জুড়ীতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, জুন ২৯, ২০২০

জুড়ীতে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের মানবেতর জীবন যাপন

 

এম রাজু আহমেদ :

 

বিশ্বব্যাপি বিদ্যমান করোনাভাইরাস ( কোভিড-১৯) মহামারির কারণে মৌলভীবাজার জেলা জুড়ী উপজেলার ৩৪ টি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান কিন্ডারগার্টেনে কর্মরত তিন শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

 

বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জানান, এ উপজেলায় ৩৩ টি কেজি স্কুল সমিতির সদস্য। বাকি একটি জুড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ( ইংলিশ ভার্সন) সহ মোট ৩৪ টি কেজি স্কুল রয়েছে। যার মধ্যে ৩৩০ শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘদিন থেকে পাঠদান করে আসছেন। পাশাপাশি তাঁদের সকলের পরিবার নিয়ে মোটামুটি দু’বেলা দু’মুটো ভাত জুটতো। একমাত্র আয়ের পথ ছিল তাঁদের শিক্ষকতা করে মাস শেষে যে টাকা হাতে পেতেন সেটা দিয়ে কোন রকম তাদের সংসার চলতো। গত মার্চ মাস থেকে জুন মাস পর্যন্ত চার মাস অতিবাহিত হতে চলেছে। স্কুল বন্ধ থাকায় প্রায় ৫হাজার ছাত্র/ ছাত্রীদের এক দিকে লেখাপড়া নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে বেতন না থাকায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

আরও পড়ুন  সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি : রনজিত, আযাদ সসম্মানে

 

সরকার করোনাকালিন সময়ে অনেক সরকারী বেসরকারী সংস্থা ও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্টানকে বিশেষ প্রণোদনা দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু আমাদের কি উপায় হবে। আমাদের দুঃখ-দুর্দশা দেখার মতো কেউ নাই। কার কাছ গিয়ে আমরা ধরনা দিবো। এই জায়গাটা ও খুঁজে পাচ্ছি না। এক পর্যায়ে তিনি সংবাদ মাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, কবে জানি বিদ্যমান পরিস্হিতি স্বাভাবিক হবে একমাত্র আল্লাহ জানেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে বাঁচান। আমরা বেসরকারী শিক্ষক হলেও সরকারী অনেক শিক্ষা প্রতিষ্টানের চেয়ে ভালো মানের ফলাফল সৃষ্টি করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

 

উপজেলার একমাত্র ইংলিশ ভার্সন জুড়ী ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এর প্রতিষ্টাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে ছাত্র/ছাত্রীদের পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার মান বিনষ্ট হচ্ছে। অন্য দিকে স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের বেতন সমস্যা বড় জটিল। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টানের কোন তহবিল না থাকায় শিক্ষকদের বেতন প্রদান করা সম্ভব হচ্ছেনা। স্কুল বন্ধ থাকায় বেতনের জন্য অভিভাবকদেরকে বলাও বিদ্যমান পরিস্হিতিতে অসম্ভব। তাই বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর অস্তিত্ব ঠিকে রাখতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

আরও পড়ুন  অনির্বাণকে শোচনীয়ভাবে হারালো জিমখানা!

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ