একতা বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১৯, ২০১৬

সংবাদদাতা :   ছাতক উপজেলার সিংচাপইড় ইউনিয়নের একতা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী ও বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসার ও ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে গত ১৮জুলাই সোমবার বিদ্যালয়ের জেনারেল কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ ও তাদের অপসারণের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন সামাজিক সংগঠন সিংচাপইড় শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থা, একতা প্রাক্তন ছাত্র সংঘ, আল-ইত্তেহাদ ইসলামী সমাজ কল্যাণ সংস্থা, একতা যুব সংঘ ও স্বপ্নপূরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থার নেতৃবৃন্দ।

অভিযোগে বলা হয়, ১. বিগত ১৪-০৬-২০১৬ইং তারিখে দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতির নাম ব্যবহার করে মোবাইল নাম্বারের স্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনার নাম্বার ব্যবহার করেন। এমতাবস্থায় বিভিন্ন প্রাথী যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে সভাপতি পরিচয় দেন এবং প্রার্থী মনোনীত আছেন বলে অন্যান্য প্রার্থীদের দরখাস্তের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন।

২. প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনা নিজে প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেছেন বলে আমরা জানতে পারি। সভাপতি মুর্শেদ আহমদ চৌধুরী মোটা অংকের টাকা নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্ঠা করছেন।

৩. ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনা বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে “আনারস” প্রতিকে ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু কাউকে কোনো লিখিত দায়ীত্ব না দিয়ে এবং নিয়ম মোতাবেক কোনো ছুটি না নিয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন।

আরও পড়ুন  দ্রুত নির্বাচন দিয়ে অস্থিরতা দূর করুন: মির্জা ফখরুল

৪. বিগত ০৬-০৬-২০১৬ইং তারিখে জেনারেল কমিটি ও এলাকাবাসীর সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় সভাপতির কাছে বিগত বছরের আয়-ব্যয় এর হিসাব চাইলে তিনি হিসাব দিতে রাজি হননি, তবে পরবর্তিতে হিসাব দিবেন বললেও অদ্যাবধি কোনো সভার ব্যবস্থা করেনি, হিসাবও দেননি। উক্ত সভায় সিংচাপইড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন মোহাম্মদ সাহেল উপস্থিত ছিলেন।

৫. বিদ্যালয়ের সভাপতি ২০১৬সালের জানুয়ারীতে ২০১৪সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করেন। আয়-ব্যয়ের হিসাবে ৯৫হাজার টাকার গড়মিল দেখা দেয়। সেই সময়ে প্রধান শিক্ষক ছিলেন দিলোয়ার উদ্দিন জাহিদ ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন আবু হেনা এবং তিনি ২০১৪সালের হিসাব নিরক্ষণের আহবায়ক হিসেবে দায়ীত্ব পালন করেন।

৬. ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবু হেনা প্রায়-দিন বিদ্যালয়ে বিলম্বে আসেন ও প্রায়ই অনুপস্থিত থাকেন বলে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়। এছাড়াও নানা দুর্নীতি ও অনিয়ম করে চলছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, সিংচাপইড় গ্রামের দীর্ঘদিনের আশা আকাঙ্কার ফসল একতা উচ্চ বিদ্যালয়। উক্ত বিদ্যালয়টি ৩০-১১-১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার গণ্যমান্য বক্তিবর্গ, যুবক এবং প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগীতায় বিদ্যালয়টি সুনামের সাথে জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নানাভাবে দুর্নীতি ও অনিয়ম করে বিদ্যালয়কে ধ্বংশের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছেন। বিগত ১৪-০৬-২০১৬ইং তারিখের দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে সভাপতির নাম উল্লেখ করে মোবাইল নাম্বারের স্থলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব আবু হেনার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করেছেন। এমতাবস্থায় বিভিন্ন প্রার্থী যোগাযোগ করলে জনাব আবু হেনা সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন এবং প্রধান শিক্ষক আমাদের মনোনীত আছেন বলে অন্যান্য প্রার্থীদের দরখাস্তের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করেন। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাব আবু হেনা প্রধান শিক্ষক পদে আবেদন করেছেন। তাছাড়া সভাপতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্ঠা করছেন। এই বিষয়গুলো ছাড়াও আরো নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারণ তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ এবং তাদের অপসারণের দাবী জানাচ্ছেন।

আরও পড়ুন  ফেঞ্চুগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

এমতাবস্থায়  এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারণ সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তাদের অপসারণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জোর দাবী জানান।

Attachments area

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ