বৃটেনে জমিয়তের পাল্টাপাল্টি কমিটি: বিব্রত ওলামায়ে কেরাম

প্রকাশিত: ৫:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৬, ২০১৭

ইকবাল হাসান জাহিদ:   “আকাবির ও আসলাফের সংগঠন” হিশেবে পরিচিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম  বৃটেন-এ ৫ দিনের ব্যবধানে দু’টি পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠিত হলো। মাওলানা মুফতি সাইফুল ইসলামকে সভাপতি ও মাওলানা মামনুন মহিউদ্দিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গত ৯ জুলাই রোববার গঠিত হয় এক কমিটি। অপরদিকে মাওলানা শুয়াইব আহমদকে সভাপতি ও মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৪ জুলাই ঘোষনা করা হয় পাল্টা আরেক কমিটি। সূত্রমতে ৯ তারিখের ঘোষিত কমিটির বিদ্রোহী কমিটি হিশেবে এ কমিটি ঘোষনা করা হয়।

 

জানা যায় ১৯৯২ সালের দিকে ইংলেন্ডে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের প্রথম কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী জমিয়ত আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের যাত্রা শুরু করে। বিভিন্ন মেয়াদে বাংলাদেশ থেকে গমণকৃত স্বনামধন্য ওলামায়ে কেরাম উক্ত ইসলাহী ও দাওয়াতী সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ ইন্ডিয়া কিংবা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক দল হিশেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও বৃটেনে জমিয়ত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে ইসলাহী ও দ্বীনি সংগঠন হিশেবেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। অদ্যবধি জমিয়ত সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন হিশেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বীনের দাওয়াত চালিয়ে যাচ্ছে।

 

সূত্র জানায়, ২০০৬ সালের দিকে মুফতি মাওলানা সদর উদ্দিনের নেতৃত্বে বৃটেনের মূলধারার জমিয়ত থেকে কয়েকজনের একটা গ্রুপ বেরিয়ে আসেন। কিছু দিনের মধ্যে তার নেতৃত্বে বৃটেনে গঠিত হয় “জমিয়তে উলামা বৃটেন”। মুফতি সদর উদ্দিনের নেতৃত্বে জমিয়তে উলামা নামে চলতে থাকে তাদের কার্যক্রম। কয়েক বছর চলতে থাকে এ নামেই। পরে নতুন ও তরুণ নেতৃবৃন্দের আগমণ ঘটে এ-দলে। প্রসার হতে থাকে রাজনৈতিক চিন্তা। নতুন প্রজন্মের চিন্তার সাথে পাল্লা দিতে দলটির নাম পাল্টিয়ে রাখা হয় “জমিয়তে উলামা আই”। কয়েক বছরে দলটির জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। সিলেট তথা বাংলাদেশ থেকে বৃটেনে পাড়িজমাতে থাকা নতুন নেতৃবৃন্দকে দলে ভেড়াতে থাকেন মুফতি মাওলানা সদর উদ্দিন। তার সাথে মনেপ্রাণে কাজ করেন মাওলানা শুয়াইব আহমদ মাওলানা সৈয়দ তামিম আহমদ। এক সময় তারা আবার দলটির নাম পরিবর্তনের প্রয়োজনবোধ করেন। শেষমেষ গত ১৪ জুলাই পাল্টা কমিটি গঠনের প্রাক্কালে তারা দলের নাম “জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে” হিশেবেই ঘোষনা করেন।

আরও পড়ুন  করোনায় বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ৩১২৫

 

এই ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বৃটেনের এক শীর্ষ আলেম জানান, আমরা খালিস লি-ওয়াজহিল্লাহ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাথে কাজ করে আসছি দীর্ঘদিন যাবত। কিন্তু এই গ্রুপিং লবিং আর দলাদলির কারণে আমরা যারপরনাই বিব্রত হচ্চি। অথচ এই দল কোনো রাজনৈতিক দলই নয়। এটা সম্পূর্ণ একটা ইসলাহী সংগঠন। কোন কারণে যে তারা দলের লিডার হওয়ার জন্য নির্লজ্জ এ প্রতিযোগিতা লিপ্ত হয়েছেন আল্লাহু আ’লাম।

 

জমিয়তের এমন পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে বৃটেনের ওলামায়ে কেরাম যেমন বিব্রত, ঠিক তেমনি বাংলাদেশের জমিয়তের নেতাকর্মীরাও অনেকটা শঙ্কিত। বাংলাদেশের জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন সময়ে বড় অংকের ডোনেশন এই দুই কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষ হতেই আসে। বিশেষ করে দলটির সাবেক মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস, যুগ্ম মহাসচিব শাহিনুর পাশা চৌধুরী, হাইব্রিড নেতা হিশেবে পরিচিত জুনাইদ আল হাবিবসহ অনেকেই ইংলেন্ড থেকে দলের জন্য বড় অংকের অর্থ নিয়ে আসেন। সূত্র জানায় জমিয়তের সহ সভাপতি মাওলানা জিয়া উদ্দিন গত কয়েক মাস আগে বৃটেন সফরের সময় জমিয়তের এই কোন্দলের কথা পাশাপাশি থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। পাল্টাপাল্টি অভিযোগ অনুযোগ শুনার পরও এই মহত দলটির বৃহৎ দুইগ্রুপের কোনো সমাধান দিয়ে আসতে পারেননি।

আরও পড়ুন  শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানীকে হত্যার কঠিন প্রতিশোধ নেবে ইরান

 

বৃটেন জমিয়তের পাল্টাপাল্টি গ্রুপের সংবাদে বাংলাদেশের গ্রুপগুলোও চাঙ্গা হতে শুরু করেছে। বিশেষ করে সিলেটের উল্লেখযোগ্য দু’টি গ্রুপ সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক নেতা। তিনি বলেন বৃটেনের মতো জায়াগায় জমিয়তের গ্রুপিংয়ের যদি এই পর্যায়ে হয় তবে সিলেটে তো এরচে বেশে হতেই পারে। তাদের ধারণা গণ সংগঠনের  পাশাপাশি ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদেরও এই গ্রুপিং মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। তাদের গোপন লিয়াজো দেশে জমিয়তের রাজনীতিতে  অর্থনৈতিকভাবে অনেকটা প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করছেন অনেকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ