সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ: ড্র’তেই সন্তুষ্ট বাংলাদেশ

প্রকাশিত: 7:29 PM, April 1, 2017

মাঠে ময়দানে ডেস্ক: সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ। নিদারুণ ব্যাটিং ব্যর্থতায়। সিরিজ জিততে করতে হতো ২৮১ রান। চ্যালেঞ্জিং এমন স্কোর তাড়া করতে গিয়ে ১১ রানে নেই তিন উইকেট। বড় ধাক্কা বাংলাদেশ শিবিরে। তবে সৌম্য ও সাকিব এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও ১২৭ রানে সাত উইকেট হারানো বাংলাদেশ ততক্ষণ খেই হারিয়ে ফেলেছে। শেষের দিকে মিরাজ প্রতিরোধ গড়ে তুললেও কাজের কাজ হয়নি। তৃতীয় ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়েছে ৭০ রানের ব্যবধানে।

প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ের আশা জাগিয়েও পারল না বাংলাদেশ। তবে শ্রীলঙ্কার মাটিতে ১-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ ড্র করেও স্বস্তিটা পাচ্ছে টাইগার শিবির। লঙ্কানদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বারের মতো ওয়ানডে সিরিজে ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো বাংলাদেশকে।

প্রথমবার সিরিজ ড্র করেছিল ২০১৩ সালে। সেটাও শ্রীলঙ্কার মাটিতে। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল। চলমান সিরিজেও তাই হলো। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছিল ৯০ রানে। দ্বিতীয় ম্যাচ পরিত্যক্ত।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা করেছিল ৯ উইকেটে ২৮০ রান। জবাবে ৪৪.৩ ওভারে ২১০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। শুরু ও শেষের দিকে দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে পরাজয় ত্বরান্বিত করেছেন লঙ্কান পেসার কুলাসেকারা।

কঠিন লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ব্যক্তিগত ৪ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তামিম ইকবাল। কুলাসেকারার প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে তামিম ক্যাচ দেন তার হাতেই। শুরুর উইকেট হারানো চাপ সামলাতে পারেননি সাব্বির ও সৌম্য জুটি।

নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে আবার সাফল্য পান কুলাসেকারা। তৃতীয় ওভারের ষষ্ঠ বলে ফেরান হার্ড হিটার সাব্বির রহমানকে। ২.৬ ওভারে কুলাসেকারার বলে উইকেটের পেছনে চান্দিমালের গ্লাভসে ক্যাচ দেন সাব্বির। ৩ বলে শূন্য রানে ফেরেন তিনি। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে সাব্বির দ্বিতীয়বারের মতো শূন্য রানে ফিরলেন।

আরও পড়ুন  নির্বাচনে কোনো চাপ নেই: সুনামগঞ্জে ইসি আনিছুর

শুরুর চাপ সামলাতে ব্যর্থ টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকও। পরের ওভারেই আউট তিনি। এবার কুলাসেকারা নয়, সুরঙ্গ লাকমল। ৩.৩ ওভারে লাকমলের বলে এলবির শিকার হন মুশফিক।

পরে রিভিউ নিয়েও কাজ হয়নি। প্রথম বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন মুশফিক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ছয় বছর পর ডাক মারলেন তিনি। সর্বশেষ ২০১১ সালে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শূন্য রানে বিদায় নিয়েছিলেন তিনি।

১১ রানের মধ্যেই নেই তিন উইকেট। বিপদে তখন বাংলাদেশ।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দলকে বিপদ থেকে রক্ষার চেষ্টা করেন সৌম্য সরকার ও সাকিব আল হাসান। এই জুটি থেকে আসে গুরুত্বপূর্ণ ৭৭ রান। আশা ছিল এই জুটি আরও বহুদূর যাবে। কিন্তু যায়নি। ব্যক্তিগত ৩৮ রানে পেরেরার বলে চান্দিমালের স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সৌম্য। ৪৪ বলের ইনিংসে সৌম্য তিনটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ৮৮।

এরপর বিদায় নেন মোসাদ্দেক হোসেন। বাংলাদেশের দলীয় রান তখন ১১১। ২০ বলে নয় রান করে প্রসন্নর বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন মোসাদ্দেক।

আশা ছিল সাকিব-মাহমুদউল্লাহ জুটিকে নিয়ে। তবে এই জুটি আরও তাড়াতাড়ি বিচ্ছিন্ন হয়েছে। দলীয় ১১৮ রানের মাথায় সাজঘরে ফেরেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে ৩৪ ফিফটি করেন তিনি। ৬২ বলে সাত চারে ৫৪ রান করে পেরেরার বলে গুনাথিলাকার হাতে ক্যাচ দেন তিনি।

রিয়াদ ও মিরাজ জুটির রসায়নও জমেনি। দিন নিজেদের না হলে যা হয়। দলীয় ১২৭ রানের মাথায় পড়ে বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট। লাকমলের বলে চান্দিমালের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ফর্মে খোজে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নয় বলে করেন মাত্র সাত রান। যার মধ্যে ছিল মাত্র একটি চারের মার।

আরও পড়ুন  দখলমুক্ত হচ্ছেই না সিলেট নগরীর ফুটপাত

অষ্টম উইকেট জুটিতে মাশরাফি-মিরাজ চেষ্টা করেছেন কিছুটা। এই জুটি থেকে আসে ২৮ রান। ২৩ বলে ১৬ রান করে প্রসন্নর বলে তার হাতেই ক্যাচ দেন মাশরাফি। অষ্টম উইকেটের পতন।  দলীয় রান তখন বাংলাদেশের ১৫৫।

শেষের দিকে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। চরম দুঃসময়ে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। ৫১ রান করে ফেরেন কুলাসেকারার বলে থারাঙ্গার হাতে ক্যাচ দিয়ে। ৭১ বলের ইনিংসে ছিল ছয়টি চারের মার। রঙীন পোশাকে ব্যাট হাতে নেমেই ফিফটির দেখা পেলেন তিনি। প্রথম ম্যাচে ব্যাটি করার সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় ম্যাচ হয়েছিল পরিত্যক্ত।

বাংলাদেশের শেষ উইকেটটিও তুলে নেন কুলাসেকারা। ২৭ বলে ১৪ রান করা তাসকিন ফেরেন গুনারত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ২১০ রানে অলআউট বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে কুলাসেকারা সর্বোচ্চ চারটি, লাকমল, পেরেরা ও প্রসন্ন দুটি করে উইকেট লাভ করেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কার হয়ে কমবেশি সবাই রান পেয়েছেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ধানুসকা গুণাথিলাকা ৩৪, উপুল থারাঙ্গা ৩৫, কুশল মেন্ডিস ৫৪, দিনেস চান্ডিমাল ২১, মিলিন্দা সিরিওয়ারদানা ১২, আসেলা গুণারত্নে ৩৪, তিসারা পেরেরা ৫২ এবং দিলরুয়ান পেরেরা ১৫ রান করেন।

বাংলাদেশের পক্ষে মাশরাফি বিন মর্তুজা ১০ ওভারে ৬৫ রান দিয়ে তিনটি উইকেট পান। দুটি উইকেট পান মুস্তাফিজ। এছাড়া একটি করে উইকেট ভাগাভাগি করেন মেহেদি হাসান মিরাজ ও তাসকিন আহমেদ ১টি করে উইকেট পান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ