সিলেট | |
প্রকাশিত: 2:13 AM, May 12, 2020
মাসরুর রাসেল: গাজী বুরহান উদ্দিন সড়কে একটি রেষ্টুরেন্ট এর বারান্দায় বসে পান সিগারেট বিক্রি করতেন পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধ। তিনি স্বীকৃতিহীন মুক্তিযোদ্ধা। পান বাক্স নিয়ে বসে ব্যবসার জন্য হোটেল মালিককে একটা ভাড়া দিতেন। এখন হোটেল বন্ধ তাই ভাড়া লাগেনা। গত তিনদিন আগে পানবাক্স তালা মেরে চাবি নিয়ে গেছে পুলিশ। ৮ সদস্যের সংসার এখন কেমনে চলছে? দেখবার কেউ আছে?
পুলিশের ভাষ্য পান সিগারেট নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য নয়। পাল্টা বলার কিছু আছে? ৮ সদস্যের মুখে অন্ন যোগাবার এ ক্ষুদ্র ব্যবসা বন্ধে আইন বড় কঠোর। কিংবা যুক্তিযুক্ত। না হয় অমানবিক। এই তো।
কিন্তু এই আইন গুমরে কেঁদে মরে মেগা শপের বেলকনিতে। ‘স্বপ্ন’ মেগাশপ। উপশহর শাখা। দিনে খোলা ভেতর বাহির। রাতে শুধু ভেতর। বাহির অন্ধকার। চলে ব্যবসা। “সাধ্যের মধ্যে সবটুকু বাজার ” এই শ্লোগানেই চলছে বাণিজ্য। এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কোন বিধান নেই। ঝাড়ু থেকে শুরু করে কসমেটিকস গহণা সবই মেলে এখানে।
একজন ক্রেতার ভাষায়, রড, সিমেন্ট, ঢেউটিন, বিটুমিন, গালা বাদে সব মিলে স্বপ্নে। হ্যাঁ ইদানিং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সাথে যেন ‘কাপনের কাপড়ও’ ফ্রি দিচ্ছে স্বপ্ন।
নিত্য সামগ্রীর পাশাপাশি পোশাকও বেঁচে l এবং তাদের সংগ্রহটা অন্যান্য ফ্যাশন হাউসের মতই সমৃদ্ধ l প্রতিদিনই নতুন নতুন পোশাক ডিসপ্লে করে ঈদের বাজারে জমজমাট স্বপ্ন’র l আরো আছে ক্রোকারিজ, স্টেশনারি , কসমেটিকস , জুতো আর নানা ফ্যাশনের পোশাক এর সমাহার। এই পোশাক সামগ্রীর সংগ্রহ কোথা থেকে? ‘স্বপ্ন’র তো নিজস্ব পোশাক কারখানা নেই। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুর থেকেই এসব তৈরী পোশাকের কালেকশন করে ‘স্বপ্ন”। ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরে মহামারী করোনার বিস্তার নতুন করে বলার কিছু নেই। পোশাকে কি করোনা ভাইরাস ছড়ায়? না ছড়ালে ভাল। আর যদি ছড়ায় তাহলে দায় কার? শুধু কি তাই ক্রেতারা নাড়াচাড়া করছেন, হাত দিয়ে পরখ করছেন। কটন না সিল্ক। একজনের পর আরেকজন। পছন্দ হলে ট্রায়াল দিচ্ছেন। সাইজমত হতে কেনা ফাইনাল আর না হলে রেখে যাচ্ছেন। ডিসপ্লেতে থাকছে। আরেকজন দেখছেন, পরছেন। চলছেই হরদম। আচ্ছা করোনা কি ছোঁয়াচে নয়? না স্বপ্ন মেগাশপে করোনা ভাইরাস ঠিকতে পারেনা?
উত্তর দেবার কেউ নেই। যার কাছে জানতে চাই সে-ই বলে‘ আমি ভাই কর্মচারী’। কর্মকর্তার নাম্বারটা দেন। সরি উত্তর দিয়ে সটকে পড়ে। সোমবার দিনভর এমন দৃশ্য ‘স্বপ্ন” উপশহর শাখার।
বেপরোয়া কিছু ক্রেতাও। কথা বলতে নারাজ। এসব পোশাক কেনা বা পরিধান করা কি নিরাপদ। জ্বি, হ্যাঁ, না এসব আতেল টাইপ জবাব ছাড়া কিছু নেই।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঐ স্বীকৃতি না পাওয়া বযোবৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধার পানবাক্সের মত তো তালা মারতে পারেনা। পারার ক্ষমতা রাখেনা। কিংবা মারবেনা।
‘স্বপ্ন’ কি সিলেটের সব ব্যবসায়ী সমিতির নিয়ম নীতির বাইরে? সিদ্ধান্তের বাইরে?
ফ্যাশন হাউজ কাপড়ের ব্যবসায়ীরা সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। রোজার ঈদের জন্য। শুধুমাত্র ঈদের ব্যবসার উপর নির্ভর করে পুরো বছর চলার চেষ্টা করেন। এইবার করোনায় সিলেটবাসীর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিলেট সিটি মেয়রের আহবানে ঈদে বন্ধ ঘোষণা দেন। অপরদিকে সিলেট ব্যবসায়ীদের দেখানো পথে বাংলাদেশের অনেক জেলায় ব্যবসায়ীরা ঈদে দোকান বন্ধ রাখছেন।
কিন্তু সুপার শপের দোহাই দিয়ে ‘স্বপ্ন’ দেদারছে সব পণ্য বিক্রি করছে। বিশেষ করে পোশাক সামগ্রী বিক্রির মাধ্যমে বাস্তবে কি করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে ‘স্বপ্ন’ ? এ প্রশ্ন সিলেটবাসীর|

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি