চাঁদের অপেক্ষায় ভিন্ন ঈদ

প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০

চাঁদের অপেক্ষায় ভিন্ন ঈদ

 

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

রমজান শেষে আরবি শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর। এবার আনন্দ-হিল্লোলের বার্তা নিয়ে পশ্চিম আকাশে বাঁকা চাঁদ হেসে ওঠার অপেক্ষা। এক মাস সিয়াম সাধনা করার পর এই দিনটিকে মহা আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করে থাকে সারা পৃথিবীর মুসলিম সমাজ। রোজা শেষে এ দিনের আনন্দ একে অপরের মধ্যে উচ্ছ্বাসে পরিণত হয়। কিন্তু এবার সবকিছুই ব্যতিক্রম।

 

সবাই মিলে ঈদ উদযাপন চিরায়ত ঐতিহ্য। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। করোনা থমকে দিয়েছে বিশ্বকে। থমকে গেছে সামাজিক বন্ধনও। এরপরও মানুষ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবে। তবে ভিন্ন ভাবে।

 

সাধারণত ঈদের চাঁদ দেখে মহাখুশিতে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদেরকে ঈদের শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময় করে থাকেন। কেউ কেউ ঈদের কার্ড বিনিময় করেন।

 

ধনী-গরিব সবাই ঈদের দিনটি আনন্দের সঙ্গে অতিবাহিত করেন। সবাই যার যার সাধ্যমতো আয়োজন করে থাকেন। ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে নামাজ শেষে কোলাকুলির মাধ্যমে আনন্দ প্রকাশ করে থাকেন। এরপর কেউ কেউ আপনজনদের কবরও জিয়ারত করে থাকেন।

আরও পড়ুন  ফেঞ্চুগঞ্জের ৫ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ২৬ প্রার্থী

 

চাঁদ দেখার মাধ্যমে রমজান মাসের বিদায় হবে। শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি আল্লাহ তাআলা খুশির দিন ঘোষণা করেছেন। যেন রোজা শেষে বান্দা আনন্দের মাধ্যমে এ দিনটি উদযাপন করতে পারে। এ জন্য এ দিনে রোজা রাখাকে হারাম করে দিয়েছেন।

 

চাঁদ দেখার সঙ্গে সঙ্গে রেডিও-টিভিতে খুশির গান প্রচার করে থাকে। ‘রমজানেরই রোজা শেষে এলো খুশির দিন’ গান প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও মনের অজান্তে এ গান গেয়ে উঠে।

 

শান-সওগাতে পরিপূর্ণ এ মাস বিদায় নেওয়ার পরপরই আমাদের মধ্যে উপস্থিত হবে লাইলাতুল জায়েজা তথা প্রতিদানের রাত। পাঁচটি বড় রাতের মধ্যে এটি একটি। এ রাতে আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হয়। এ রাত তথা ঈদের রাত সম্পর্কে প্রসিদ্ধ সাহাবি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি পাঁচটি রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করবে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যায়। সেসব রাতগুলো হচ্ছে- জিলহজের ৮, ৯ ও ১০ তারিখ; রমজানের শেষ দিনগত রাত এবং ১৫ শাবানের রাত।

আরও পড়ুন  নিউইয়র্কে মারা গেছেন নারী সাংবাদিক লিসার ভাই

 

চাঁদরাতের ফজিলত সম্পর্কে বর্ণনা করতে গিয়ে জলিলুল কদর সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, যখন ঈদুল ফিতরের রাত আসে, তখন সেটাকে লাইলাতুল জায়েজা, অর্থাৎ পুরস্কারের রাত বলে আহ্বান করা হয়। যখন ঈদের দিন ভোর হয়, তখন আল্লাহর ফেরেশতারা পৃথিবীতে শুভাগমন করে। সব অলিগলি ও রাস্তার মাথায় দাঁড়িয়ে যায় আর বলে- হে উম্মতে মোহাম্মদী, দয়াবান প্রতিপালকের দরবারে এগিয়ে চলো।

 

প্রভাতবেলা/এমএ

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ