সিলেট জুড়ে চলছে ধর্মঘট, পথে পথে দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৩, ২০২০

সিলেট জুড়ে চলছে ধর্মঘট, পথে পথে দুর্ভোগ

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:

টানা পরিবহণ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে গোটা সিলেট বিভাগ। স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। ঘুরছেনা গাড়ির চাকা। নগরীতে প্রবেশ করছেনা দূরপাল্লার গাড়ি যেতে পারছেনা বাইরেও। নগরীর অভ্যন্তরে চলাচলের প্রধান বাহন হয়ে উঠেছে রিকশা । সাত সকাল থেকে নগরীর বিভিন্ন প্রবেশ পথে মিছির সমাবেশ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

তবে পাঠাও, উবার এই সুযোগে মাত্রাতিরিক্তি ভাড়া আদায় করছে বলে জানান যাত্রীরা। মাঝে মধ্যে কিছু কিছু বাস নগরীতে যাত্রী পরিবহন করায় কিছুটা দুর্ভোগ লাঘব হতে দেখা যায়। তবে কেউ কেউ পায়ে হেটেও গন্তব্যে পৌছতে দেখা গেছে। তবে এম্বুলেন্স, বিদেশ যাত্রী, ফায়ার সার্ভিস, সংবাদপত্র ও জরুরি ঔষধ বহণকারী গাড়ি ধর্মঘটের আওতায় থাকছে না বলে জানান আন্দোলনকারীরা। আরও দুই দিন চলবে এই পরিবহণ ধর্মঘট। ফলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েচে সিলেটের জনজীবন।

 

এদিকে, সিলেট বিভাগের সকল জেলা-উপজেলায় পরিবহণ মালিক-শ্রমিকদের মিছিল সমাবেশ ও রাস্তায় অবস্থান সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ড্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ডাকা ৭২ ঘন্টার ধর্মঘটের প্রথম দিন শান্তিপূর্ণ ভাবে অতিবাহিত হয়েছে।

 

সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা মঙ্গলবার ভোর থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন।

সেখানকার বাস, ট্রাক, ট্যাংকলরি, মাইক্রোবাস, লেগুনা ও সিএনজি’সহ সকল প্রকার পরিবহনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে দিনভর সিলেট জেলার সকল উপজেলায় মিছিল-সমাবেশ করেন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

 

দক্ষিণ সুরমার হুমায়ুন রশিদ চত্বরে শান্তিপূর্ণ ভাবে অবস্থান নেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল, সদস্য সচিব আবু সরকার।

 

এ সময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও সিলেট জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, যুগ্ম সম্পাদক জাকির হোসেন তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ রিমাদ আহমদ রুবেল, সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি আব্দুস সালাম, সহ সভাপতি জুবের আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমির উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জিক লিটু, দফতর সম্পাদক আফজল চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক নুর আহমদ খান সাদেক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সোহরাব হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোঃ নুরুল আমীন, শাহাদত হোসেন, আকমাম আব্দুল্লাহ, জেলা ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের প্রচার সম্পাদক সামাদ রহমান, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমদ তুরু, নির্বাহী সদস্য শরিফ আহমদ, আলী আহমদ আলী, জলিল আহমদ, বেলাল আহমদ, দক্ষিণ সুরমা-মোগলাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাউছার আহমদ, সহ সভাপতি জুমায়েল ইসলাম জুমেল, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, সহ সাধারণ সম্পাদক ফলিক আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ আহমদ, কোষাধ্যক্ষ কতুব উদ্দিন, নির্বাহী সদস্য শাকিল আহমদ, জমির আলী, কুটি মিয়া, শাহপরাণ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ফুল মিয়া, সম্পাদক আজিজুর রহমান রহিম, সাংগঠনিক সম্পাদক জলিল আহমদ, ফেঞ্চগঞ্জ উপজেলা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাসেল আহমদ টিটু, সম্পাদক আহমদ লালু, কানাইঘাট আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি জসিম উদ্দিন, পশ্চিম গোয়াইনঘাট আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সম্পাদক মুজিবুর রহমান, পূর্ব গোয়াইনঘাট আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ছমেদ মিয়া, সম্পাদক আব্দুর রহিম, কোম্পনীগঞ্জ আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হান্নান মিয়া, সম্পাদক মাহফুজ মিয়া, গোলাপগঞ্জ আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম, সম্পাদক সায়েল আহমদ, বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মানিক উদ্দিন, সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাবুল, জকিগঞ্জ উপজেলা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রুবেল আহমদ, সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জালালাবাদ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কালা মিয়া, সম্পাদক আলমগীর, ওসমানীনগর থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সুরুজ আলী, সম্পাদক বাবুল মিয়া, বালাগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি শ্রী সুজিব চন্দ্রগুপ্ত বাচ্চু, সম্পাদক মাহমুদ আব্দুল নুর, বিশ্বনাথ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আলাল মিয়া, সম্পাদক মকবুল ইসলাম, এয়ারপোর্ট থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আব্দুল আহাদ, সম্পাদক আজাদ মিয়া প্রমূখ।

আরও পড়ুন  দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দাপুটে জয়

 

মিছিল-সমাবেশে বক্তারা বলেন, ১০ লক্ষাধিক মানুষের জীবন-জিবিকা রক্ষার্থে আমরা মানবতার জন্য শান্তিপর্ণ ভাবে ৭২ ঘন্টার ধর্মঘট পালন করছি। আমাদের বিশ্বাস প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালিক-শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করবেন।

জানা যায়, টানা ধর্মঘটের মুখে পড়েছে গোটা সিলেট বিভাগ। একদিকে পাথর কোয়ারী খুলে দেওয়ার দাবিতে টানা তিন দিনের পণ্য পরিবহন ঘর্মঘট, সিএনজি চালিত অটোরিকশার সামনে গ্রীল বসানোর নিয়ম বাতিল সহ বিভিন্ন দাবিতে সিএনজি অটোরিক্সার ধর্মঘট এর পর নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাস, মাইক্রোবাস পরিবহণ ধর্মঘট।

জানা যায়, পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়ার দাবিতে টানা ধর্মঘটের বিষয়ে সোমবার বিকালে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে রুদ্ধদার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এই বৈঠক ফলপ্রসু না হওয়ায় ধর্মঘটে অনড় পাথর কোয়ারী ও পরিবহণ মালিক-শ্রমীক ঐক্য পরিষদ। ফলে সিলেট মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলায় সব পরিবহন ধর্মঘট চলছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

আরও পড়ুন  সন্তানদের ইসলামী আদর্শে উদ্ধুদ্বের মাধ্যমে সুন্দর জাতি গঠন সম্ভবঃ ভিসি সিকৃবি

আন্দোলনকারীদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন মালিক- শ্রমীক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক গোলাম হাদী ছয়ফুল জানান, আমরা পাথর কোয়ারী গুলো খুলে দেওয়ার দাবিতে শান্তিপূর্ন সব কর্মসূচী পালন করেছি। কিন্ত সরকার কোন কর্নপাত করেনি। তাই আমরা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, সোমবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আমাদের ডাকা হয়। সেখানে সবাই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আশানুরুপ কোন ফল না হওয়ায় আমরা ধর্মঘটের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। তাই মঙ্গলবার সকাল ৬টা হতে যে ধর্মঘট শুরু হয়েছে তা শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত পণ্য পরিবহন ও গণ পরিবহণ ধর্মঘট চলবে।

সর্বশেষ সংবাদ