৩ দাবীতে মানববন্ধন: প্রশাসন জাগবে কবে?

প্রকাশিত: 3:13 PM, January 23, 2020

৩ দাবীতে মানববন্ধন: প্রশাসন জাগবে কবে?

 

প্রতিনিধি, ঢাবি:

 

বুয়েট ছাত্র আবরারের মতো আর কত শিক্ষার্থীকে আমরা হারালে প্রশাসনের বিবেক জাগ্রত হবে। কেন প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। প্রশাসনের কাছে এ নির্যাতনের জবাব চাই। না হয় আমরা ধরে নেব প্রশাসনের হস্তক্ষেপেই ঘটনাগুলো ঘটছে।

 

 

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র নির্যাতনের ঘটনার বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত মানবন্ধনে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কবিতা এসব কথা করেন। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান করা নির্যাতিত শিক্ষার্থী মুকিম চৌধুরীর বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

 

 

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবি তিনটি হলো-

 

১। যারা এ নির্যাতনের সাথে সম্পৃক্ত তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও বহিষ্কার চাই।

২। নিরাপদ ক্যাম্পাস চাই। যেখানে স্বাধীনভাবে আমরা মত প্রকাশ করতে পারব। আমরা আমাদের মতো করে বাঁচতে চাই। ক্যাম্পাসে সেই পরিবেশ চাই।

আরও পড়ুন  ডিগ্রির ফল প্রকাশ, পাসের হার ৮৮.২০ শতাংশ

৩। আবাসিক হলে আমরা দাসের মতো কারো গোলামী করে থাকতে চাই না, হলে প্রশাসনিকভাবে সিট চাই।

 

মানববন্ধনে ঢাবি শিক্ষার্থী ফারজানা মুন্নি বলেন, এ নির্যাতন কি শেষ হবে না? আমরা ক্যাম্পাসে কি কখনো নিরাপদ হবো না? আজকে আমাদের সহপাঠীকে মারছে, আগামীকাল আমাকে মারবে, এভাবেই চলতে থাকবে। এজন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রশাসনের কাছে এই নির্যাতনের বিচার দাবি করছি। একই সাথে প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে আগামীতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে।

 

 

ফুয়াদ হোসেন নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এখানে কারো বিরুদ্ধে কথা বলছি না। এ সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যারা সম্পৃক্ত ছিল তাদের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে এসেছি। সত্যিকারের মুজিব আদর্শে যারা বিশ্বাস করে তারা কখনো সন্ত্রাসী হতে পারে না। হলের মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে অমানবিক নির্যাতন করবে, সেটা কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ হতে পারে না।

 

 

নির্যাতিত শিক্ষার্থী মুকিমুল হক চৌধুরী বলেন, প্রক্টরের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কেউ আমার পাশে এসে দাঁড়ায়নি। শুধুমাত্র হল প্রভোস্ট তদন্ত কমিটির কথা আমাকে জানিয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত বিচার না পাব ততক্ষণ আমি রাজুতে অবস্থান করব।

আরও পড়ুন  সুবিপ্রবিতে ১৬০ শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হবে প্রথম ব্যাচ

 

 

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার রাতে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলে চার শিক্ষার্থীকে আবরার স্টাইলে রাতভর নির্যাতন করে পুলিশে দেয় ছাত্রলীগ। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীরা হলেন- ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুকিমুল হক চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সানোয়ারুল ইসলাম, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ উদ্দিন, আরবি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফসার উদ্দিন। এদের মধ্যে মুকিমুল হক চৌধুরী বুধবার সন্ধ্যা থেকে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তার সাথে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছে।

 

 

প্রভাতবেলা/এমএ

সর্বশেষ সংবাদ