সিলেট ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৩
দেশব্যাপী টানা তিন দিনের সর্বাত্মক অবরোধের শেষ দিন আজ। নীতিনির্ধারকদের মতে, পনেরো নভেম্বরের মধ্যে যে কোনো সময় দ্বাদশ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হতে পারে। তাই এখন পেছনে ফেরার কোনো উপায় নেই। ‘ডু অর ডাই’ মনোভাব নিয়েই কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে। আবার আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়েও তারা হাইকমান্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে ‘অসহযোগ’ নাম দিয়ে দেশব্যাপী অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, সরকারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাজপথ ছাড়বে না। কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমেই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা হবে। মহাসচিব বলেছিলেন আন্দোলনের মহাযাত্রা শুরুর কথা। সেটিই শুরু হয়েছে।
বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ১৫ বছর ধরে দেশের মানুষ সরকারের হাতে নির্যাতিত। এবার যখন জনগণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে, নিরস্ত্র হাতে প্রতিবাদ জানাচ্ছে, তখন সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা এখন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন। বাসাবাড়িতে থাকতে পারছেন না। তবুও এবার তারা সরকারের পতন নিশ্চিত করতে নানা কৌশলে হরতাল-অবরোধ পালন করছেন। শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করে আন্দোলন দমানো যাবে না। কারণ একজন গ্রেফতার হলে বিকল্প আরেকজন নেতৃত্ব দেবেন।
সূত্রমতে, কর্মসূচি সফলে একটি গুচ্ছ পরিকল্পনা ইতোমধ্যে হাইকমান্ডকে দেওয়া হয়েছে। গত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ পরিকল্পনা দিয়ে হাইকমান্ডকে জানানো হয়, সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য চেষ্টা করবে এটাই স্বাভাবিক। এজন্য নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, সাজা দেওয়াই হচ্ছে তাদের শেষ অস্ত্র। স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতাদের গ্রেফতার করা হলেও কোনো সমস্যা নেই। আর কোনো বৈঠক না হলেও চলবে। একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, কর্মসূচি সফলে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। নানা ধাপে নেতাদের নেতৃত্ব, করণীয়সহ নানা বিষয়ে ইতোমধ্যে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তৃণমূলে বার্তা দেওয়া হয়েছে, যে কোনো জায়গার নেতৃত্বে থাকা নেতা গ্রেফতার হলে পরবর্তী নেতা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেবেন।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে গত ৭ দিনে গ্রেফতার করা হয়েছে ৪২৮৩ জনের অধিক নেতাকর্মী।
মিথ্যা মামলা হয়েছে ৮০টির অধিক। মৃত্যু হয়েছে একজন সাংবাদিকসহ ৯ জনের। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সরকার আবারও দেশে একটি একদলীয় নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। এজন্যই তারা বিএনপিসহ বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেফতার-নির্যাতনের পথ বেছে নিয়েছে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপির সক্রিয় নেতাদের টার্গেট করে নতুন নতুন মামলা দিচ্ছে। নেতাকর্মীদের মাঝে ভীতি সৃষ্টির লক্ষ্যে এসব করছে। মামলা-হামলা-গ্রেফতার করে ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করা যাবে না। জনগণ এবার তাদের ভোটাধিকার রক্ষায় ছাড় দেবে না।
জামালপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামীম বলেন, ২৮ অক্টোবরের পর পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা একজোটে বাড়িঘরে অভিযান চালাচ্ছে। এসব করেও একদফার আন্দোলন ঠেকানো যাবে না। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষিত কর্মসূচি পালন করছে। বাড়িঘরে যেতে না পারলেও তারা এলাকায় রয়েছেন।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি