সাজেকে ৫ ঘণ্টায় পুড়ে ছাই শতকোটি টাকার সম্পদ

প্রকাশিত: ৯:৪৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৫

সাজেকে ৫ ঘণ্টায় পুড়ে ছাই শতকোটি টাকার সম্পদ

মোঃ ইব্রাহিম শেখ, চট্রগ্রাম ব্যুরোঃ  রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মেঘের রাজ্য সাজেক ভ্যালি পর্যটন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩৪টি কটেজ-রির্সোট ও অন্তত ৬টি রেস্টুরেন্ট, ৩১টি স্থানীয় বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে অবকাশ ম্যানুয়েল রির্সোটের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। তবে অবকাশ রির্সোটের স্বত্তাধিকারি বিজয় ঘোষ জানিয়েছেন, স্থানীয় এক বাসিন্দার রান্না ঘরের আগুন থেকে আগুনের সূত্রপাত।

তিনি বলেন, ইকো ভিলেজ রির্সোটের নিচে স্থানীয় একজনের বাড়ির রান্না ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। যা পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের বাড়ি ঘরে এবং সেখান থেকে রিসোর্ট কটেজে। সালকা রিসোর্ট থেকে অবশরা রির্সোট এবং আর্মি কটেজ থেকে ফেনী লুসাই কটেজ পর্যন্ত সব কটেজ রিসোর্ট পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আমার ৪টি রিসোর্ট পুড়ে গেছে। যার ক্ষতি প্রায় ৭ কোটি টাকা। এই ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবো বুঝতে পারছি না।

সালকা রির্সোটের স্বত্তাধিকারী মো. ফয়সাল বলেন, আমার সালকা রিসোর্টটি পুড়ে গেছে। এই আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ শতকোটি টাকার কম নয়। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ জানাবো যাতে এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যাতে সহযোগিতা করে। না হয় আমরা দাঁড়াতে পারবো না।

আরও পড়ুন  নখদন্তহীন অধিনায়কত্বে টাইগারদের সিরিজ পরাজয়

ছাউনি রিসোর্ট স্বত্তাধিকারী মো. ইমনারুল আলম বলেন, আমাদের ছাউনি, আদ্রিকা, সবুজ ছায়া, লুসাই কটেজ সব পুড়ে গেছে। আমি এখন সাজেকে হাঁটছি গৃহহীন হয়ে। আমার এখন এখানে কোন থাকার জায়গা নাই। আমার সব কটেজের ক্ষতি প্রায় আড়াই কৌটি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক আগে থেকে দাবি ছিল একটা ছোট ফায়ার স্টেশন। কিন্তু সরকার এই বিষয়ে কর্ণপাত করেনি। যদি ফায়ার স্টেশন থাকতো তাহলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো। সেই নিচের ছড়া থেকে পানি আনতে অনেক সময় লাগে। ততক্ষণে সব শেষ। আমরা আর ঘুরে দাড়াতে পারবো কিনা, জানি না। পর্যটকরা নিরাপদে আছেন। অনেকে সাজেক ছেড়েছেন আবার অনেকে অন্য কর্টেজ গুলোতে উঠেছেন।

দুপুর ১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে স্থানীয় লোকজন পড়ে সেনাবাহিনী পুলিশ গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রের চেষ্টা করে ছিটানো হয় পানি। দুপুর তিনটার দিকে এক এক করে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যেতে শুরু করে। প্রথম দীঘিনালা ফায়ার সার্ভিস পড়ে খাগড়াছড়ি সদর থেকে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছে। যারপর বিকেল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে ও সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত আগুন কিছু কিছু স্থানে জ্বলছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় রিসোর্ট মালিকরা।

আরও পড়ুন  সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত

সাজেক ভ্যালি পাহাড় চূড়ায় হওয়ায় সেখানে পানির যোগান দেয়া হয় ৫ কিলোমিটার নিচের একটি ছড়া থেকে। যার কারণে মূলত আগুন ছড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইন্দ্র ত্রিপুরা।তিনি আরো জানান, যদি সাজেকে পানির ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আগুন ছড়াতে পারতো না। আমরা এখানে স্থায়ীভাবে ফায়ার স্টেশন চাই।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মোবারক হোসেন বলেন, আমি সাজেক যাচ্ছি পথে রয়েছি , আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। পর্যটকরা নিরাপদে আছে। বাকিটা সেখানে গিয়ে বলতে পারবো।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনকে সাজেকে পর্যটক গমন সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ