সিলেট ১৭ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০১৭
রেজাউল হক ডালিম: পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৩ সালে ১৫ জুন প্রথমবারের মতো সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। দায়িত্ব নেওয়ার পর নগরীর ছড়া-খাল উদ্ধারসহ কিছু কর্মকান্ডে প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন নগরবাসীর। তবে প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর একটি হত্যা মামলার আসামি হয়ে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি মেয়র পদ থেকে সাময়িক বহিস্কার হন আরিফুল হক চৌধুরী। দীর্ঘ ২৬ মাস পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ ১৩ মার্চ (সোমবার) ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে উচ্চআদালত। ফলে ২ বছর ২ মাস পর ফের মেয়র পদ ফিরে পাওয়ার দিকে সিংহভাগ এগিয়ে গেলেন আরিফ। এতে করে ২৬ মাস পর পাশে পেতে যাচ্ছে নির্বাচিত সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে। তবে এখনও খানিক আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে আরিফকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ না নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত চূড়ান্ত রায় আরিফের পক্ষে দিলেই তিনি পুরোপুরিভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
আরিফবিহীন এই ২৬ মাস সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) দপ্তর অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে চলছিলো। মেয়রের অবর্তমানের কাউন্সিলের মধ্য থেকে নির্বাচিত প্যানেল মেয়র দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও সিসিক কাউন্সিলরদের দুই পক্ষের বিরোধের কারণে প্যানেল মেয়রের দায়িত্বেও বসতে পারেননি কেউ। ফলে তখন থেকেই মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সিসিকের আর্থিক ও প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব।
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকায় এই সিটি করপোরেশনের চলমান উন্নয়ন কর্মকান্ড ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সেবাবঞ্চিত হওয়ারও অভিযোগ নাগরিকদের।
যদিও সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের মতে, নির্বাচিত মেয়র না থাকা গত দুই বছরে সিসিকের উন্নয়ন কর্মকান্ডে কোনো প্রভাব ফেলেনি।
সিসিক মেয়র আরিফুল হকের সাময়িক বহিস্কারাদেশ সোমবার ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি আতাউর রহমান খান হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে আরিফের স্থগিতাদেশ কেনো অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে ছেয়েছেন উচ্চ আদালত। আদালতের এই আদেশের ফলে আরিফুল হকের দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল হালিম কাফি।
মেয়র পদ ফিরে পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় দৈনিক প্রভাতবেলাকে তিনি জানান, এটি নগরবাসীর বিজয়। সকলের সহযোগীতার কারণেই আমি আবার পদ ফিরে পেতে সক্ষম হয়েছি। এক প্রশ্নের জবাবে আরিফ বলেন, এখনই চেয়ারে বসছিনা। তবে আমি চাইলে বসতে পারি। এতে আইনী কোনো বাধা নেই। তবে কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে সেগুলো সম্পন্ন করেই আমি দায়িত্ব আবার কাঁধে নিতে চাচ্ছি।
আরিফ আরো বলেন, আমি নগরবাসীকে বেশকিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলাম। প্রতিশ্রুতি মোতাবেক কাজও শুরু করি। কিন্তু আইনী ঝামেলায় পড়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ায় সেসব কাজ আর এগিয়ে নিতে পারিনি। আমার সৌভাগ্য, দু:সময়েও নগরবাসী আমার পাশে ছিলেন। আমার জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। এখন দায়িত্ব নিয়ে আমি আমার অসামপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।
তবে আদালতে চলমান মামলাগুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি আরিফুল হক চৌধুরী। তবে ন্যায়বিচার পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জে গ্রেনেড হামলায় খুন হয়েছিলেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। এই হত্যাকান্ডের দীর্ঘ নয় বছর পর ২০১৪ সালের ৩০ অক্টোবর আরিফুল হকসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে কিবরিয়া হত্যা মামলার সম্পূরক অভিযোপত্র প্রদান করেন সিআইডি’র সিলেট অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার মেহেরুন্নেছা পারুল। ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের আদালতে আরিফ আত্মসমর্পন করলে আদালত তাঁর জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। এরপর দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনহত্যা প্রচেষ্টাসহ চারটি মামলায় আসামি করা হয় আরিফকে। ২ বছর ৪ দিন কারাভোগের পর গত ৪ জানুয়ারি চার মামলায়ই জামিনে মুক্তি পান আরিফুল হক চৌধুরী।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি