অ্যামোনিয়া বৃদ্ধি ও অক্সিজেনের হ্রাস : হাওরে মরছে মাছ আর হাঁস

প্রকাশিত: ৮:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২১, ২০১৭

সংবাদদাতা, সুনামগঞ্জ:  ধান হারানোর পর মাছে মড়ক। এবার হাাঁসসহ অন্যান্য জলজ প্রানীর  প্রাণহানীতে উদ্বিগ্ন হাওরপারের মানুষ। কেন এই মড়ক-তা জানতে গবেষণা শুরু করেছে মৎস্য বিভাগ। আর প্রাথমিকভাবে তারা জানিয়েছে, পানিতে  কার্বড্রাই অক্সাইড ও অ্যামোনয়িার বৃদ্ধি এবং অক্সিজেন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা অধিদপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরের পানি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন।

ওই দলের প্রধান মাসুদ হোসেন খান প্রভাতবেলাকে বলেন, হাওরের পানিতে ধানের পচনে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। যেখানে থাকার কথা ৪ থেকে ৫ পয়েন্ট অক্সিজেন সেখানে আছে মাত্র ০.৫ পয়েন্ট। এপ্রিলের শুরু থেকেই অকাল বন্যা দেখা দেয় হাওর অঞ্চলে। বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যেতে থাকে বিস্তীর্ণ অঞ্চল।

এ অঞ্চলের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি ধান হারিয়ে বিপাকে পড়ে চাষিরা। আর দীর্ঘ সময় ধরে পানির নিচে থাকায় পচন ধরেছে ধানের।ধানের পর হাওরের অর্থনীতি যার ওপর নির্ভরশীল সেই মাছের মড়ক আরও ভাবিয়ে তুলেছে হাওরবাসীকে। এখন আবার মরছে হাঁস। এ নিয়ে যখন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে তখনই এই মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করে প্রতিকারের উদ্যোগ নেয় মৎস্য বিভাগ।

আরও পড়ুন  রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে অভিনেত্রী শাওন ডিবি হেফাজতে

মৎস্য অধিদপ্তরের গবেষক দল সুনামগঞ্জের খরছার হাওর, দেখার হাওর, মাটিয়ান হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার পানি পরীক্ষা করেন।গবেষণা দল জানায়, অক্সিজেন কম থাকার পাশাপাশি এমনিয়া গ্যাসের কারণে মাছ মরছে। ধানের পঁচা গাছ থেকে এই গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণা করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান গবেষকরা।

এদিকে,  সুনামগঞ্জের হাওরের পানি বিষাক্ত হওয়ায় মাছ শিকার বন্ধে ৭ দিনের নিষেধাজ্ঞা চলছে। গত রাতে এই নির্দেশনা জারি করে জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম।রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন এ্যামোনিয়া গ্যাসে যেসব হাওরের পানি বিষাক্ত হয়েছে সেগুলো থেকে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে কড়াকড়ি আরোপ করেছে প্রশাসন।

 এর আগে বিভিন্ন জায়গায় মাইকিং করে বিষাক্ত পানির মাছ না খাওয়ার আহবান জানিয়েছে মৎস বিভাগ। গত কয়েক দিন ধরে হাওরের জলাশয়ে অক্সিজেন কমায় ভেসে উঠে নানা জাতের মাছ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ