সিলেট ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৯:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩১, ২০১৬
বিশেষ প্রতিবেদক: তরুন ব্যবসায়ী করিম বক্স মামুন হত্যাকান্ডের চাঞ্চল্যকর মামলার ১৫ দিন অতিবাহিত। সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ এলিগ্যান্ট শপিং মলের ব্যবসায়ী মামুনকে দিন-দুপুরে হত্যা করে সোলেমান হোসেন চৌধুরী। এ সময় তার সাথে ছিলো জাবেদ নামক জনৈক যুবক। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত সিলেট জেলা ছাত্রলীগের স্থগিত কমিটির সহ-সভাপতি সোলেমানকে প্রধান আসামী ও জাবেদকে ২নং আসামী করে হত্যা মামলাও দায়ের করা হয়। ব্যবসায়ী মামুন হত্যাকান্ড ঘটনার পর আজীবনের জন্য সোলেমান চৌধুরীকে ছাত্রলীগ থেকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরেও এখনো পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মামলার এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী সোলেমান ও তার সহযোগী জাবেদ আহমদকে। মামুন হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে দাবিতে ব্যবসায়ী সমাজ একটানা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও প্রশাসন সোলেমান ও তার সহযোগী জাবেদকে গ্রেফতারে এখন পর্যন্ত ব্যর্থ রয়েছেন। মোটরসাইকেল পার্কিং নিয়ে বাক-বিতন্ডতার জের ধরে গত ১৬ আগস্ট বেলা আড়াইটায় এলিগ্যান্ট শপিং মলের মোবাইল ব্যবসায়ী করিম বক্স মামুনকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করে ছাত্রলীগ নেতা সোলেমান হোসেন চৌধুরী। এ সময় তার সাথে জাবেদ আহমদ ছিলেন। এ বক্তব্য ঘটনার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সুত্রের। মামুন হত্যাকান্ডের পরে নিহতের পিতা বাদী হয়ে সোলেমান হোসেন চৌধুরী ও জাবেদ আহমদের নামোল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। কিন্তু এ হত্যাকান্ডের ১৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এজাহার নামীয় কোনো আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় বাদীপক্ষ আদালতে তদন্তের ব্যাপারে কোতোয়ালী মডেল থানার প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেন। পরবর্তীতে মামুন হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলাটি মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এদিকে এ হত্যা মামলার ১৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এজাহার নামীয় কোনো প্রকৃত আসামী ধরা পড়েনি। হত্যাকান্ডের পর কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা হলেও চাঞ্চল্যকর মামুন হত্যাকান্ড মামলাটিকে ঘিরে ভানুমতির খেল- খেলতে থাকে ‘থানার ওসি সোহেল আহমদ।’ ‘তিনি এ মামলাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার উদ্দেশ্যে, ষড়যন্ত্র করে একজন নিরপরাধ ব্যবসায়ী ও মহানগর যুবলীগ নেতা তোফায়েল আহমদ তারেককে এসআই ফয়েজকে দিয়ে নাটকীয় ভাবে নগরীর শিবগঞ্জ থেকে আটক করে নিয়ে আসেন।’
অন্যদিকে ওসি সোহেল কারো কথা না শুনে, নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে গিয়ে আসল অপরাধিদের আড়াল করে জজমিয়া নাটকের পূনঃমঞ্চায়ণ করতে গিয়ে যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী তারেককে তার বলিরপাঠা বানান। ‘তারেককে গ্রেফতারের পর ওসি সোহেল দাবী করেন ফটো ফুটেজে তারেকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তারেককে গ্রেফতারের পর দিন ওসি সোহেল’র এ বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ‘পরে মামলার হেয়ারিংয়ের সময় আদালতে ফটো ফুটেজের কথা এড়িয়ে যাওয়া হয়।’ থানা পুলিশের ভেলকীবাজির ঘটনা মামলার বাদী এবং প্রশাসনের কাছে ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে মামলাটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকান্ড হিসেবে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়।
সরেজমিনে এ ঘটনা তদন্তে গেলে জানা যায়, চলতি মাসের ১৬ আগস্ট বেলা আড়াইটায় ‘এলিগ্যান্ট শপিং মল’রস তরুন মোবাইল ব্যবসায়ী করিম বক্স মামুনকে সোলেমান চৌধুরী ও তার অন্যতম সহযোগী মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত করে একটি ‘ইয়ামাহা মোটরসাইকেল’ যোগে পালিয়ে যায়। এসব ঘটনার বিভিন্ন প্রমাণ তৎকালীন সময়ে বিভিন্ন মিডিয়ার ফটো ফুটেজে উঠে এসেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা সে সময় দু’জনকেই চিহ্নিত করেছেন। এর মধ্যে এজাহার নামীয় প্রধান আসামী সোলেমান চৌধুরী, ওপর জন ২নং আসামী জাবেদ আহমদ। শিবগঞ্জ থেকে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি সোহেল আহমদ’র নির্দেশে এসআই ফয়েজকে দিয়ে ব্যবসায়ী ও মহানগর যুবলীগ নেতা তোফায়েল আহমদ তারেককে সন্দেহ জনক ভাবে আটক করেন। জানা যায়- হত্যা ঘটনার দিন তারেক ব্যবসার কাজে ঢাকায় ছিলেন। তিনি ১৭ আগস্ট ঢাকা থেকে তার ব্যবসায়ী মালামাল (জুতা) নিয়ে সিলেট আসেন। তিনি ১৬ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট থেকে দুপুরে মালামাল ক্রয় করে সন্ধ্যার সময় বাসযোগে সিলেটে রওয়ানা দেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে, একটি মহল থানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তারেককে আটক করে জজমিয়া নাটকের পুনঃমঞ্চায়ণ শুরু করে দেয়। এর নির্দেশনায় ছিলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি সোহেল আহমদ। পরবর্তীতে থানা পুলিশের এসব ঘটনা ফাস হলেই সবই ভেস্তে যায় তার শুরু করা মঞ্চ নাটক। প্রশ্ন উঠেছে, ‘জজমিয়া নাটকের শুরু করেছেন স্বয়ং কোতোয়ালী মডের থানার ওসি, তবে তার সাথে কুশিলব কারা? প্রশাসনকে মামুন হত্যা মামলার বৃহত্তর স্বার্থে এ তথ্য উদঘাটন করতে হবে।’

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি