নবীগঞ্জে গভীর রাতে দৃর্বৃত্তদের হামলায় নিহত ১

প্রকাশিত: ৫:২৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৭

শাহ সুলতান আহমেদ নবীগঞ্জ : নবীগঞ্জে গভীর রাতে ঘরে কৌশলে ঢুকে হামলা করে একই পরিবারের ১ জনকে পিঠিয়ে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃৃত্তরা।এবং আরো ৩ জনকে পিঠিয়ে আহত করেছে। ডাকাতি না পৃর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ড এ নিয়ে চলছে চুলছেড়া বিশ্লেষন। তবে পুলিশ বলছে পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। এবং ঘটনাটি একটি স্পর্শকাতর মনে হচ্ছে । জানা গেছেÑ নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউপি জামায়াতের আমীর মংলা পুর গ্রামের মাওলানা মোস্তফা আহমদের ছেলে জামিল আহমদ (২৩) কে গত শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে তাদের নিজ বাড়িতে হানা দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে একদল মূখোশধারি দৃর্বৃত্তরা। এ সময় দৃর্বৃত্তদের হামলায় পিতা-পুত্র সহ আহত হয়েছেন একই পরিবারের ৩জন। আহতদের সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় আতংক বিরাজ করছে। ঐ ইউনিয়নের মংলা পুর গ্রামের মাওলানা মোস্তফা আহমদের বাড়িতে গত শুক্রবার গভীর রাত অনুমান সাড়ে ৩টার দিকে অস্ত্রধারী একদল দূর্বৃত্ত পাকা দালানের কলাপসিবল গেইটের তালা কৌশলে ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে । প্রথমে মাওলানা মোস্তফা আহমদ এর কক্ষে প্রবেশ করে তাকে হামলা ও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে । এ সময় প্রাণ রক্ষার্থে তিনি চিৎকার শুরু করলে পার্শ¦বর্তী কক্ষ থেকে পিতাকে বাচাঁতে এগিয়ে আসে পুত্র জামিল আহমদ, সহ পরিবারের সকল সদস্যরা। এ সময় শুরু হয় মূখোশধারী দূর্বৃত্তদের বেপরোয়া হামলা ও মারধর। মাওলানা মোস্তফা আহমেদের কন্যা স্থানীয় সৈয়দপুর বাজার ফাজিল মাদ্রাসার নবম শ্রেনীর অধ্যয়নরত তামান্না আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, তার পিতাকে হামলার সাথে সাথেই তার ভাইয়েরা বাবাকে রক্ষা করতে গেলে মূখোশধারীদের সাথে ধস্তাধস্তি শুরু হয় । এ সময় মূখোশধারীর মুখোশ টেনে চেনার চেষ্টা করলে জামিল আহমদকে বাড়ির ওঠানে নিয়ে সবার সামনেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে তারা পালিয়ে যায়। পরে থাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকের কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জামিলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন । এর পূর্বে হামলাকারীরা বাড়ির গৃহকর্তা মাওঃ মোস্তফা আহমদ (৭০), তার ছেলে সৈয়দপুর ব্জাার মাদ্রাসার আলিম ক্লাসে অধ্যায়নরত মওদুদ (২০), এবং আউশকান্দি দি লিটল ফ্লাওর্য়াস স্কুলে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র মাসুদ (১৪) কে বেধরক ভাবে প্রহার ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। সুত্রে আরো জানান গেছে Ñ মাওঃ মোস্তফা আহমদের একটি মানি ব্যাগ লুটে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। দূর্বৃত্তরা যাওয়ার পর পরই বাড়ির লোকজনের আত্মচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত জামিলের মাতা সালেহা আক্তার এই নির্মম ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে ছেলের শোকে বারবার মুর্ছা যা”্ছনে। এবং তিনি তার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানান । তিনি আরো জানান, গত ডিসেম্বর মাসে ও তাদের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছিল। সেই সময় ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার সহ কয়েক লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। কিন্তু এবার তার সন্তানকেও তার বুক থেকে কেড়ে নিল ডাকাতরা। ঘটনার খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কিছু আলামত সংগ্রহ করে। নিহত জামিলের লাশ ময়না তদনেতর জন্য হবিগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেছে । এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসির এস এম আতাউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটি একটি পূর্ব পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।এই হৃদয় বিধারক মর্মান্তিক হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হবিগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আ.স.ম সামছুর রহমান সহ একদল পুলিশ, আউশকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মুহিবুর রহমান হারুন, প্যানেল চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, মেম্বার সাহেল আহমদ সহ এলাকার কয়েক শতাধীক শোকার্ত জনতা। নিহতের আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় আকাশ বাতাস যেন ভারি হয়ে ওঠেছিল।

সর্বশেষ সংবাদ