ছাতকে প্রতিবন্ধী পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২০

ছাতকে প্রতিবন্ধী পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন

জুনেদ আহমদ রুনু, ছাতক: ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের বরাটুকা হাসনাবাদ গ্রামের প্রতিবন্ধী আজাদ মিয়ার পরিবার সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন ।

এমনকি স্থানীয় চেয়ারম্যান-মেম্বারের দ্বারে দ্বারে ধর্ণা দিয়েও সামান্য সহায়তা বা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন না পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী এই পরিবার।

করোনা মহামারিতে কর্মহীন হয়ে পড়া এই পরিবারের দু’জন দিলোয়ার (২৩) ও ডালিম (১৮) এতদিন দিনমজুরের কাজ করে চরম অভাব অনটনের মাঝেও সংসারের হাল ধরেছিলেন কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিবন্ধী পরিবারটি একটু সরকারি সহায়তা বা সামর্থবানদের দিকে থাকিয়ে আছে ।

৬ সদস্যের এই পরিবারে পিতা, ফুফু ও আপন বড় ভাই প্রতিবন্ধী । অভাব- অনটন নিত্য সঙ্গী । তার মাঝে করোনা ভাইরাসের মহামারি । এ যেন মড়ার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে এসেছে ।
সেহরি আর ইফতারে মুড়ি আর পানি খেয়ে রোজা রাখছেন- এমনটাই জানালেন প্রতিবন্ধী আজাদ মিয়ার পুত্র দিলোয়ার ।

তিনি আরো বলেন- ফুফু আবছেরি বেগম (৫৮) জন্মের পর ভালোই ছিলেন কিন্তু তরুণী বয়সে অসুস্থ্য হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন । একই দশা আজাদ মিয়ারও । কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের পঙ্গু কিংবা প্রতিবন্ধী মানতে নারাজ ।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজে ধীরগতি

তাদের অভিযোগ, পঙ্গু ও প্রতিবন্ধী হয়েও সরকারের দেয়া প্রতিবন্ধী ভাতা বা সরকারি সহায়তা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। যদিও সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয় থেকে দাবি করা হয় যে, তাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধী তথ্য সংগ্রহের কাজ করেছে। তবে, আজাদ মিয়ার পরিবারের ভাষ্য, বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রতিবন্ধীদের তথ্য সংগ্রহ করার কথা থাকলেও প্রকৃত অর্থে কেউ তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে যাননি বরং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাই মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে আবেছরি এ প্রতিনিধিকে বলেন, “বাড়িত আইয়া পঙ্গু ও প্রতিবন্ধীর লিস্ট যদি করতো, তাইলে তো আমরা বাদ পড়তো না। যদি সারা গেরামের হকল ঐ প্রতিবন্ধী হইতো, তাইলে বুঝতাম যে ভুলে হয়তো আমাদের ৬ সদস্য পরিবারে নাম বাদ পড়ছে। আমরার গেরামো আছেই মাত্র কয়েকজন প্রতিবন্ধী । এর মধ্যে এক পরিবারে ৩ জনে নাম বাদ পরে কেমনে?

প্রতিবন্ধী আজাদ মিয়া বলেন, “চেয়ারম্যান-মেম্বার ২ জনরেই কইছি আমার পোলারে একটা প্রতিবন্ধী কার্ড দেয়ার জন্যে। তারা দেইন না । কইন আমার বুলে প্রতিবন্ধী না। ৬ জনের সংসার । তার পুত্র ডালিম হোসেন দিনমজুর কাজ। কইরা যে টেকা পাইন, ইতা দিয়া সংসারই চলে না। আমরা গরিবরে তারা চোখে লাগে না।

আরও পড়ুন  সুনামগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান জেলহাজতে

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ১৬ মে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকতা বরাবরে আজাদ মিয়ার পরিবারের পক্ষে একটি লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকতা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিধি মোতাবেক প্রতিবন্ধি ভাতায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সুপারিশ করা হলেও তাদের নাম  তালিকাভুক্ত করা হয়নি।

প্রতিবন্ধী এ পরিবারের দুর্ভোগ-দুর্দশার খবর পেয়ে গত রোববার দুপুরে পঙ্গু ও প্রতিবন্ধি পরিবারের প্রতি মানবতার হাত বাড়িয়েছেন ছাতক প্রেসক্লাব সভাপতি আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দিন তালুকদার । এসময় খাদ্য সামগ্রী প্রদান ও তাদের দুর্দশার কথা শোনেন করেন ছাতক প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আনোয়ার হোসেন রনি, যুন্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম হিরন, সাংবাদিক হাসান আহমদ, আজিজুর রহমান ও প্রভাতবেলা প্রতিনিধি জুনেদ আহমদ রুনু ।

এদিকে ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম কবির, তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে ১০ কেজি চালসহ নগদ কিছু টাকা প্রদান করেন । এছাড়া আলীগঞ্জ ইসলামী সমাজকল্যান পরিষদের প্রতিষ্টাতা সভাপতি উবায়দুল হক শাহীন নগদ একহাজার টাকা ও ইউপি মেম্বার সাজুর মিয়া পাচঁশত টাকা সহায়তা প্রদান করেছেন।

এব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আওলাদ হোসেনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ