বজ্রপাত হুমকীতে বাংলাদেশ

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৮

বজ্রপাত হুমকীতে বাংলাদেশ

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: বজ্রপাত হুমকীতে বাংলাদেশ। বাড়ছে প্রাণহানি। ঘটছে বাড়ীঘর সম্পদ ও গবাদি পশুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি। সাম্প্রতিককালে বজ্রপাতের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  মোবাইল কোম্পানীগুলোর অপরিকল্পিত টা্ওয়ার, বজ্রপাত নিরোধক গাছের অভাব, বাতাসে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধিই বজ্রপাতের হার বাড়ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ন্ত্রণের কোনও উপায় নেই। তবে কিছু পদক্ষেপ এবং সচেতনতার মাধ্যমেই নিরাপদ থাকা যেতে পারে।

২০১০ সাল থেকে বজ্রপাতকে আলাদাভাবে দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে এটি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

ভৌগলিক কারণেই বাংলাদেশ বজ্রমেঘ ও বজ্রপাতপ্রবণ এলাকা। গবেষকদের মতে, দেশের দক্ষিণে সমুদ্রের তাপীয় জলীয় বাষ্পের সাথে উত্তর পশ্চিমের শীতল বায়ু চাপের মিশ্রণে তৈরি হয় বজ্র মেঘ। আর এই মেঘে মেঘে ঘর্ষণের ফলে সৃষ্ট ধনাত্মক ও ঋণাত্বক চার্জই বজ্রপাত। এই বজ্রপাত সরাসরি বা কোন মাধ্যম দিয়ে নেমে আসে মাটিতেই। আর নামার সময় অপেক্ষাকৃত উঁচু মাধ্যমেই আঘাত করে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব জিওগ্রাফির অধ্যাপক ড. টমাস ডব্লিউ স্মিডলিনের ‘রিস্ক ফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শীর্ষক গবেষণা থেকে দেখা গেছে, প্রতিবছর মার্চ থেকে মে পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়।

আরও পড়ুন  দেশ লকডাউন হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বজ্রপাতে ২৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালেও মৃতের সংখ্যা দুই শতাধিক ছিল। এ বছর কেবল এপ্রিলেই মারা গেছেন ৩০ জন। ২০১০ থেকে গত ছয় বছরে এই দুর্যোগে নিহতের সংখ্যা প্রায় এক হাজার।

পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে বেশি বজ্রপাত এমন পাঁচটি অঞ্চল হলো, শ্রীমঙ্গল, সিলেট , ময়মনসিংহ , ফরিদপুর ও সৈয়দপুর । আর বছরের হিসেবে, ২০১১ সালে ৯৭৮ টি বজ্রপাত হলেও ২০১৫ সালে হয়েছে ১২১৮টি। আর ২০১১ সালে বজ্রপাতে ১৭৯ জন মারা গেলেও ২০১৫ তে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭৪ জন। আর গেল বছর মারা গেছেন ৩৫০ জন। এর মধ্যে ১১ ও ১২ মে দুদিনেই ৬৪ জন মারা যান।

আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস প্রভাতবেলাকে বলেন, ‘প্রতিবছর এ সময় অনেক বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। এর কারণ সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে বায়ুদূষণ, বাতাসে কার্বনের পরিমাণ, লেডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া একটি বড় কারণ। যা কিনা বায়ুকে উত্তপ্ত রাখে।’

তিনি বলেন, ‘কার্বন লেডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অন্যান্য আরও যেসব উপাদানগুলো মেঘ তৈরিতে সহায়ক, সেগুলো সক্রিয় থাকে এবং বজ্রপাত বেশি হয়।’ তাহলে বায়ুদূষণ কম হলে বজ্রপাত কম হবে কিনা, প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। তবে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।’

আরও পড়ুন  করোনা টিকার জন্য আজ টাকা পাঠাবে বাংলাদেশ

দুর্যোগ ফোরামের সমন্বয়ক মেহেরুন ঝুমুর প্রভাতবেলাকে বলেন, ‘বায়ুদূষণের সঙ্গে বজ্রপাতের সম্পর্ক আছে। বাতাসে যত কার্বন যাবে, বজ্রপাতের সংখ্যা তত বাড়বে। আর বাংলাদেশে বায়ুদূষণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এছাড়া, রয়েছে গাছ ও বনাঞ্চল ধ্বংস করে ফেলা।’ বড় গাছের অভাব একটা বড় কারণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘শহরে ঘরবাড়ির সংখ্যা বেশি ও বজ্রনিরোধক থাকায়, বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা কম হয়। কিন্তু গ্রামে এই নিরোধক হিসেবে কাজ করতো যেসব গাছ, তার সংখ্যাও দিন দিন কমে যাচ্ছে বলে গ্রামাঞ্চলে বজ্রপাতে প্রাণহানি বেশি ঘটছে।’

গ্রামে বজ্রাঘাতে বেশি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে ঝুমুর বলেন, ‘আগে কৃষিতে ধাতব যন্ত্রপাতির ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। কৃষকের কাছে বড়জোড় কাস্তে থাকতো। কিন্তু এখন ট্রাক্টরসহ নানা কৃষি যন্ত্রাংশ বা মুঠোফোনের মতো ধাতব যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে গেছে। এসব ধাতব বস্তুর ব্যবহার বজ্রপাতে বেশির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করছে’।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ