিলা নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালের সিঁড়ির উপর দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান।

পালিয়ে যাওয়া নারী উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের বালিকান্দি গ্রামের ফারুক মিয়ার পরিচয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কিন্তু তাদের দেওয়া তথ্য মতে খোঁজ নিয়ে কোন সন্ধান মিলেনি।

 

আরও পড়ুন:  জগন্নাথপুরে হাসপাতালে নবজাতককে  রেখে উধাও কিশোরী মা

 

রাশিয়া বেগম বলেন, এশার আযানের সময় আমি শিশুটিকে সিঁড়ির উপর দেখতে পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন আমি শিশুটিকে যত্ন করছি। রাশিয়া বেগম ৪ দিন আগে তাহার নাতিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. শারমিন আরা আশা জানান, শনিবার বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে নরমাল ডেলিভারি হয়। শিশুটি ভর্তি রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছিলো।

আরও পড়ুন  মসজিদে বিস্ফোরণ: মৃত্যু বেড়ে ২৬

জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশুটির বাবা মায়ের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছি। এখনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জগন্নাথপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মধু সুদন ধর বলেন, আমরা শিশুটিকে জগন্নাথপুর সমাজ সেবা অফিসে হস্তান্তর করেছি।

জগন্নাথপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা বিলাল হোসেন বলেন, আজ সকালে আমাদের কাছে শিশুটি হস্তান্তর করেন। আমরা সিলেটের বাগবাড়িস্থ ‘ছোটমনি নিবাস’ এ হস্তান্তর করেছি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ