ক্রিকেটার আর দর্শকের পদচারনায় মুখর সিলেট জেলা স্টেডিয়াম

প্রকাশিত: ৭:১৯ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০২৩

ক্রিকেটার আর দর্শকের পদচারনায় মুখর সিলেট জেলা স্টেডিয়াম

তানজীল শাহরিয়ার ও আফজাল হোসেন : সোমবার, বেলা তখন আড়াইটা, শীতের দুপুরে তাই সূর্যের তীব্রতা একটু একটু করে বাড়ছে। নিয়মিত বিরতি দিয়ে মেঘ আর সূর্যের লুকোচুরি খেলা চলেছে। তবে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের সবুজ মাঠে ৫০ অভারের খেলা ততক্ষণে শেষ!

 

 

মাহা ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগ ২০২৩-২৪’র ৫ম ম্যাচে নিজেদের ১ম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলো ঐতিহ্যবাহী অনির্বাণ ক্রীড়া চক্র এবং ইয়াং পেগাসাস। অনির্বাণকে মাত্র ৯৮ রানে বেঁধে ফেলেছিলো ইয়াং পেগাসাস। তবে, ব্যাটাররা সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। জয় থেকে ৩৭ রান দূরে থাকতেই গুটিয়ে গেছে ইয়াং পেগাসাসের ইনিংস।

 

 

দুই দল মিলে সর্বসাকল্যে খেলেছে ৬৪.১ অভার!

 

 

৫০ ওভারের ম্যাচ দ্রুত শেষ হওয়ায় মাঠকর্মীরাও নেমে পড়েন উইকেট পরিচর্যায়।মাঠকর্মিরা খুব বেশি সময় পাননি উইকেট তৈরি করার জন্য। তবে লিগের ২য় এবং ৩য় ম্যাচে জিমখানা ক্লাবের পরে বঙ্গবীর অগ্রগামী ক্রীড়া চক্রও মেতে উঠেছিলো রানোৎসবে।

 

 

জিমখানা ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ৫০ অভারে তুলেছিলো ৩০৬, গালিব হাঁকিয়েছিলেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি। বঙ্গবীরের ব্যাটাররা সবাই মিলেমিশেই ব্যাটিং ঝড় তুলেছিলেন। অলক কাপালি ৭৫ রান করেছেন, আবু বক্কর ঝড়ো গতিতে ৫২ রান তুলেছেন। তাজিন আর এজাজও রান পেয়েছেন।

 

 

৪র্থ আর ৫ম ম্যাচে এসে যেন ব্যাটিং খেই হারিয়ে ফেলেছে! বীর বিক্রম ক্রীড়া চক্রের বিপক্ষে ৯৫ রানে অলআউট হয় অ্যাপোলো। ২৩ অভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বীর বিক্রম। ৫ম ম্যাচে অবশ্য ঘটেছে উল্টো ঘটনা। অনির্বাণের মুকুল আর শাহনূরের ঘূর্নির সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পেগাসাসের ব্যাটাররা।

আরও পড়ুন  চা শ্রমিকদের শীতবস্ত্র দিলো শাবির ‘কিন’ 

 

 

মাঠকর্মি থেকে শুরু করে ক্লাব কর্মকর্তা, দর্শক –– সবারই প্রত্যাশা ব্যাট হাসবে প্রতিদিন। রানের ফোয়ারা ছুটবে। গত দুই ম্যাচে কেনো ব্যাটিংয়ের হতশ্রী দশা সেটা নিয়ে সেসব ক্লাবের কোচ, ব্যাটাররা নিশ্চয়ই ভাবছেন।

 

 

সিলেট লিগের সুবাদে সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ক্রিকেটার, কোচ, ক্রিকেট ভক্তদের পদচারনায় মুখর।
মাঠে যাদের প্রতিদিনই দেখা যায় তাদের একজন সিলেট জেলার ক্রিকেট কোচ রানা মিয়া। জেলার ক্রিকেটারদের নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে তার। স্টেডিয়াম সংলগ্ন সরষপুরে থাকেন, তাই ইচ্ছা হলেই ছুটে আসেন মাঠে। ক্রিকেটাররাও ক্রিকেট নিয়ে জানতে, শিখতে তার কাছে ছুটে আসেন।

 

 

নির্ধারিত সময়ের আগেই মাহা সিলেট প্রথম বিভাগ লিগের ম্যাচ শেষ হওয়ায় অনুশীলনের জন্যে বাড়তি সময় পেয়ে যান ক্রিকেটাররা। ধীরে ধীরে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামের মাঠে জড়ো হতে থাকেন সিলেট প্রথম বিভাগ লিগে খেলা ক্লাবগুলোর খেলোয়াড়েরা। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নিতে একে একে হাজির হয় ইয়ুথ সেন্টার, জিমখানা ক্লাব, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন ক্রিকেট একাডেমির খেলোয়াড়দের আসতে দেখা গেল মাঠে।

আরও পড়ুন  কোম্পানীগঞ্জে বিদেশি মদসহ যুবক গ্রেপ্তার

 

 

অল্প সময়েই সিলেট জেলা স্টেডিয়াম যেন হয়ে উঠল লোকে লোকারণ্য। অনুশীলনে ভিন্নতা ছিল জিমখানা ক্লাবের, গা গরমের জন্য প্রথমে তারা বেছে নিল ফুটবল। দলের সবাই মিলে দুই ভাগে হয়ে গেলেন একে অপরের প্রতিপক্ষ । দুই গোলপোস্ট সেট করে চলল মিনিটে তিরিশের ফুটবল। এরপর হালকা রানিং সেরে জিমখানার বোলাররা সেন্ট্রাল উইকেটের পশ্চিম পাশে স্ট্যাম্পের সাথে মার্কার বিছিয়ে বোলিংয়ের কাজটা করে নিলেন।

 

 

জিমখানার আগে একই জায়গায় বোলিং অনুশীলন করে ইয়ুথ সেন্টার ক্লাব। আর মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ব্যস্ত ছিল মাঠের পূর্ব-দক্ষিন পাশের নেটে। সেখানে সাদা-কালো শিবিরের ক্রিকেটাররা মগ্ন ছিলেন ব্যাটিং-বোলিং অনুশীলনে।

 

 

অনুশীলনে আসা সব দলেরই লক্ষ্য নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ। নিজেদের সেরাটা দেওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকা ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল তাদের চোখেমুখে। ভবিষ্যতের রাজিন-অলক-তাপস-এনাম হবার স্বপ্ন বুঁকে বেঁধে ঘাম ঝরাচ্ছে তরুণ ক্রিকেটাররা।

 

 

রিকাবি বাজারে অবস্থিত সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ২১ তারিখে শুরু হওয়া মাহা ১ম বিভাগ ক্রিকেট লীগ ২০২৩-২৪’র খেলা ক্রমেই জমে উঠছে। শহরের ক্রিকেটপ্রেমিদের সঙে শহরতলি আর গ্রামাঞ্চল থেকেও অনেকে আসছেন ক্রিকেট খেলা দেখতে।

 

সর্বশেষ সংবাদ