বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা, আজ কুইন্স হলে প্রতিবাদ, আতংকে বাংলাদেশীরা

প্রকাশিত: 10:41 AM, June 4, 2020

বিক্ষোভে উত্তাল আমেরিকা, আজ কুইন্স হলে প্রতিবাদ, আতংকে বাংলাদেশীরা

এমদাদ চৌধুরী দীপু,নিউইয়র্ক: এনওয়াইপিডি (নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্ট)প্রধান ট্যারান্সি মোনাহন নিউইয়র্ক গভর্নর এ্যান্ড্রো কোমোর সমালোচনা করে তাকে এনওয়াইপিডির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহবান জানিয়েছেন। এনওয়াইপিডির প্রধানের বক্তব্যের জবাব দেননি গভর্নর কোমো। বিশ্বের রাজধানীখ্যাত নিউইয়র্কে কার্ফ্যুর মধ্যে সমাবেশ বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল,ব্যাপক সমালোচনার মুখে সেনাবাহিনী আবার ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে। ৪০টি অঙ্গরাজ্য অশান্ত হয়ে রয়েছে,অর্ধ্যশতাধিক ছোট বড় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ চলছে।গত ৩দিনে নিউইয়র্কে গ্রেফতার প্রায় একহাজার।
সোমবার(১জুন) রাতে কার্ফ্যুর মধ্যে গণলুটপাট হয়েছে,লুটপাট হয়েছে বিশ্বের শীর্ষ একক প্রতিষ্টান ম্যাসিতে। ,বৃহৎপরিসরের প্রতিষ্টান মিংডেলসহ অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্টানে হামলা লুটপাট হয়েছে।

মঙ্গলবার(২জুন) নওয়াইপিডি  আরো ৩শ ব্যাক্তিকে আটক করেছে। তবে সোমবার পুলিশের ভুমিকা ছিল রহস্যজনক। নিউইয়র্ক মেয়র পুলিশকে যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারেননি বলে মনে করেন নিউইয়র্ক গভর্নর এ্যান্ড্রো কোমো। এসময় গভর্নর ্এনওয়াইপিডির কড়া সমালোচনা করেন।

সোমবার রাতে টাইম স্কয়ার,ইউনিয়ন স্কয়ার,ইস্টভিলেজ,আপার ইস্ট সাইড,কুইন্স,ব্রকলীন,ব্রংকসএ ব্যাপক লুটপাট হয়েছে। ৩৮ হাজার এনওয়াইপিডি সদস্য থাকা স্বত্তেও দূস্কৃতিকারীদের মোকাবেলা করতে না পারায় এনওয়াপিডির সমালোচনা করে গভর্নর প্রয়োজনে ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের মোতায়েন করার দাবী জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন  নন্দিত নায়কের প্রত্যাবর্তন

এদিকে এনওয়াপিডির সূত্রে জানা গেছে সোমবার লুটপাট এবং বিশৃংখলা  সৃস্টির জন্য ৭০০জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভ হয়েছে বিচ্ছিন্ন লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে। ম্যানহাটন ব্রীজে সমাবেশ হয়েছে,এসময় মেয়র ব্যজিও কাছাকাছি একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন। এসব লুটপাটে ব্রংকস,ব্রকলীনের বিভিন্ন গ্রপের জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বুধবার রাত ৮টা থেকে তৃতীয় দিনের মত কারফিউ চলছে। এই কার্ফ্যু ভোর চারটা পর্যন্ত চলবে।
এদিকে যুক্তরাস্ট্রের সামগ্রিক অবস্থায় হতাশা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক নেতারা তারা বলেছেন এটি যুক্তরাস্ট্রের নের্তত্বশূন্যতাকে প্রমান করছে,এতে বিশ্বে যুক্তরাস্ট্রে ইমেজ মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হচ্ছে। ট্রাম্পের বর্তমান এবং সাবেক ডিফেন্স সেক্রেটারী কড়া সমালোচনা করেছেন।ট্রাম্প জাতিকে বিভক্ত করছেন এবং ঐক্যবদ্ধ    করার কোন চেস্টা করছেননা বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
নিউইয়র্ক এর কুইন্সে  বুধবার(৩ জুন) কুইনব্রীজ পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে,আজ বৃহস্পতিবার(৪জুন) কুইন্স হলে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করা হবে।
বর্ণবাদ ইস্যুতে উত্তাল যুক্তরাস্ট্রের ১৭টি শহর,১২টি শহর অগ্নিগর্ভ হয়েছে। ৭৭টি ছোট-বড় শহরে বিক্ষোভ পালন করছে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার সাদা-কালো মানুষ । বিভিন্ন রাজ্যে বিক্ষোভ দমনে চার হাজার ৫শ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

আরও পড়ুন  গুডবাই ইন্ডিয়া, ফাইনালে নিউজিল্যান্ড

এই আন্দোলনে বাংলাদেশী কেউ হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশী মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্টান হামলা এবং লুটপাট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

পেনসেলভেনিয়ার ফেলাডেলফিয়া,এবং মেনিসোটায় বাংলাদেশীরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। গভর্নরদের সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পে এর বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন নিউইয়র্ক এর গভর্নর এ্যান্ডো কোমো। তিনি সেনা মোতায়েনের নিন্দা জানিয়েছেন। এদিকে সিএনএন বার্তা সংস্থায় ট্রাম্পের সমালোচনা করে টেক্সাস পুলিশ প্রধানের প্রতিক্রিয়া নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে নিউইয়র্ক সিটিতে আন্দোলন বিষয়ে মেয়র ডি ব্যজিওর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্রেট দলীয় মেয়র আন্দোলনের অনুমতি দেয়ায় রহস্যের সৃস্টি হয়েছে। মেয়র করোনার কারনে ধর্মীয় আনুষ্টানিকতায় আইনের কঠোর প্রয়োগ করেছেন কিন্তু আন্দোলন ইস্যুতে পুলিশ-জনতাকে মুখোমুখী করেছেন। মেয়র তার সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে  বক্তব্য তুলে ধরছেন। এদিকে মেয়রের মেয়ে আন্দোলনের সময় আটক হওয়ার ব্যাপারে মেয়র কিছু জানেননা বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ