সিলেট ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ২, ২০২১
বিশ্বভূবন ডেস্ক:
নন্দীগ্রামে চূড়ান্ত রাউন্ডের গণনা শেষে শেষ হাসি হেসেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৬ রাউন্ড ভোট গণনার শেষে মাত্র ৬ ভোটে শুভেন্দু অধিকারীর চেয়ে পিছিয়ে পড়েন তিনি। চূড়ান্ত রাউন্ড গণনার শেষে পশ্চিমবঙ্গের হট সিট হিসেবে খ্যাত এই আসন জিতে নেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘মাননীয়াকে হাফ লাখ ভোটে হারাব। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর স্ট্যাম্প তৈরি করে রাখুন।’ তবে রোববার ফল গণনার পর সেই চ্যালেঞ্জে হারতে হলো শুভেন্দুকে। সাবেক দলনেতার কাছে ১২০১ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তিনি।
সকালের দিকে গণনায় শুভেন্দু অধিকারী এগিয়ে ছিলেন। দুপুরের আগে দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান আট হাজারে পৌঁছে যায়। তবে এরপরই ব্যবধান কমে এক লাফে চার হাজারে নেমে আসে। দুপুরের পর থেকে এগিয়ে যেতে শুরু করে মমতার শিবির। বিকেলে ১৭ রাউন্ডের গণনা শুরুর পর ৬০০ ভোটে এগিয়ে থাকতে দেখা যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
মমতাকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্যুইট করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি লিখেছেন, ‘বাংলা জয়ের জন্য দিদিকে অভিনন্দন, মুখ্যমন্ত্রী পদে পরবর্তী মেয়াদের জন্য শুভেচ্ছা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।’
কলকাতাভিত্তিক আনন্দবাজার পত্রিকা ও এবিপি আনন্দের হিসেবে ক্ষমতাসীন তৃণমূল বর্তমানে ২০৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর মোদি-অমিত শাহের ব্যাপক প্রচারণার পরও বিজেপি এগিয়ে আছে মাত্র ৭১ আসনে।
গত বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি বিজেপিতে যোগ দেন রাজনীতিতে মমতার হাতে গড়া শুভেন্দু অধিকারী। তার পর লাগাতার মমতা ও তার ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যান তিনি। সেই তুলনায় তৃণমূল অনেকটাই স্তিমিত ছিল। তবে অধিকারীদের সঙ্গে সম্পর্কের শেষ পেরেক পোতেন মমতাই। নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, সেখান থেকেই ভোটে লড়বেন তিনি।
তার পরই নীলবাড়ির লড়াইেয় বাংলার রাজনীতির যাবতীয় সমীকরণ উল্টে যায়। ১০ মাস আনুষ্ঠানিক ভাবে নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন মমতা। ওই দিনই নন্দীগ্রামে আক্রান্ত হন মমতা। পায়ে আঘাত পান। তা নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে।
১২ মার্চ নন্দীগ্রাম থেকে বিজেপির হয়ে মনোনয়ন জমা দেন শুভেন্দু। তার পর থেকে বিজেপি-র হেভিওয়েট নেতারা শুভেন্দুর হয়ে সেখানে সভা করে এসেছেন। সেই তুলনায় নন্দীগ্রামে তৃণমূলের সভা ছিল মমতা-সর্বস্বই। এমনকি ১ এপ্রিল নন্দীগ্রামে যে দিন ভোটগ্রহণ, সেদিন সেখানে থাকলেও, শুভেন্দুর মতো সকাল থেকে বুথে বুথে ঘুরতে দেখা যায়নি তাঁকে। বরং দুপুরে বয়ালে ঝামেলার খবর পেয়ে প্রথম বাইরে বেরোন মমতা। বয়ালে তাঁকে দেখএ আবেগের বাঁধ ভাঙে স্থানীয়দের। বিজেপি ভোটলুট করছে বলে তাকে জানান গ্রামবাসীরা।
অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দুই ঘণ্টা বুথের ভিতর বসেছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁকে তাচ্ছিল্য করে শুভেন্দু বলেন, ‘খেলা তো হয়ে গিয়েছে। ৮০ শতাংশ ভোট পড়ে গিয়েছে। এখন আর কী করবেন।’ কিন্তু নন্দীগ্রামে ভোটের খেলায় মমতার কাছেই শেষমেশ গোল খেতে হল তাকে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি