বিয়ানীবাজার পৌরসভা: জয় পরাজয়ের দোলাচলে বিএনপি প্রার্থী

প্রকাশিত: ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক:জয় পরাজয়ের দোলাচলে বিএনপি প্রার্থী। বাতিল কেন্দ্রের ভোট অনুষ্ঠানের পূর্বপর্যন্ত পিন্টু এগিয়ে। এইটুকু শান্তনা বা প্রাপ্তি। চুড়ান্ত ফলাফলে পরাজয়ের পাল্লাই ভারী। এমনটাই ধারণা বিয়ানীবাজারের সাধারণ জনতার। তাদের যুক্তি বাতিল কেন্দ্রটি আওয়ামীলীগ অধ্যুষিত। এই কেন্দ্রে ভোটার ৩ হাজার ৩৮৮। ১২০ ভোটে এগিয়ে থাকা পিন্টুর জন্য তা টপকে যাওয়া অনেকটা দু:সাধ্য। তবে সিলেটি একটি প্রবাদ আছে, “ভেড়ায়ও ফলো ভাঙ্গে”।
বিয়ানীবাজার পৌরসভা নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর চেয়ে বিএনপি প্রার্থী ১২০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। তবে কসবা কেন্দ্রের ভোট বাতিল হওয়ায় নির্বাচনে মেয়র পদে কাউকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়নি।
বাতিল হওয়া কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণের পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এ কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৮৮। কেন্দ্রটি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আব্দুস শুকুরের নিজের গ্রামের কেন্দ্র বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টায় উপজেলা সম্মেলনকক্ষে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন কেন্দ্র থেকে আসা ফলাফল ঘোষণা করেন। ১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ৯টি কেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকের আবু নাসের পিন্টু ৩ হাজার ৬২১ ভোট, আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী নৌকা প্রতীকের আব্দুস শুকুর ৩ হাজার ৫০১, পৌর প্রশাসক স্বতন্ত্র প্রার্থী জগ প্রতীকের তফজ্জুল হোসেন ৩ হাজার ৩০৮ ভোট পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী আব্দুস শুকুরের নিজ কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয়েছে।
বিকেলে কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংঘর্ষ, জাল ভোট ও কারচুপির অভিযোগ এনে ফলাফল বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। বিকেলে ভোট কেন্দ্রে দুই কাউন্সিলর প্রার্থী ও সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এছাড়া পৌরসভার আরও দু-একটি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়।
এদিকে ৩ ও ৪ নম্বর ভোট কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তুলে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পৌর প্রশাসক তফজ্জুল হোসেন নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে এ দুই প্রার্থী পুনরায় নির্বাচন দাবি করেন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোটাররা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। দুপুর পর্যন্ত পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের ১০টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলে। দুপুরে দু-একটি কেন্দ্রে বিভিন্ন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকরা জাল ভোট দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ৪ নম্বর ওয়ার্ডে খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মুন্নি নামের এক তরুণীকে আটক করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আরও পড়ুন  গোবিন্দগঞ্জ কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে জাল ভোট প্রদানকালে মনি ও শাম্মি নামের দুই তরুণীকে আটক করেন নির্বাচনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। একই ওয়ার্ডের বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সুমন নামের এক যুবকে জাল ভোট দেয়ার সময় আটক করা হয়।
এছাড়া ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ১১টার সময় ভোট দিতে এসে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ফাহিমা আক্তার (ভোট নম্বর ৪৩) ভোট দিতে দেখেন তার ভোট দেয়া হয়েছে। তিনি এ বিষয়টি নিয়ে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মাসুম মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বিষয়টি দেখছেন বলে জানান।
একই কেন্দ্রে দুপুর আড়াই টায় উটপাখি প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী মছমন মিয়ার সঙ্গে পানির বোতল প্রতীকের কাউন্সিলর প্রার্থী ইসলাম উদ্দিনের ভাগনা কামরানের সঙ্গে বাক-বিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ বিষয়টি কেন্দ্রের বাইরে ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে কেন্দ্রের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণ ভোটারদের নিরাপদ স্থানে ছুটতে দেখা যায়। খবর পেয়ে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট, স্টাইকিং ফোর্স ও অতিরিক্ত পুলিশ কেন্দ্রে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। এ সময় একটি বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন থাকলেও ব্যালট পেপার না থাকায় ভোটার ভোট দিতে পারেননি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়।
তবে ভোট গ্রহণ শেষে নির্বাচন কমিশন এ কেন্দ্রের ফলাফল তাৎক্ষণিক স্থগিত ঘোষণা করে। পরে সন্ধ্যায় ৭টার সময় জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, কসবা আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফলাফল বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে খাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জাল ভোট ও কারচুপি অভিযোগ থাকায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আজিজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, এ কেন্দ্রে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রঞ্জিৎ কুমারকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এদিকে নির্বাচন চলাকালে বিকাল সাড়ে তিনটায় বিএনপি প্রার্থী আবু নাসের পিন্টু নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক ও উপজেলা বিএনপি সভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল নির্বাচনে জাল ভোট প্রদান, অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।
ভোট গণনা চলাকালে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন স্বতন্ত্রপ্রার্থী তফজ্জুল হোসেন। তিনি ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রসসহ কয়েকটি ভোট কেন্দ্রের জাল ভোট প্রদান, ভোট কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, একটি কেন্দ্র ছাড়া অন্য ৯টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ হয়েছে। এ ৯টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা করেছি। মেয়র পদে বিএনপির আবু নাসের পিন্টু তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আব্দুস শুকুর ১২০ ভোট এগিয়ে রয়েছেন।
তিনি বলেন, ফলাফল বাতিল হওয়া কেন্দ্রে পুনরায় ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচন কমিশন থেকে পুনরায় ভোট গ্রহণের বিষয়টি জানানো হবে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ