জিম্বাবুয়েকে পাহাড়সম টার্গেট দিল বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৫:২৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ৩, ২০২০

জিম্বাবুয়েকে পাহাড়সম টার্গেট দিল বাংলাদেশ

 

মাঠে ময়দানে প্রতিবেদক:

খোলস ছেড়ে বেরিয়ে রুদ্রমূর্তির রুপ ধারণ করলেন তামিম ইকবাল। কার্যকর ইনিংস খেললেন মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ। শেষদিকে ঝড় তুললেন মোহাম্মদ মিঠুন। তাতেই টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিনশ’ ছাড়ানো ইনিংস গড়লো বাংলাদেশ।

 

সিলেটে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ করেছে ৮ উইকেটে ৩২২ রান। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঠিক আগের ম্যাচে করা ৩২১ রান টপকে তাঁদের বিপক্ষে এটাই নতুন সর্বোচ্চ রানের ইনিংস।

 

প্রথম ম্যাচের মতো আজও বাংলাদেশের ব্যাটিং হয়েছে দুর্দান্ত। এ দিন সব আলো যেন কেড়ে নিলেন তামিম ইকবাল। গেল কিছুদিন ধরে এই বাঁহাতির মন্থর ব্যাটিং নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছিল। সব ছাপিয়ে তামিম খেললেন রেকর্ডগড়া এক ইনিংস। ১৩৬ বলে করলেন ১৫৮! ইনিংসে ছিল ২০টি চার, ৩টি ছয়। স্ট্রাইক রেট ১১৬.১৭! অথচ তাঁর এর আগের ১২ ইনিংসে স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৬৭.৬৯!

 

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তো বটেই, যেকোনো দলের বিপক্ষে এটাই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ওয়ানডে ইনিংস। এর আগে ২০০৯ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তামিমেরই করা ১৫৪ রান ছিল সর্বোচ্চ।

 

আজকের ইনিংসের ৮৪ রান নেওয়ার পথে তামিম বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ৭ হাজার রানের মাইলফলকে পৌঁছেন।

আরও পড়ুন  আরেকবার সুযোগ দিন: প্রধানমন্ত্রী

 

আজ শুরুতেই দুর্ভাগ্যজনক রানআউটে ফিরে যান আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান লিটন দাস। ইনিংসের সপ্তম ওভারে কার্ল মুম্বার ৩য় বলে ড্রাইভ করেছিলেন তামিম। সেটি হাত দিয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন মুম্বা। কিন্তু ঠিকমতো তাঁর হাতে জমেনি বল। তাঁর হাতে লেগে বল ভেঙে দেয় নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তের স্টাম্প। খানিকটা বাইরে থাকা লিটন (৯ রান) হন রানআউট।

 

লিটনের পর নাজমুল হোসেন শান্তও রানআউট হয়ে ফিরেন। ইনিংসের একাদশতম ওভারে ওয়েসলি মাধেভেরের দ্বিতীয় বলে শর্ট ফাইন লেগে ঠেলে দেন শান্ত। রান নেওয়ার ইচ্ছা ছিল না তাঁর। কিন্তু ছুটে আসেন তামিম। খানিক বাইরে থাকা শান্ত (৬) ওপ্রান্তে গিয়ে পৌঁছানোর আগেই বল ধরে উইকেট ভাঙেন মাধেভেরে।

 

৬৫ রানে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ তৃতীয় উইকেট হারায় ১৫২ রানে। ফিরে যান মুশফিকুর রহিম। ওয়েসলি মাধেভেরের বলে সীমানায় মুতুমবডজির হাতে ধরা পড়ার আগে দারুণ ইনিংস খেলে যান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

 

করেন ৫০ বলে ৬টি চারে ৫৫ রান। মুশফিকের বিদায়ে তামিমের সাথে তাঁর ৯২ বলে ৮৭ রানের জুটি ভাঙে।

 

তামিমের সাথে যোগ দিয়ে মাহমুদউল্লাহ ইনিংস বড় করছিলেন। তবে দলীয় ২৫৮ রানে বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ, অভিষিক্ত চার্লটন টিশুমার বলে ডিপ স্কয়ার লেগে মাধেভেরের দারুণ এক ক্যাচ হয়ে। ফেরার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫৭ বলে ৪১ রান। তামিমের সাথে ১০২ বলে ১০৬ রানের জুটি ভাঙে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে।

আরও পড়ুন  আজ থেকে ট্যাংকলরি ধর্মঘট

 

তামিম ইকবাল বিদায় নেন ইনিংসের ৪৬ ওভারের চতুর্থ বলে। কার্ল মুম্বার বলে লং-অফে মুতুমবডজির হাতে ধরা পড়ে শেষ হয় তাঁর দুর্দান্ত ইনিংসের।

 

মেহেদী হাসান মিরাজ (৫) ফিরে যান মুম্বার বলে বোল্ড হয়ে। সীমানায় তিরিপানোর বলে ক্যাচ দেন মাশরাফি (১)। তিরিপানো ফেরান তাইজুলকেও (০)। তবে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর ক্রিজে আসা মোহাম্মদ মিঠুন খেলেন ঝড়ো ইনিংস। তাঁর ১৮ বলে অপরাজিত ৩২ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার আর একটি ছয়। শফিউল অপরাজিত থাকেন ৫ রানে।

 

বাংলাদেশ করে ৮ উইকেটে ৩২২। জিম্বাবুয়ের কার্ল মুম্বা ১০ ওভারে ৬৪ রানে ২টি, ডোনাল্ড তিরিপানো ৮ ওভারে ৫৫ রানে ২টি, মাধেভেরে ৭ ওভারে ৩৮ রানে ১টি ও চার্লটন টিশুমা ৫ ওভারে ৩৫ রানে ১টি উইকেট নেন।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ