সরকার পরিবর্তন হলেও দেশে ফিরতে পারছেন না বিএনপি নেতা জামশেদ, সন্ত্রাসীদের ঘোষণা “যেখানেই পাওয়া যাবে জামশেদকে খুন করা হবে”

প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৫

সরকার পরিবর্তন হলেও দেশে ফিরতে পারছেন না বিএনপি নেতা জামশেদ, সন্ত্রাসীদের ঘোষণা “যেখানেই পাওয়া যাবে জামশেদকে খুন করা হবে”

সাবেক মন্ত্রী বিএনপির শীর্ষ নেতা এহছানুল হক মিলন যার আতংকে পালিয়ে গেছেন জামশেদ ( ছবি-১) নিজ ব্যবসায়ী সংগঠনের ব্যানারে নির্বাচন কালীন জামশেদের পোষ্টার।
ঐ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে পরিচালক পদে বিজয়ী হলে আওয়ামীলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন তার দল বল নিয়ে জামশেদের উপর হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত হন ( ছবি-২)

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে এক রাজনৈতিক নেতা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েও জীবন বাচাঁতে পারছেন না। সন্ত্রাসীরা সেখানেও তার জীবনের জন্য হুমকী হয়ে দাড়িয়েছে। এই রাজনৈতিক নেতার নাম মোহাঃ জামশেদ আলম। তিনি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার মোঃ আবদুল বারেক ও মোছাঃ হালিমা বেগমের পুত্র। ঘটনার বিবরন ও বিভিন্ন সুত্রে জানা যায় জামশেদ বাংলাদেশে থাকা কালীন সময়ে কচুয়া উপজেলা বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মি ছিলেন এবং বিএনপর কেন্ত্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোশারফ হোসেনের অনুসারি ছিলে। এ সময় তার সাথে চরম রাজনৈতিক বিরোধ ছিল বিএনপির আরেক প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক শিক্ষামমন্ত্রী এহছানুল হক মিলনের। এ নিয়ে একাধিকবার তাদের মধ্যে হামলা, পাল্টা হামলা ও জেল জুলুমের শিকার হন জামশেদ আলম। এক পর্যায়ে জামশেদ আলম এর উপর একের এক হামলা চালিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তখন জামশেদ বাধ্য হয়ে জীবন বাচাতে ২০২৪ সালের ২১ শে মে গোপনে দেশ ছেড়ে কানাডায় পালিয়ে যান। কিন্তু কানাডায় গিয়েও জামশেদ নিরাপদ থাকতে পারেননি। সেখানে ও আওয়ামীলীগের নেতা কর্মিরা তার অবস্থান জেনে যায়। একবার রাস্তায় চলাচলের সময় তার উপর অতর্কিত হামলারও চেষ্টা করে। পরে জামশেদ তার এক খালার পরামর্শে কানাডা সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্টে প্রবেশ করেন। জামশেদ যুক্তরাষ্টে প্রবেশের পর ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট বাংদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ঘটে। ফ্যাসিষ্ট হাসিনার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় এবং আওয়ামীলীগ সরকারের পতন ঘটে। এই সুযোগে চাঁদপুরের কচুয়ায় বিএনপির প্রভাবশালী নেতা সাবেক মন্ত্রী এহছানুল হক মিলন তার অনুসারিরা মুর্তিমান আতংক হয়ে আবার ফিরে আসে। শুধু তাই নয় দীর্ঘ ১৭ বছর যারা আওয়ামীলীগের রাজনিতীর সাথে জড়িত ছিল তারা বিএনপি ও মিলন গ্রুপে এবং এনসিপি ও জামায়াতের ছায়াতলে ভীড়তে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর এহছানুল হক মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা জামশেদের খুজে তার বাড়ীতে হানা দেয়। জামশেদ এর আগেই দেয় ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় ঐ দিন তিনি প্রানে বেঁেচ যান। ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মিলন গ্রুপের সন্ত্রাসীরা জামশেদের খুজে তার ভাইয়ের বাড়ীতে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা জোর পুর্বক বাড়ীতে প্রবেশ করে হামলা ও ভাংচুর চালায়। জীবন বাচাঁতে দেশ থেকে পালিয়ে আসার পরও একজন বিএনপি নেতার খোজে তার বাড়িতে একই দলের প্রতিপক্ষ গ্রুপ ও ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের সাইনবোর্ড পাল্টিয়ে বর্তমান জামাত ও এনসিপির ছায়াতলে আশ্রয় নেয়া সন্ত্রাসীদের বার বার হামলার ঘটনায় জীবন নিয়ে চরম নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন মোঃ জামশেদ আলম। চাদঁপুরের কচুয়ার স্থানিয় লোকজন ও ঢাকায় জামশেদের সহকর্মি ব্যবসায়িদের সাথে আলাপ কালে তারা জানিয়েছেন সন্ত্রাসীরা এই বলে হুমকী দিয়ে বলে বেড়াচ্ছে যে জামশেদ কে পেলে তাকে খুন করবে। কারন জামশেদের কারনেই তাদের রাজনৈতিক অনেক ক্ষতি হয়েছে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ