সিলেটের ক্রিকেটের স্বার্থে ক্লাবের সুনাম রক্ষা করা উচিত ─ অলক কাপালি

প্রকাশিত: ৩:৪৬ অপরাহ্ণ, মার্চ ১১, ২০২৪

সিলেটের ক্রিকেটের স্বার্থে ক্লাবের সুনাম রক্ষা করা উচিত ─ অলক কাপালি

 

 

 

অলক কাপালি ─ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম হ্যাট্টিক করার রেকর্ড করেছেন। অ্যাশিয়া কাপে ইন্ডিয়ার বিপক্ষে করাচিতে তাঁর ৮৬ বলে করা শতক সেই সময়ে বাংলাদেশের হয়ে করা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম শতক ছিলো। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এক মৌসুমে দু’টি দ্বিশতক করার কীর্তিও গড়েছেন সিলেটের বাগবাড়িতে জন্ম নেওয়া এই ‘স্টাইলিশ’ ক্রিকেটার।

 

মাহা ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগ ২০২৩-২৪’র শিরোপা জয় করেছে অলক কাপালির নেতৃত্বাধীন বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র। এটিআর গ্রুপ ৩ বছরের জন্যে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রের ক্রিকেট দল পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে। সিলেটের ক্রিকেট এবং লিগ আয়োজন নিয়ে দৈনিক প্রভাতবেলার প্রতিবেদন তানজীল শাহরিয়ারের সঙে খোলামেলা আলাপ করেছেন অলক কাপালি।

 

ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সঙে লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলার পর স্টেডিয়ামে প্রতিবেদকের সঙে সাক্ষাৎকারে অলক কাপালি যা বলেছেন তা তুলে ধরা হলো ─

 

আপনি একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসাবে এবারের লীগ কেমন হয়েছে মনে করেন, আগামিতে লিগে কী কী করলে আরো ভালো হবে বলে মনে করছেন ––

 

অলক কাপালি : এই বছর যেভাবে লিগ হয়েছে প্রতি বছর এইভাবে লিগটা যদি করা যায়, অনেক সময় দেখা যায় রেলিগেশন ছাড়া লিগ, গ্রুপ লিগ, তখন ম্যাচের সংখ্যা কমে আসে, এমনিতেই ক্রিকেটাররা ম্যাচ কম খেলছে, এই জিনিসটা ক্রিকেটারদের জন্য খারাপ! আমার মনে হয় প্রতি বছর একটা শিডিউল করা উচিত, অক্টোবর-নভেম্বরের দিকে যদি লিগ আয়োজন করা যায়, তাহলে প্রথম বিভাগ লিগ শেষ করে দ্বিতীয় বিভাগ লিগটাও সুন্দরভাবে করা যাবে। এবার যে সময়ে লিগ শুরু হয়েছে, পরের বার যদি একটু আগে শুরু করা যায় আরো ভালো হবে।

 

আমার মনে হয় প্রতি বছর ফ্ল্যাট লিগ হওয়া উচিত।

 

প্রতি মৌসুমেই দেখা যায় পৃষ্ঠপোষকের অভাব, লিগ স্পন্সর করতে আগ্রহীদের সংখ্যা কম, এবারের লিগে অবশ্য স্পন্সর রয়েছে, আপনাদের দল বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রও বেশ কয়েকটা স্পন্সর পেয়েছে দেখা যাচ্ছে, আপনারা নিশ্চয়ই অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙে কথা বলেছেন, ক্রিকেট লিগে স্পন্সর না আসার কারণ কী?

 

অলক কাপালি : আমরা অনেকের কাছে গিয়েছি, সবারই জিজ্ঞাসা ছিলো এখান থেকে আমাদের বেনিফিট কী? আমাদের কাছে এর উত্তর নেই! লিগটা যদি লাইভ করা হতো, আমি বলছি না যে টিভি চ্যানেলে লাইভ করতে হবে, ফেসবুক, ইউটিউবে এখন লাইভ করা যায়, সেখানে পৃষ্ঠপোষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহন করা, তাদের প্রতিষ্ঠানকে হাইলাইট না করলে তারা স্পন্সর করতে আসবে কেনো?

 

ডিএসএ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানকে যদি হাইলাইট করার ব্যবস্থা নেয়, ম্যাচের দিন তাদেরকে খেলা দেখার জন্য এবং মধ্যাহ্নভোজের আমন্ত্রণ জানায়, ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অনুষ্ঠানের অতিথি রাখা হয়, আমরা দেখেছি এনসিএল, বিসিএল-এ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা আসেন পুরষ্কার দিতে, এই সুযোগটা মনে হচ্ছে কম, এগুলোর দিকে আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রচারণা আরো বেশি হওয়া দরকার এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

 

সব মিলিয়ে এবারের লিগ কেমন হয়েছে? উইকেট, প্রতিপক্ষ, সার্বিক ব্যবস্থাপনা কেমন লেগেছে আপনার কাছে?

 

অলক কাপালি : একটা বিষয় হচ্ছে প্লেয়ার না ওঠার কারণ হচ্ছে আমাদের লিগ, টুর্নামেন্ট এগুলো কম হওয়া, আপনি দেখবেন যারা পারফর্ম করছে প্রায় সবাই সিনিয়র প্লেয়ার। আমি যখন পারফর্ম করবো তখন কেনো আমি ক্রিকেট ছাড়ার চিন্তা করবো? যখন দেখবো যে আমার সঙে টক্কর দেওয়ার মত প্লেয়ার এসেছে তখন আমি হয়ত চিন্তা করবো, এরকম প্লেয়ার আমি খুব কম দেখছি, আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে আরো কাজ করা উচিত।

 

জেলা দল, অনূর্ধ্ব ১৮, ১৬ –– এইসব দল নিয়ে আরো কাজ করলে ভালো, আমাদের এখানে কিন্তু বেশ কিছু ক্রিকেট অ্যাকাডেমি রয়েছে, আমাদের এখানে অনেক প্রথম শ্রেণী খেলা ক্রিকেটার রয়েছে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৭-৮ হাজার রান করা ক্রিকেটার আছে। এদেরকে প্রশিক্ষণে যুক্ত করতে হবে। আমরা অ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে নই, শুধুমাত্র ‘ব্যবসায়িক’ চিন্তা না করে বরং ভালো একজনকে নিয়ে আসা, আমাদের যেমন তান্না আছে, প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অনেক বছর ধরে খেলছেন, টপ অর্ডারে ব্যাটিং করেন। তাকে কাজে লাগানো যায়, আমাকেও ডাকা যায়। এমন অনেকেই আছে তাদেরকে কাজে লাগাতে হবে। এসব নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে।

 

মাসে এক দুইবার যদি বিশেষ সেশন রাখা হয় তাহলে ব্যাসিকগুলো তারা শিখতে পারলো। তান্নার কাছ থেকে কিছু শিখতে পেরে মাঠে করে দেখাতে পারলে তাদেরও ভালো লাগবে। অ্যাকাডেমির কাছে অনুরোধ থাকবে ‘সম্মানী’ দিয়ে ভালো যদি ক্রিকেটারদের যুক্ত করা যায়, তাহলে অ্যাকাডেমি থেকে অনেক প্লেয়ার উঠে আসবে, ভালো জায়গায় যেতে পারবে।

 

আরও পড়ুন  আরিফ-কামরানের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ড্র

আপনাদের মত সিনিয়র ক্রিকেটাররা যদি প্রশিক্ষণে আসেন, এটা নবীন ক্রিকেটারদের জন্যে অনুপ্রেরণাদায়ক হবে, তান্না, অলক কাপালিদের মত ক্রিকেটার যারা ২০-২২ বছর ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলছেন, তাঁদের সান্নিধ্যে এলে ক্রিকেটারদের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ী হবে মনে করেন?

 

অলক কাপালি : অবশ্যই, এটা তাদের জন্য খুব ভালো হবে।

 

ক্লাব কর্মকর্তাদের ভূমিকা অতীত এবং বর্তমানের প্রেক্ষাপটে কেমন বলে মনে হচ্ছে?

 

অলক কাপালি : আমরা দেখেছি একসময় জাকির ভাই (জিমখানা ক্লাব), জাবু ভাই (অনির্বাণ ক্রীড়া চক্র, বীর বিক্রম ইয়ামিন ক্রীড়া চক্র), লায়েক ভাই (মোহামেডান), মুশতাক ভাই (মোহামেডান) বড়ো বড়ো দল চালিয়েছেন। এখন ক্লাব কর্মকর্তা আগের মত দল পরিচালনায় যুক্ত থাকেন না। যদি সিলেটের চিন্তা করেন তাহলে দলগঠনে তাদের আরো জোরালো ভূমিকা পালন করা উচিত।

 

যেমন অনির্বাণ ক্রীড়া চক্র, সিলেটে তাদের একটা আলাদা সুনাম রয়েছে। এবারের লিগে তারা ৬-৭টা ম্যাচে ১০০ রানের কমে অলআউট হয়েছে। এসব শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছে। আমি নিজেও এই দলে খেলেছি, সেই দলের আজ কেনো এই দশা হবে?

 

আমার অনুরোধ থাকবে, অনির্বাণ বড়ো ক্লাব, বড়ো নাম, আমি বলছি না যে তাদেরকে শিরোপা জেতার জন্য দল করতে হবে, কিন্তু, একটা ভালো দল যদি করেন, দেখতে ভালো লাগবে। এই ক্লাবে আমি নিজেও খেলেছি, আমি যখন দেখি এই ক্লাব ৫০ রানে অলআউট হয়ে যাচ্ছে তখন আমার কাছে খারাপ লাগে।

 

মোহামেডান, জিমখানা প্রতি মৌসুমেই ভালো দল গড়ে। আরো যদি দুইটা ক্লাব ভালো দল করে। ৬টা দল যদি ভালো দল গড়ে তাহলে খেলায় আরো প্রতিদ্বন্দিতা হবে। খেলার মানও বাড়বে।

 

অফ-সিজনে নবীন ক্রিকেটারদের অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল, বিভাগীয় দলের ক্রিকেটাররা সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুশীলন করার সুযোগ পান। সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শুষ্ক মৌসুমে মাঠে, বর্ষার সময় ইনডোরে অনুশীলন করে ক্রিকেটাররা। কিন্তু, ক্রিকেটারদের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে অনুশীলনের সুযোগ-সুবিধা সেভাবে বাড়ছে না। নবীন ক্রিকেটাররা এই সমস্যা বেশি মোকাবেলা করছে, এটা নিয়ে কী করা যায়?

 

অলক কাপালি : আমার মনে হয় এক্ষেত্রে আমাদের বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার আরো এগিয়ে আসা উচিত। বিভাগ এবং জেলাকে ‘এক’ করে চিন্তা করা উচিত। আমি নিজেও অনেক সময় দেখেছি যে আমরা বিভাগীয় দলের ক্রিকেটাররা অনুশীলন করতে পারলেও জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটাররা অনুশীলন করতে পারছে না। কারণ, তারা বিভাগীয় দলে খেলেনি!

 

আমার মনে হয়, আমাদের তো এখন দুইটা মাঠ আছে। মূল মাঠ সবসময় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু অ্যাকাডেমি মাঠ যেটা রয়েছে, সেখানে ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে অনুশীলন করার সুযোগ দেওয়া উচিত, সিলেটের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য, আরো ক্রিকেটার গড়ার জন্য এই মাঠ ব্যবহার করার সুযোগ দিতে হবে।

 

এক্ষেত্রে ডিভিশনকে এগিয়ে আসতে হবে। তারা যদি সাহায্য না করেন তাহলে ভালো প্লেয়ার উঠে আসবে না। আমরা যখন প্রথম বিভাগ লিগ খেলেছি, তখন প্রচুর অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছি। এখন অনেক ক্রিকেট অ্যাকাডেমি হয়েছে। মাঠে প্রচুর ক্রিকেটার থাকে। ফলে, অনুশীলন করার সুযোগ কমে এসেছে।

 

আমার মনে হয় ডিভিশন থেকে যদি একটা সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, অ্যাকাডেমি মাঠের ৩০ গজ বৃত্তের বাইরে অনুশীলন করতে পারবে, ডিভিশন থেকে যদি এই সাহায্য করা হয় সেটা প্লেয়ারদের জন্য খুব ভালো হবে।

 

সিলেট থেকে প্রচুর পেস বোলার উঠে আসছে। রাহি, খালেদ, সাকিব জাতীয় দলে খেলেছে, রাজাও টেস্ট স্কোয়াডে ছিলো। কিন্তু, ব্যাটাররা খুব সংগ্রাম করছেন, জাতীয় লিগেও সেটা দেখা গেছে। এবারের সিলেট লিগে আপনি ৯টি ম্যাচ খেলেছেন, লিগেও ব্যাটাররা ভালো করতে পারেননি। ব্যাটারদের কেনো সমস্যা হচ্ছে?

 

অলক কাপালি : সমস্যা হলো নেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ কম। আমি এসে দেখি যে ব্যাটাররা নকিং করছে, নেট প্র্যাকটিস করা এক জিনিস আর নকিং করা আলাদা। নেটে আমরা সাধারণত ‘ম্যাচ’ খেলার পরিস্থিতি চিন্তা করে অনুশীলন করি। আমি আউট হবো না এটা মাথায় থাকে। নকিংয়ে সেই সুযোগটা নাই!

 

আমাদের জেলা স্টেডিয়ামে বেশ কয়েকটা উইকেট আছে, কংক্রিটের উইকেটও আছে। এইগুলোকে আরো ভালো করা উচিত। কংক্রিটের উইকেটটাও প্রস্তুত করে রাখা যায়। এগুলোতে যত বেশি ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলন করবে ততই কিন্তু উন্নতি হবে। একজন ব্যাটার সরাসরি ম্যাচে নেমে ব্যাটিং করছে। এর আগে খুব বেশি ব্যাটিং করার সুযোগ নাই। কারণ নেটগুলো সব ঠিক না।

 

যদি নেটের উইকেটগুলো আরো ভালো করা যায়, কংক্রিটের আরো একটা উইকেট আছে, সেটাও ঠিকঠাক করে যদি নেট দিয়ে ঘিরে রাখা যায়, তাহলে অনুশীলনের জন্য ভালো হবে। আমরাও কিন্তু পাকা উইকেটে নেট প্র্যাকটিস করে আজকের এই জায়গায় আসছি। আমার মনে হয় যত বেশি নেট করবে তত ভালো, কিন্তু, সেই সুযোগটা নাই। যার কারণে পেস বোলার বেশি উঠে আসছে।

আরও পড়ুন  ২৯ বছর পর সেমিফাইনালে ডেনমার্ক

 

একজন পেস বোলার একটা জায়গায় বোলিং প্র্যাকটিস করতে পারে, খুব বেশি জায়গা লাগে না। একজন ব্যাটারকে ভালো করতে হবে প্রচুর নেট করতে হবে, নেট করার সুবিধাটা বাড়াতে হবে।

 

আগে অনেক ক্লাব কর্মকর্তা মাঠে আসতেন। আমরা দেখেছি জাকির ভাই, মুশতাক ভাই, জাবু ভাই মাঠে আসতেন, এবার শুধু একটা ম্যাচে –– জিমখানা-বঙ্গবীর ম্যাচে মাঠে দুই ক্লাবের কর্মকর্তাদের আমরা দেখেছি। এখন ক্লাব কর্মকর্তারা খুব একটা আসেন না। ক্রিকেটাররা ‘পেমেন্ট’ নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙে কথা বলার তেমন সুযোগ পাচ্ছেন না। প্রত্যাশানুযায়ী ‘পেমেন্ট’ না পাওয়ায় হতাশাও আছে। ক্লাব কর্মকর্তাদের মাঠে আসা, ক্রিকেটারদের সঙে পারস্পরিক যোগাযোগ, পেমেন্ট নিয়ে চিন্তা করা, এসব নিয়ে আপনার মতামত কী?

 

অলক কাপালি : এবারে আমরা যে দল করেছি তার একটা উদ্দেশ্য ছিলো। প্রতি বছরই দেখি যে পুলের কিছু প্লেয়ার থাকে যারা দল পায় না, আমি এবছর সহজেই দল পেতাম। এবার আমি যেটা করেছি, যখন যাকে সুযোগ পেয়েছি তাকে খেলিয়েছি। আমার সিলেটি প্লেয়ার যদি লিগ খেলতে না পারে, তাহলে কেনো এই পুল করা? আমি পুল দেবো ঠিক আছে, কিন্তু, আমার সিলেটি প্লেয়ার সবাই যেন খেলতে পারে।

 

যেমন আমি সাকিবকে খেলিয়েছি, রাজাকেও খেলানোর ইচ্ছা ছিলো। সাকিবকে খেলানোর উদ্দেশ্য ছিলো যদি একটা ব্যাটার সাকিবের বল ভালো খেলতে পারে, তাহলে তার আত্মবিশ্বাস বাড়বে যে আমি জাতীয় দলের একজন বোলারের বিরুদ্ধে ভালো খেলেছি।

 

কেউ যদি রাহির বল মোকাবেলা করে ভালো ব্যাটিং করে, তাহলে বলতে পারবে যে আমি রাহির বলে ভালো ব্যাটিং করেছি।

 

আমার মূল উদ্দেশ্য ছিলো আমি যদি ১৫টা প্লেয়ার নেই, তাহলে অন্যান্য দল আরো ১৫টা প্লেয়ার নিতে পারবে। এ কারণেই এবার দলগঠনে আমার আসা। অনেদিন যাবত যারা ভালো দল করছেন, তাদেরও উচিত যে প্রতি বছর একটা ভালো দল করা।

 

আমরা যখন স্পন্সরদের কাছে গিয়েছি, বলেছি যে আমরা পরিবর্তন আনতে চাই। স্পন্সরদেরও খুব আগ্রহ আছে। তারা বলছে যে সব তো আগের মত নাই, লিগ তো জমজমাট হয় না। আমরা বলেছি এবার চ্যাম্পিয়ন হবার চেষ্টা করবো। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিলো যে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারবো। আমরা সবাইকে বলেছি যে আমরা চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইট দেবো। আমাদের যে লক্ষ্য ছিলো সেটা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

 

সিলেটে অনেক বড়ো বড়ো কোম্পানি রয়েছি, তাদেরকে যুক্ত করা গেলে স্পন্সরের অভাব হবে না। সিলেটে অনেক বড়ো বড়ো মানুষ আছে। ডিএসএ যদি তাদেরকে স্পন্সরশিপে যুক্ত করতে পারে, তাদেরকে যদি জায়গা করে দেওয়া যায়, তাহলে সিলেটের লিগ সেরা একটা লিগ হবে। ঢাকা লিগের পরেই সিলেটের লিগের অবস্থান হবে। এসব নিয়ে বেশি কাজ করা উচিত ডিএসএ’র।

 

আপনারা শুরু থেকেই শিরোপা জেতার লক্ষ্যে দল গড়েছেন। স্থানীয় ক্রিকেটার, বহিরাগত ক্রিকেটারদের নিয়ে দল সাজিয়েছেন। মোহামেডান এবং জিমখানা ছাড়া আর কেউ এবার শক্তিশালী দল গড়েনি। আমরা ১০-১২ বছর আগেও দেখেছি লিগে ৫-৬টা ক্লাব লড়াই করার মত দল করতো, এখন সেরকম দেখা যায় না, এর কারণ কী?

 

অলক কাপালি : আসলে, জাকির ভাই যখন ছিলেন উনি চিন্তা করেন নাই যে পরে কী হবে, উনি চিন্তা করেছে যে আমার টিমটা চ্যাম্পিয়ন করবো। জিমখানার যে একটা সম্মান, আমি বহু বছর জিমখানায় খেলেছি। আমার মনে হয় আমাদের যারা অফিশিয়াল আছেন, যদি সিলেটের ক্রিকেটকে ‘বাঁচাতে’ চান তাহলে একটা জায়গায় আসা উচিত। আমার কী ফায়দা হবে এটা চিন্তা না করে সিলেটের ক্রিকেটের স্বার্থে ক্লাবের সুনাম রক্ষা করা উচিত। ক্লাবের তো একটা কাঠামো আছে। অনেকেই কিন্তু আছে যারা ক্লাব কিনতে আগ্রহী, কিন্তু পাচ্ছেন না।

 

আমার মনে হয় যারা ক্লাব নিয়ে আগ্রহী তাদের ক্লাবে যুক্ত করা উচিত, তাদেরকে একটা পার্সেন্টেজ দিয়ে যুক্ত করা যায়। তাদেরকে দলগঠন করার সুযোগ দেওয়া উচিত।

 

আমরা তিন বছরের চুক্তি করে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্র ক্লাব পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। অনেকেই বলেছেন ক্লাব কিনে নিচ্ছি না কেনো। আসলে কেউ তো ক্লাব বিক্রি করছেন না। ক্লাবগুলোর প্রতি আমার আহ্বান থাকবে যদি পেমেন্ট নিয়ে সমস্যা হয়, আমার মনে হয় ২৫ বা একটা পার্সেন্টেজ দিয়ে কিভাবে তাদের যুক্ত করা যায় ভাবা। এটা তো আসলে উন্নতির জন্য। সিলেটের ক্রিকেটকে ‘বাঁচানোর’ জন্য আগ্রহীদের সঙে বসা উচিত।

 

এবারের লিগে চ্যাম্পিয়ন হবার জন্য অভিনন্দন

অলক কাপালি : আপনাকেও ধন্যবাদ

 

 

 

সর্বশেষ সংবাদ