সিলেট ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৭
মূল হোতা আল আমিন ও সেলিম
প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: সিলেট নগরীতে অবস্থিত একটি স্কুলের প্রিন্সিপাল এবং এমডি’র বিরুদ্ধে আদমপাচার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এর আড়ালে বিদেশে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন ওই দুজন। আত্মসাৎ করছেন সাধারণ মানুষের লাখ লাখ টাকা। এদের প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে অনেক বিদেশগামী যুবকের সোনালী স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে হচ্ছেন নি:স্ব।
জানা গেছে, সিলেট নগরীর আম্বরখানাস্থ কবি নজরুল মেমোরিয়াল স্কুলের প্রিন্সিপাল আল-আমিন ও এমডি নুরুল আকছার সেলিম। আল-আমিন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার বাড়িয়ল গ্রামের আবদুল হেকিমের ছেলে ও নুরুল আকছার সেলিম নরসিংদী জেলার মনোহরদি থানার রূপেরকান্দা গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে। অনুমোদনবিহীন স্কুল প্রতিষ্ঠা করে এর আড়ালে মানবপাচার আর প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন আল-আমিন ও নুরুল আকছার সেলিম। তারা স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আত্মীয় স্বজনদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে একসময় তাদের কাছে ‘বিদেশ যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ’ এর টোপ ছাড়েন। তারা ২ জন স্কুলের কর্তৃপক্ষ হওয়ায় তাদের প্রতারণার টোপ সাধারণ মানুষ সহজেই বিশ্বাস করে গিলে ফেলেন। একপর্যায়ে বিদেশ গমনের রঙিন স্বপ্নে বিভূর হয়ে তাদের হাতে তুলে দেন বড় অংকের টাকা। পরবর্তীতে যখন দেখা যায় ওই লোকে বিদেশ যাওয়া হচ্ছে না এইসময় অর্থদাতারা টাকা ফেরত চাইলে আল-আমিন ও নুরুল আকছার সেলিম শুরু করেন নানা টালবাহানা। অনেক সময় কারও সন্তান স্কুলে থাকলে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি প্রদান করেন এ ২ জন। এছাড়াও সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে অনেক পাওনাদারকে প্রাণনাশের ভয়ভীতিও প্রর্দশন করেছেন বলে অভিযোগ।
এমনই এক ভোক্তভোগী আম্বরখানা বড় বাজারের বাসিন্দা রাবেয়া বেগম। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, রাবেয়ার মেয়ে রিমা ওই স্কুলে শিক্ষিকার চাকরি করার সুবাদে পরিচয় হয় কবি নজরুল মোমেরিয়্যাল স্কুলের এমডি সেলিম এবং প্রিন্সিপাল আল আমিনের সাথে। একসময় এ দুজন তার এক বোনের ছেলে বেকার থাকার কথা শুনে তাকে কাতার পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তিনি সেলিম ও আল-আমিনকে বিশ্বাস করে তাদের হাতে তুলে দেন ৭ লক্ষ টাকা। কিন্তু এরপর পার হয়েছে প্রায় দেড় বছর। তার বোনের ছেলেটিকে বিদেশ না পাঠিয়ে সে ৭ লক্ষ টাকাই মেরে দেন স্কুলের এমডি ও প্রিন্সিপাল। পরবর্তীতে অনেক বিচার-শালিস করে এমডি সেলিম রাবেয়া বেগমকে ৫ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করলেও তিনি চেক নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে দেখেন ওই একাউন্টে কোনো টাকা নেই। এ পর্যায়ে
টাকা ফেরৎ চাইলেই এমডি সেলিম ও আল আমিনের সন্ত্রাসী বাহিনী নানা ধরনের হুমকি প্রদান করেন।
প্রিন্সিপাল আল-আমিন ও এমডি নুরুল আকছার সেলিমের আরেক শিকার স্কুলের শিক্ষিকা পারভিন আক্তার। তিনিও তার ভাইকে বিদেশে পাঠানোর আশায় এমডি সেলিমের হাতে তুলে দিয়েছিলেন দুই লক্ষ টাকা। আজ পর্যন্ত সেই টাকা ফেরৎ পাননি। উল্টো তার হারাতে হয়েছে চাকরি।
এদিকে, নজরুল মেমোরিয়াল স্কুলের এমডি অভিযুক্ত নুরুল আকছার সেলিমের তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী রিমা বেগম পপি তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে গত বছর সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলাও দায়ের করেন। রিমা বেগম পপি তার সাবেক স্বামী সেলিমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে প্রভাতবেলাকে বলেন, সেলিম তার এলাকায় একজন চিহ্নিত প্রতারক হিসেবে পরিচিত। প্রতারণার দায়ে দীর্ঘদিন থেকে সে এলাকা থেকে বিতাড়িত। সেলিমের স্কুল মাস্টার সৎ বাবা ছেলের এমন প্রতারণার কষ্ট সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছিলেন। রিমা বেগম আরো বলেন, সেলিম লম্পট প্রকৃতিরও লোক।
এতসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কবি নজরুল মেমোরিয়াল স্কুলের প্রিন্সিপাল আল-আমিনের কাছে জানতে চাইলে দৈনিক প্রভাতবেলাকে তিনি বলেন, ‘আসলে আমরা সিলেট সিটি কর্পোরশনের অনুমোদন নেয়ার প্রক্রিয়ায় আছি। এখনও আবেদন সাবমিট করিনি।’ বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে মানুষের কাছ থেকে টাকা গ্রহণের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে ফোনে কিছু বলতে চাচ্ছি না। ফেস টু ফেস কথা বললেই ভালো হয়।’
এ বিষয়ে এমডি এমডি নুরুল আকছার সেলিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায় নি।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি