দিরাইয়ে আ.লীগ-যুবলীগের বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩

প্রকাশিত: 5:35 PM, January 17, 2017

আবু হানিফ চৌধুরী, দিরাই (সুনামগঞ্জ) : সুনামগঞ্জের দিরাইয় উপজেলায় জলমহাল দখলকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৩ জন নিহত হয়েছেন। ১৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়নের ঘোরামারা সাতপাকিয়া প্রকাশিত জারুলিয়া জলমহালের দখল নিয়ে উপজেলা যুবলীগ নেতা একরার বাহিনীর লোকজন ও ইজারাদার পক্ষের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়া ও এয়াহিয়া চৌধুরীর লোকজনের চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। একময় উভয়পক্ষ বন্ধুক নিয়ে মুখোমুখি হয় এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে হাতিয়া গ্রামের ছান উল্যার ছেলে তাজুল ইসলাম (৩৫) ঘটনাস্থলে, আকিল নগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে শাহরুল (২৮) ও আমান উল্লার ছেলে উজ্জল (২৫) আহত অবস্থায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে তাদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হাতিয়া গ্রামের মিরাস মিয়ার ছেলে আল আমিন(২৪), সুনাফর(২৭) এবং উত্তর সুরিয়ারপার গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে মালেক মিয়াকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে। আহত বাকীদেরকে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  দুধের ধারায় মানুষ ও কুকুরের একসাথে ক্ষুধা নিবারণ

স্থানীয়রা জানান,  যুবলীগ নেতা একরার বাহিনীর লোকজন একরারের নেতৃত্বে জারুলিয়া জলমহাল দখল করতে গেলে ইজারাদার দক্ষিণ নাগেরঁগাও মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাসের পক্ষের আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়া ও এয়াহিয়া চৌধুরীরর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে এলোপাতাড়ি গুলিতে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তাজুল ইসলাম নিহত হন। নিহত তাজুল ইসলামের লাশ দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্যে সুনামগঞ্জে প্রেরণ করে।

দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল জলিল সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার ১১টার দিকে একারার ৩০/৩২ জন লোক নিয়ে  জলমহালে  দখল করতে গেলে  ইজারাদার ধনঞ্জয়ের লোকজনের সাথে সংঘর্ষ হয়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

ইজারাদার ধনঞ্জয় দাসের পক্ষের ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতা মাসুক মিয়া জানান, ‘সরকারকে যথাযথ খাজনা প্রদান করে  দখলপ্রাপ্ত হয়ে আমরা জলমহাল ভোগ খল করে আসছি, আজ (মঙ্গলবার) ১১টার দিকে একরার ও তার বাহিনীর ৩০/৩২ লোক অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের খলাঘরে মৎস্যজীবীদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এ সময় ভয়ে খলাঘর থেকে দিকবিদিক পালাতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিছুদিন আগেও একরার ও তার বাহিনীর লোকজন অবৈধ বন্দুক, পাইপগান নিয়ে অতর্কিতভাবে আমাদের জলমহালে প্রবেশ করে মাছ লুট করে এবং খলাঘর দখল নিতে গুলি চালিয়েছিল। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক বরাবরে সমিতির সাধারণ সম্পাদক ধনঞ্জয় দাস লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।

আরও পড়ুন  জুড়ীতে ভূতুড়ে বিলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

একারার হোসেন দাবি করছেন, ইজারাদারদের কাছ থেকে তিনি ৬ বছরের জন্য সাব-লিজ নিয়ে জলমহাল দখলে আছেন, ঘটনার দিন প্রতিপক্ষের লোকজন আমার লোকজনের উপর হামলা চালিয়ে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এতে ৩ জন নিহত হন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ