নৌকা দেশের স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ৫:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: নৌকায় ভোট চাইলেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সিলেট নগরীর আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নৌকা দেশের স্বাধীনতা, সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রতীক। নৌকায় ভোট দিলে দেশ উন্নয়নের পথে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

নগরীর চৌহাট্টা এলাকার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত এ জনসভা শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী জনসভাস্থলে পৌঁছেন বেলা ৩টার দিকে। এ জনসভার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলো জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জয়লাভ করে চার বছর পূর্ণ করে পাঁচ বছরে পদার্পণ করেছি। এ বছরের শেষের দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে নির্বাচন সামনে রেখে আমরা পুণ্যভূমি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছি। বিগত নির্বাচনে সবাই নৌকায় ভোট দিয়েছিলেন। এ কারণেই বাংলার সর্বত্র আজ উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে।

জনসভায় আগতদের কাছ থেকে আগামীতেও নৌকায় ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতি চান প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত জনতা এ সময় হাত উঁচিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন  করোনা আপডেট ১৫ জুন: এক দিনে শনাক্ত ৩০৯৯, মৃত্যু ৩৮

৩৯ মিনিটের বক্তৃতার বড় অংশজুড়েই বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। বিএনপি-জামায়াতের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন তিনি।

বিএনপি ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। বিএনপি এলে শুরু হয় হাহাকার। আমরা গাছ লাগাই, বিএনপি-জামায়াত জোট গাছ কাটে, রাস্তা বানালে রাস্তা কাটে। বিএনপি উন্নয়নে নয়, ধ্বংসের রাজনীতি করে, আর আওয়ামী লীগ ভাগ্যোন্নয়নের রাজনীতি করে। বিএনপি ধ্বংস করতে জানে, সৃষ্টি করতে জানে না। মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করতে জানে। বিএনপি পেট্রলবোমায় মানুষ মেরেছে। তাদের আগুন, পেট্রলবোমায় বহু মানুষ জীবন দিয়েছে। তারা প্রায় ৫০০ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছে। প্রায় তিন হাজার মানুষ তাদের আগুন-সন্ত্রাসের শিকার হয়ে এখন ধুঁকছে।

সিলেটে আগমনের কারণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সিলেট এসেছি আপনাদের উপকার করতে। আজ (মঙ্গলবার) অনেক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছি। সামনে আরো কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হবে, সেগুলোর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেন। সেই সঙ্গে সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন হবে বলেও জানান তিনি।

আরও পড়ুন  শবে বরাতের রাতে টুকেরবাজারে যুবক খুন

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুত্ফুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদের যৌথ পরিচালনায় জনসভায় আরো বক্তব্য রাখেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমান, আহমদ হোসেন ও মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

এর আগে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিলেটে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী। সিলেট পৌঁছেই হজরত শাহজালাল (রহ.), হজরত শাহপরান (রহ.) ও সিলেটের প্রথম মুসলমান গাজী বুরহান উদ্দিনের (রহ.) মাজার জিয়ারত করেন তিনি।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ