সিলেট ৮ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৫শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১০:০০ অপরাহ্ণ, জুলাই ৬, ২০১৭
প্রভাতবেলা ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি আলতাফ হোসেনসহ থানা পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও শ্রমিক হয়রানীর গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসি আলতাফ হোসেনসহ দূর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহারে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানা পাথর বহনকার বারকী শ্রমিক সমবায় সমিতি লিঃ বৃহস্পতিবার সিলেট রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি বরাবরে দেয়া স্মারকলিপিতে এ দাবি জানিয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, যুগ যুগ ধরে সিলেটের বৃহৎ পাথর কোয়ারী ভোলাগঞ্জ থেকে পাথর উত্তোলন করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে পাথর শ্রমিকরা। কোয়ারী থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও বে-আইনী বোমা মেশিনের মাধ্যমে পাথর উত্তোলনের ফলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। প্রতিনিয়ত উপজেলা প্রশাসনের অভিযান সত্ত্বেও থানা পুলিশের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় স্থানীয় কতিপয় চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও লাঠিয়াল বাহিনী মোটা অংকের বখরা ও চাঁদা গ্রহনের মাধ্যমে পরিবশে বিধ্বংসী বোমামেশিন চালিয়ে কোয়ারী ও তৎপার্শ্ববর্তী এলাকা বিরান ভূমিতে পরিনত করে চলেছে। পাশপাশি উজান থেকে পাহাড়ী ঢলে কোয়ারীর জিরোলাইন এলাকার কয়েক শ’ গজ বাইরে ভেসে আসে অনেক পাথর। শ্রমিকরা এ পাথর উত্তোলন করে নিয়ে আসার সময় সীমান্ত প্রহরী (বিজিবি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী কোন ধরনের আপত্তি-বিপত্তি না করলেও কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ এতে বাধ সাধে। শ্রমিকদের নিকট থেকে পুলিশ নৌকা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করে থাকে। দাবি মতে টাকা না দিলেই পুলিশ নৌকাসহ শ্রমিকদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। অপরদিকে কোয়ারী ও তদসংলগ্ন এলাকায় সেইভ মেশিনের মাধ্যমে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনকালে থানা পুলিশ ও তাদের দোসর দালালরা নৌকা প্রতি ১ থেকে ২হাজার টাকা করে চাদাঁ আদায় করে। চাঁদা না দিলেই শ্রমিকদের উপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন ও নিপীড়ন। আটক করে শ্রমিকদের কাছ থেকে জোর করে পুলিশ আদায় করে থাকে মোটা অংকের চাঁদা। থানা পুলিশের এহেন চাঁদাবাজি ও হয়রানীতে সহযোগিতা করছে এলাকার চিহ্নিত অপরাধী ও একাধিক ডাকাতি মামলার আসামীরা। এদের মধ্যে পরিবেশ মোল্লা নামে খ্যাত থানার দয়ার বাজার এলাকার তাজু মোল্লা অন্যতম। এদের সাথে থানার ওসি মো. আলতাফ হোসেনের গভীর সখ্যতা ও বন্ধুত্ব এলাকার জনমনে পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ থানা এখন টাউট-বাটপার, চোর-ডাকাত ও চিহ্নিত অপরাধীদের অভয়ারন্যে পরিনত হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আলটিমেটাম দিয়ে বলা হয় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুলিশের অহেতুক হয়রানী ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা না হলে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসুচী গ্রহণ করতে বাধ্য হবে এবং এর দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকে বহন করতে হবে। স্মারকলিপিতে কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকাকে চাঁদাবাজ ও অপরাধীমুক্ত করতে অবিলম্বে থানার ওসি মো. আলতাফ হোসেনসহ অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার এবং চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাািব জানানো হয়।অন্যথায় কোম্পানীগঞ্জ থানার আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল জলিল,সহ-সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক ও সাধারণ সম্পাদক আওয়াল মিয়া প্রমূখ। ডিআইজির পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহন করেন তার কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সুমন মিয়া।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি