হলে আর শিবির কে কে আছে ?

প্রকাশিত: ৮:৪৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৩, ২০২০

হলে আর শিবির কে কে আছে ?

‘হলে আর শিবির কে কে আছে?’

জানতে চায় অনিক ও ইফতি। সাক্ষ্য প্রদানকালে বলেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবু নওশাদ সাকিব ।

আদালত প্রতিবেদক,ঢাকা♦ বাংলাদেশ প্রকৌশল  বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ রাব্বী (২২) হত্যা মামলায় ২৫ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বুয়েট শিক্ষার্থী আবু নওশাদ সাকিব।

মঙ্গলবার (১ নভেম্বর) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু জাফর মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের আদালতে এই সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।

সাক্ষ্যে বুয়েট শিক্ষার্থী আবু নওশাদ সাকিব বলেন, “আমি ঘটনাস্থলের কক্ষে রাত ৯টায় প্রবেশ করি। সেখানে প্রবেশের পর অনিক সরকার ও ইফতি সকাল আমাকে বলে, ‘হলে আর শিবির কে কে আছে?’

 

‘তারপর আমি হলে চলে গিয়ে ভাত ‌ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। পরে জানতে পারি, আবরারকে কে বা কারা মারছে। পরে শুনতে পাই, অনিক সরকার, ইফতি সকাল ও জিয়ন তারা আবরারকে মেরেছে। এই আমার জবানবন্দি’, যোগ করেন আবু নওশাদ সাকিব।

সংশ্লিষ্ট আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবু আবদুল্লাহ মিঞা প্রভাতবেলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিচারক আগামী ৮ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন।

 

গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের একটি কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা।

আরও পড়ুন  ইজরায়েলী বর্বর গণহত্যার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানঃ ফখরুল

 

মামলার ২৫ আসামি

মামলায় আসামিরা হলেন—বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুহতামিম ফুয়াদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. অনিক সরকার ওরফে অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন ওরফে শান্ত, আইনবিষয়ক উপসম্পাদক অমিত সাহা, উপসমাজসেবাবিষয়ক সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, গ্রন্থ ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ইশতিয়াক আহম্মেদ মুন্না, কর্মী মুনতাসির আল জেমি, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভীর, মো. মুজাহিদুর রহমান, মো. মনিরুজ্জামান মনির, আকাশ হোসেন, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মো. মাজেদুর রহমান মাজেদ, শামীম বিল্লাহ, মুয়াজ ওরফে আবু হুরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, আবরারের রুমমেট মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মোর্শেদ অমত্য ইসলাম, এস এম মাহমুদ সেতু, মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ।

 

আসামিদের মধ্যে মুহাম্মদ মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল ওরফে জিসান, এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও মুজতবা রাফিদ পলাতক। বাকি ২২ জন গ্রেপ্তার আছেন। এ মামলায় আটজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন  টাঙ্গাইলে শিক্ষাসফরের তিন বাসে ডাকাতি

মামলার বিবরণ

গত বছরের ১৩ নভেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ওয়াহিদুজ্জামান ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি এ মামলার বিচারকাজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর জন্য ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটরের (পিপি) কার্যালয়ে আবেদন করেন নিহত আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। ১২ মার্চ আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক আবরার হত্যা মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর ফাইল অনুমোদন করেন।

 

কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মামলার বিচারকাজ বেশ কিছুদিন বন্ধ থাকে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর এ মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন আদালত এবং বিরতিহীন সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর অংশ গত ২০ সেপ্টেম্বর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু বাদী আবরারের বাবা মো. বরকত উল্লাহ জন্ডিসে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ থাকায় ওই সময় সাক্ষ্য দিতে পারবেন না বলে সময়ের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ৫ অক্টোবর দিন রাখেন। এদিন থেকেই মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ