শত শত কোটি টাকার সনদ বাণিজ্য

প্রকাশিত: 10:04 PM, August 22, 2016

চ্যালেঞ্জের মুখে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ( পর্ব-৩)

আহমদ মারুফ :
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রির সনদ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। অনার্স, মাস্টার্স, এমবিএসহ উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেও অনেকেই কর্মক্ষেত্রে তা কাজে লাগাতে পারছেন না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করা দেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট যেন এখন শিক্ষার্থীদের অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর এইচএসসি পাস করে যে পরিমাণ ছাত্র-ছাত্রী বের হয় তাদের অধিকাংশই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংকটের কারণে ভর্তি হতে পারে না। ফলে অভিভাবকদের অনেকটা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে যেতে হয়। আবার অনেকেই সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার পরও এক্সট্রা কারিকুলাম হিসেবে সান্ধ্যকালীন বিভিন্ন শর্ট কোর্সে ভর্তি হচ্ছে। ভর্তির সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান সম্বন্ধে অনেকেরই জানা থাকে না। পরবর্তী সময়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার ভিত্তিতে সরকারি এবং বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে নিয়োজিত হন। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউজিসির অনুমোদনবিহীন শিক্ষার্থী বের হচ্ছে আবার কেউ কেউ এটাকে ভুয়া সার্টিফিকেট বলে আখ্যায়িত করছেন। এতে করে শিক্ষার্থীরা পারিবারিক, সামাজিক এবং চাকরিস্থলে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
শিক্ষার নামে বাণিজ্য, মান বৃদ্ধিতে অনিহা, অবকাঠামো উন্নত না করার এবং কেবল টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে। শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে ও গবেষণায় বরাদ্দ না দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ক্লাসরুমের শোভা বর্ধনে তারা বেশি গুরুত্¦ দিচ্ছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও এসব থেকে পাস করা ¯œাতকদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। ইউজিসির বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন চিত্র ফুটে উঠেছে। ইউজিসির অনুমোদন ব্যতিরেকে নতুন কোর্স, বিভাগ, এমনকি অনুষদ চালু করা। ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি নিয়ে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভর্তির জন্য প্রচারণা চালানো। ভাড়া করা বাড়িতে পাঠদান। আয়-ব্যয়ের হিসেব সংরক্ষিত না হওয়া। মানসম্পন্ন শিক্ষার অভাব, যোগ্য ও অভিজ্ঞ পূর্ণকালীন ও খ-কালীন শিক্ষক নিয়োগ না করে অধিকসংখ্যক সবেমাত্র পাশ করা জুনিয়র শিক্ষক নিয়োগ করা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষকের ৫৬ ভাগই প্রভাষক। পূর্ণকালীন শিক্ষকদের সংখ্যা খুবই কম। পূর্ণকালীন শিক্ষদের মধ্যে ৬৭ ভাগই প্রভাষক। উচ্চহারে ক্রেডিট প্রতি টাকা নির্ধারণ। গবেষণাকর্ম নেই বললেই চলে। ২০০৯ সালে ৫১টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২০টি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা খাতে কোনো টাকাই খরচ করেনি। ২০১০ সালে ২৯টি কোনো ধরনের গবেষণাই করেনি। অথচ ‘কোয়ালিটি এডুকেশন’ বলে এরাই সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন দেয়। একই শিক্ষক দ্বারা পাঠদান, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন এবং উত্তর পত্রের মূল্যায়ন। উদ্যোক্তা কর্তৃক প্রশাসনিক কর্মকা- পরিচালনা করা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ’১৯৯২-এ এটিকে ননপ্রফিটেবল হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই এ মাধ্যমে অবাধ বাণিজ্য করছে একটি দুষ্ট চক্র। নিয়মের তোয়াক্কা না করা এসব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নজির খুবই কম। অভিযোগ রয়েছে-ইউজিসির ভেতরে অনেকেই রয়েছেন যারা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকে অবৈধভাবে বিভিন্ন সুবিধা নিচ্ছেন।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ