ব্যাটিং ব্যর্থতার সঙ্গে হাল্কা মেজাজই কাল হলো

প্রকাশিত: ১:২০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০১৮

মাকসুদা লিসাঃ মাঠে নামার পূর্বেই যদি অনুমেয় থাকে প্রতিপক্ষ ফেভারিট। সেইসঙ্গে সেরা দলের স্বীকৃতিটাও নিঃসংকোচে দিয়ে দেয়া। এরপর আর মাঠের লড়াইটা কি হবে আন্দাজ করতে কষ্ট হয়না। বাংলাদেশ দল আফগানদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই ব্যাকফুটে।

 

মাঠের দিকের ধ্যানটা খাপ ছাড়া। কেউ আসছেন বিশ্ব একাদশ খেলে, কেউবা আইপিএল থেকে ফিরে, আর কেউ দলের সঙ্গে যোগ দেন একদিন পরে। মোদ্দা কথা আফগানিস্তানকে যতটা হাল্কা মেজাজে নিয়ে দেরাদুনে গিয়েছে বাংলাদেশ, তার খেসারতটা ভাল ভাবেই দিতে হয়েছে প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে।

 

পক্ষান্তরে ফেভারিটের মতই মাথা উঁচু করে আফগান দল। বিশ্ব ক্রিকেটে অশনি সঙ্কেত দেয়া দল। আন্ডারডগ থেকে হুঙ্কার দেয়া দলে রূপান্তর। টি-টোয়েন্ট ফরমেটে মানিয়ে নিয়েছে মোহাম্মদ নবীর দল।

 

হার জিত থাকবেই খেলাই। এক পক্ষ ম্যাচ শেষে জয়ের গান গাইবে। অন্যদল বিষণ্ণতা নিয়ে মাঠ ছাড়বে। এই তো নিয়ম। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটারদের মগজে যদি অন্য কিছু গুঁজে দেয়া হয়। তখন আর ক্রিকেটটা খেলা থাকে না। হয়ে যায় রাজনীতির মঞ্চ ।

 

এবার কেন জানি বাংলাদেশের সমর্থকরা ম্যাচ হারার কষ্টে খুব হাপিত্যেশ করলেন না। অন্যান্য সময় যা হয়। বড় দুঃখ, কষ্টে মুচড়ে পড়লেন না সমর্থকরা। ক্রিকেটারদের গাছাড়া ভাব দেখেই কিনা, কে জানে! আলোচনায় উঠে আসে রাজনীতির প্রসঙ্গ।

 

ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচেই হার। আফগানিস্তানদের কাছে নাস্তানাবুদ হলো টাইগাররা। ব্যাটে-বলে একবারে উড়িয়েই দেয়া যাকে বলে। তাই করলো নবীর অনভিজ্ঞ দল। অভিজ্ঞতা সব সময় সুখকর হয়না। সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, সাব্বিররা বুঝলেন টি-টোয়েন্টি ফরমেটে বাংলাদেশ এখনও অনেকটাই পিছিয়ে। ট্যাকনিক ও হিসাবনিকেশে দুর্বল । নবীদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করাও আছে অনেক। আফগানিস্তানের মতো নবীন ক্রিকেট দলের কাছে ৪৫ রানের বড় হারটা ‘লজ্জা’ ।

 

এত আত্মবিশ্বাস কোথায় রাখেন সাকিব আল হাসান ! টসে জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিং-য়ে পাঠান। কম চেনা জানা উইকেটে পরে ব্যাট করে ম্যাচ জেতা কঠিন। এটা অবুঝও বুঝে। সাকিব সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছেন ফিল্ডিং নিয়ে।

আরও পড়ুন  টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, শামীমের অভিষেক

 

দেরাদুনের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামেরর উইকেট নাকি পেস বোলারদের স্বর্গ। বাংলাদেশের থিংক ট্যাঁকদের ভাষ্য। তাই দলে মোস্তাফিজুর রহমানের পরিবর্তে আবুল হাসান রাজু। নির্বাচকদের মত রাজু এই উইকেটে ভাল কিছু করে দেখাবে। দীর্ঘ সময় পর জাতীয় দলের ছোট ফরমেটে ফেরা রাজু তিন ওভারে দিয়েছেন ৪০ রান। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে এক একটি রান সোনার ডিমের মত মূল্যবান। সেখানে শেষ ওভারে তিন ছক্কা ও এক ওয়াইডে দিয়েছেন ১৯ রান। যদিও উইকেট পেয়েছেন দুইটি। কিন্তু দলের ব্যাটসম্যানদেরকে বাড়তি একটা চাপে ফেলে দিয়েছেন এই পেসাররা। বোলিংটা এত খারাপ হলো। বেশ চোখে লাগছিল। বাংলাদেশ দল এতো ভেঙে পড়লো এখানেই।

 

রুবেল হোসেন উইকেট নিয়েছেন। প্রথম ব্যাক থ্রু এনে দিয়েছেন তিনিই। ব্যক্তিগত ২৬ রানে উসমান ঘানিকে বোল্ড আউট করেন ডানহানি এ পেসার। আফগানদের স্কোর ছিল ১৭ ওভারে ১১৫/৪ রান। শেষ তিন ওভারে বাংলাদেশী বোলাদের কল্যাণে ৫২ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৬৭/৮ ।

 

বল হাতে অমৃতব্যায়ি কেউ ছিলেন না। হযরতউল্লাহ জেজাই ও মোহাম্মদ নবীদের মারকুটে ব্যাটিংয়ের সামনে পড়তে হয়। ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে থাকা আফগান ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদকে সাজঘরে ফিরিয়ে টাইগারদের দ্বিতীয় সাফল্য এনে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান। ইনিংসের ১২তম ওভারে মাহমুদুল্লার তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফেরেন ৪০ রান (৩৭ বল) করা শেহজাদ।

 

মাহামুদুল্লা সেরা বোলিং করেছেন মাত্র এক ওভারে ১ রানে দুই উইকেট। সাকিব মান অনুযায়ী বোলিং করতে চেষ্টা করেছেন। বল হাতে নেন ১৪তম ওভারে। এতো পরে রেহাই পাননি। তার বলকেও বেধড়ক পিটিয়েছেন জেজাই-নবীরা। ৪ ওভারে ১৯ রানে এক উইকেট। আবু জায়েদ রাহি ৩ ওভারে দিয়েছেন ৩৪ রান এক উইকেট। ইকোনমি ১১.৩৩।

 

রানতো করতে হবে তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহামুদুল্লাহ, সাব্বিরকে। টপ অর্ডার ব্যর্থ দলে দলের ম্যাচ জেতা কঠিন হয়ে পড়ে। হলোও তাই। মুজিবুর রহমান, জেজাই, মোহাম্মদ নবী , রশিদ খানের বোলিং-য়ের সামনে নতজানু বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানরা।  ১৬৮ রান চেজ করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায় । ক্রীজে বড্ড বেশী নাচানাচির খেসারত দিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশ দারিদ্র্য নিরসনের মডেল : বিশ্বব্যাংক

 

তামিম ইকবাল ফিরে যান শূন্য রানে ইনিংসের প্রথম বলেই। লিটন দাসকে নিয়ে সাকিবের ছোট জুটি। ২১ রানের মাথায় মোহাম্মদ নবীর শিকার হয়ে সাকিব ফিরে যান (১৫)। ২ রানে সৌম্য সরকার আউট হয়ে। লিটন দাস করেছেন ৩০ রান। ম্যাচের ১১তম ওভারে বল হাতে এলেন রশিদ খান । বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৩ উইকেটে ৮০ রান। এসেই পরপর দুই বলে মুশফিকুর রহিম (২০) ও সাব্বির রহমানকে (০) রানে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাট্টিকের সামনে দাঁড়ালেন। নতুন ব্যাটসম্যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত নেমে বলটি বেশ সতর্কতার সঙ্গে মোকাবেলা করলে হ্যাট্টিক বঞ্চিত হন টি-টোয়েন্টির বিশ্ব সেরা এই বোলার। হ্যাট্টিক করতে পারেন নি। কিন্তু দেশটির সর্বনাশ করে গেছেন।

 

মাহমুদ উল্লাহ রিয়াদ সৈকত সঙ্গে নিয়ে সেই চাপ কাটিয়ে উঠতে চেয়েছেন। সেই রশিদ খানই আবার আঘাত হানেন। সৈকতকে ফিরিয়ে দেন তৃতীয় উইকেট নিয়ে। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ২২ বলে ৩৮ রানের ইনিংসটিই বাংলাদেশ দলের সর্বোচ্চ স্কোর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর মুশফিকুর রহিমের, ৩২ বলে ২৭ রানের। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ-সাব্বির রহমানরাও দাঁড়াতে পারেননি বেশিক্ষণ। টেল-এন্ডারদের ব্যর্থতায় ৬ বল বাকি থাকতেই ১২২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আফগানদের হয়ে বল হাতে রশিদ খান, শাপুর জহাদরান ৩টি নেন।  শেষ পর্যন্ত ১৭তম ওভারে, ১৬ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে আফগানরা। ৪৫ রানে লজ্জা হার।

 

টি-টোয়েন্টির সামর্থ নিয়ে আবারও প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।

প্রথম ম্যাচে হার থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে টাইগাররা। সেটাই প্রত্যাশা।

দেরাদুনের একই ভেন্যুতে ৫ জুন দ্বিতীয়টি ও ৭ জুন শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ