সিলেট ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৮:৩৭ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২৪
জানা গেছে, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে মধ্য বামপন্থি পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি (পিডিপি) ও ভুটান টেনড্রেল পার্টি। দুটি দলই দেশটির সংবিধানে নিহিত মানুষের সুখ ও কল্যাণ নিশ্চিতে সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর ৪৬ হাজার ৫০০ বর্গকিলোমিটারের দেশ ভুটান মূলত পাহাড়বেষ্টিত। বিচ্ছিন্ন জনবসতি হওয়ায় ভোটগ্রহণে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন দেশটির অনেকেই।
কিনলে ওয়াংচুক (৪৬) নামক এক কৃষক বলেন, আমরা নতুন রাস্তা বা সেতু চাই না। আমাদের যে জিনিসটা সবচেয়ে বেশি দরকার সেটি হলো, তরুণদের পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান। বর্তমানে আমাদের দেশে বেকার তরুণ-তরুণীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে।
বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ভুটানে তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেড়ে ২৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আবার গত ৫ বছরে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আটকে আছে গড়ে ১ দশমিক ৭ শতাংশের মধ্যে।
গত কয়েক বছরে উচ্চশিক্ষা ও আর্থিক সুবিধার সন্ধানে ভুটানের রেকর্ডসংখ্যক তরুণ জনগোষ্ঠী বিদেশে চলে গেছে। বিশেষ করে, অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমিয়েছেন দেশটির বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী।
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই পর্যন্ত অন্তত ১৫ হাজার ভুটানি নাগরিকের ভিসা ইস্যু করা হয়, যা গত ছয় বছরের সম্মিলিত হিসাবের চেয়েও বেশি ও এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ। ফলে এবারের নির্বাচনে উভয় দলের কাছে এ সমস্যা সমাধানের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভুটান টেনড্রেল পার্টির পেমা সিওয়াং বলেন, আমরা প্রতিনিয়তই মেধাবীদের হারাচ্ছি। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আমাদের দেশ গ্রামশূন্য ও মরুভূমিতে পরিণত হবে। মেধাবী তরুণ সমাজ ছাড়া দেশের উন্নতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
অন্যদিকে, পিডিপির প্রধান শেরিং তোবগেও একই মনোভাব প্রকাশ করে বলেছেন, সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়ে গেছে যে প্রতি ৮ জনের ১ জন খাদ্য ও মৌলিক চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। আর তার মধ্যেই গণহারে দেশত্যাগ ভুটানের জন্য আরও ভয়াবহ সংকট সৃষ্টি করতে পারে।
এদিকে ভুটানের পর্যটন খাত এখনো করোনার আঘাত থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। ২০২২ সালে দেশটিতে বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে ফি অনেক কমালেও, তেমন কোনো কাজ হয়নি। জানা গেছে, চার বছর আগে ভুটানে বিদেশি পর্যটক এসেছিল ৩ লাখ ১৬ হাজার, যার এক-তৃতীয়াংশই এসেছিল গত বছর।
এদিকে, গত অক্টোবরে একটি ‘সহযোগিতা চুক্তি’ সই করেছে ভুটান ও চীন। এই চুক্তি স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে ভারতের। নরেন্দ্র মোদীর দেশটি দীর্ঘদিন ধরে ভুটানকে ‘বাফার স্টেট’ (প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রের মাঝে দুর্বল রাষ্ট্র) হিসেবে দেখে আসছে। দেশটিকে নিজেদের প্রভাববলয়ে রাখার চেষ্টা চালায় উভয় পরাশক্তিই।
বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কাসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে চীনের প্রভাব বাড়তে দিতে চায় না। ভারত এই অঞ্চলকে নিজের প্রভাববলয়ের বলে মনে করে থাকে। তাই এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে বেইজিংয়ের ঋণ ও নানা চুক্তির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছে নয়াদিল্লি।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি