‘আগুনমুখা’র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে চালিতাবুনিয়ার জনপদ

প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০২৩

‘আগুনমুখা’র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে চালিতাবুনিয়ার জনপদ
প্রভাতবেলা ডেস্ক: ‘আগুনমুখা’ নদীর তীব্র স্রোতে ভাঙছে দুপার, অন্য দিকে ছোট হচ্ছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের আয়তন। ভিটা-বাড়ি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে আশ্রয়ের খোঁজে শহরমুখী হচ্ছেন অনেক মানুষ।

 

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ইউনিয়নটিতে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। প্রতিনিয়ত নদী ভাঙনের সাথে যুদ্ধ করেও পরাজিত হচ্ছে ওখানকার মানুষ। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু রক্ষা করতে পারছে না অনেকে।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, চালিতাবুনিয়া, উত্তর চালিতাবুনিয়া, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা ও গোলবুনিয়াসহ অনেকগুলো গ্রাম নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে।

 

ভিটামাটি হারিয়ে উচ্চবিত্তরা হয়েছে মধ্যবিত্ত আর মধ্যবিত্ত ও দিনমজুররা হয়েছে নিঃস্ব। এদের মধ্যে কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছে লতার চরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেঁড়িবাধের ওপর। থাকার জায়গা না থাকায় অনেকে বাস্তুহারা।

 

ভাঙন কবলিত এই জনপদের বাসিন্দাদের জান-মালের নিরাপত্তায় ও নদী ভাঙন থেকে সুরক্ষায় দৃশ্যমান কোন উদ্যোগের নজির চোখে পড়েনি এখনও। এতে ফসলি জমি এবং ভিটেমাটি হারিয়ে কেউ হয়েছে ভূমিহীন আর কেউ হয়েছে নিঃস্ব। শুধু নদী ভাঙন নয়, নানা সময়ে হওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে ক্ষতি এবং ঝুঁকির মধ্যে থাকেন এই ইউনিয়নের নারী ও শিশুরা। অবহেলিত এসব মানুষদের রক্ষায় অতি শীঘ্রই সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ পরিকল্পনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া দরকার বলে মনে করছেন সচেতনমহল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে থেকে চালিতাবুনিয়ায় নদী ভাঙন শুরু হয়। এ পর্যন্ত ইউনিয়নটির মূল ভূখণ্ডের প্রায় তিনএকাংশ বিলীন হয়েছে। এছাড়াও ৬ কিলোমিটার বেরিবাঁধ রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। এই বাঁধের দুই অংশে পানি নিষ্কাণের জন্য দুইটি জলকপাট নির্মাণের দাবি তুলেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু সেই দাবি পূরণ হয়নি এখনও। এর ফলে ওই এলাকার প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার হেক্টর চাষাবাদী জমি পতিত রয়েছে। ইউনিয়নের বাসিন্দারা বলছেন এখনই যদি বেরিবাঁধ নির্মাণে দীর্ঘ মেয়াদী বা স্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয় তাহলে চালিতাবুনিয়াকে রক্ষা করা সম্ভব না।

আরও পড়ুন  গাংনীতে বৃদ্ধের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

 

স্থানীয়রা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আশ্রয় নেয়ার জন্য যে একটি সাইক্লোন সেল্টার ছিল সেটিও বিলীন হয়ে গেছে বহু আগে। টেকসই বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ না থাকায় দুর্যোগের সময় নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় জনসাধারণের। তাদের অভিযোগ শক্তপোক্ত বাঁধ নির্মাণ না করায় দুর্যোগের সময় বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে থাকতে হয় তাদের। স্থানীয়দের দাবি আগুনমুখার তাণ্ডব এভাবে চলতে থাকলে রাঙ্গাবালী উপজেলার মানচিত্র থেকে হয়তো চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নটি একসময় মুছে যাবে।

 

রাঙ্গাবালী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নুরে আলম বলেন, নদী ভাঙনের সাথে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বাস করছে এখানকার মানুষ। যতদিন গড়ায় তত আয়তন ছোট হয় এই ইউনিয়নের। আর এ কারণে শিক্ষাক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে চালিতাবুনিয়ার শিক্ষার্থীরা। যেমনটি দেখেছি মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোলে আর পড়ার আগ্রহ থাকে না এখানকার মেধাবি শিক্ষার্থীদের। কারণ হিসেবে দেখলাম এই জনপদের মানুষজনদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। কিন্তু দিনদিন ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হওয়া আয় কমছে তাদের। যার কারণে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষার সক্ষমতা অনেকের থাকছে না। এতে আমরা হারাচ্ছি একটি আগামীর ভবিষৎ প্রজন্মকে। আমি চাই ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হোক।

আরও পড়ুন  ফরিদপুরে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহত ৫
চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মু. জাহিদুর রহমান বলেন, এই ইউনিয়নে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। ইতিমধ্যে ইউনিয়নের তিনের একাংশ আগুনমুখা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। তাই আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সবার কাছে অনুরোধ করছি যাতে নদী ভাঙন থেকে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নকে বাঁচানো হয়।

 

এ ব্যাপারে কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন,‘ঝুঁকিপূর্ণ যে বাঁধ রয়েছে তা রক্ষণাবেক্ষণ বরাদ্দ খাত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার সংস্কার করা হবে। ভাঙন রোধে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হলে প্রকল্প প্রস্তাবনা নিতে হবে। যার জন্য আমরা সমীক্ষার প্রস্তাব বোর্ডে পাঠাব। এবং সমীক্ষায় অনুমোদন পেলে আমরা প্রকল্প নেব।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ