সিলেট ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০১৬
আতিকুর রহমান রিপন, আত্রাই : নওগাঁ জেলার খাদ্যশস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত আত্রাই উপজেলার প্রতিটি মাঠে এখন শুধু পাকা ধানের হলুদ রঙের চোখ ধাঁ-ধাঁলো বর্ণীল সমরাহ। যেদিকে চোখ যায় সে দিকেই শুধু হলুদ আর হলুদ। তবে কৃষিশ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের পাকা ধান নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। ক্ষেতে বোরো ধান পেকে বর্ণিল হয়ে উঠলেও শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষক এ ধান কেটে ঘরে তুলতে পারছে না। ফলে ঝড়, শিলা বৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টি নিয়ে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছেন তারা।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এবারে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে প্রায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে জিরাসাইল ধান আগাম জাতের হওয়ায় ইতোমধ্যেই ধান পেকে মাঠজুড়ে বর্ণিল হয়ে রয়েছে। গত কিছুদিন পূর্বে অসময়ে বৃষ্টি ও ঝড় হওয়ায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমির ধান মাঠে পড়ে যায়। ফলে এসব ধান পাকলেও শ্রমিকরা তা কাটতে অনিহা প্রকাশ করছে। স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্য দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে কৃষকদের অভিযোগ। সর্বোপরি দুর্যোগের আশংকায় এখন কৃষকদের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। উপজেলার মালিপুকুর গ্রামের কৃষক মোহম্মদ আলী বলেন, গত বন্যায় আমাদের অর্থনৈতিক মেরু ভেঙ্গে গেছে। চায়েছিলাম বোরো দিয়ে সে ক্ষতি পুষিয়ে নেব। কিন্তু বোরো ধানে একদিকে নেকব্লাষ্ট রোগে ফলনে বিপর্যয়, এরপর ঝড়ে পরে যাওয়া তার উপর শ্রমিক সংকট, অপরদিকে বাজারে মূল্য কম। সব কিছু মিলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। পার্শ্ববর্তী গ্রামের আলেফ উদ্দিন বলেন, মাঠে ধান পেকে রয়েছে। শ্রমিকের জন্য শুধু ছুটাছুটি করছি। আল্লাহ না করুক যদি কোন দুর্যোগ এসে পড়ে তাহলে আমাদের অপূরনীয় ক্ষতি হয়ে যাবে। উপজেলার শাহাগোলা গ্রামের কৃষক ভুট্টু প্রাং বলেন, আগে ধান পাকার আগেই আমাদের এলাকায় রাজশাহীর আড়ানী, কুষ্টিয়ার ভেড়ামাড়া, নীলফামারী, ডোমার, চিলাহাটি, নাটোরের আব্দুলপুর, লালপুরসহ দক্ষিণাঞ্চল থেকে অনেক কামলা আসতো। যার জন্য ধান সময়মত কাটতে কোন সমস্যা হতো না। কিন্তু এবারে চাহিদার তুলানায় শ্রমিক পর্যাপ্ত পরিমান না আসায় মাঠের পাকা ধান নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি। এরপরও বাজারে বর্তমানে জিরাসাইলের ধান মাত্র ৬৫০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। মণপ্রতি ১৫০ টাকা কম বিক্রি করে আমরা ব্যাপক লোকসানের শিকার হচ্ছি। এবিষয়ে আত্রাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. কেএম কাওছার হোসেন বলেন, কিছু দিন পূর্বে ঝড়ের কারণে বিভিন্ন মাঠের ধান নূয়ে পড়লেও এবার চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে কিন্তু কৃষকরা শ্রমিক সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তিনি আশাবাদী অল্পসময়ের মধ্যে শ্রমিক সংকট কেটে যাবে।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি