জিম্বাবুয়েকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার স্বাদ নিলো টাইগাররা

প্রকাশিত: ১১:৫২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৮

জিম্বাবুয়েকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ করার স্বাদ নিলো টাইগাররা

মাঠে ময়দানে প্রতিবেদকঃ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দলের এখন আর সেই ধাঁর নেই। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই দলটির আলো নিভু নিভু। অনেক ঝড় ঝাপটা পাড় হয়ে আবার নতুন করে নিজেদের জাত চেনাতে চাইছে আফ্রিকা মহাদেশের এ দলটি।

কিন্তু সামনে যখন বাংলাদেশ নামের এক ভয়ঙ্কর লড়াকু দল। এই দলের এগারো টাইগার। নেতৃত্বে টাইগার সেনাপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা। এই দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে কতটা প্রতিদন্ধীতা করতে পারবে এটা অনুমেয়ই ছিল। তামিম ইকবাল,সাকিব আল হাসান ছাড়াই বাংলাদেশ নিজেদের মাটিতে সেরা দল।

 

তবুও ক্রিকেটে শেষ কথা বলে কিছু নেই। যেমন এই ভঙ্গুর জিম্বাবুয়ে দল বাংলাদেশে এসে নিজের ফেভারিট বলে দাবী করে আসছিল।  প্রতিদন্ধীতার আভাসও মেলেনি। এক তরফা সিরিজ। ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ দল জয়ের পর চট্টগ্রামে টানা দুই ম্যাচে জয়। সবমিলিয়ে জিম্বাবুয়েকে দেশের মাটিতে হোয়াইট ওয়াশ করার স্বাদ টাইগারদের। তৃপ্তির ঢেঁকুরটা বড় হলো না। হেসে খেলে উড়িয়ে দেয়া যাকে বলে। একক প্রাধান্য দেখিয়ে অনায়াসে ৭ উইকেটে সিরিজ জিতে নিলো টাইগাররা।

 

সাগরিকার জহুর আহমেদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ২৮৭ রানের টার্গেট দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসের জোড়া সেঞ্চুরিতে অনায়াসে এই বিশাল টার্গেটও পেরিয়ে যায় টাইগাররা।

ম্যাচে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা সৌম্য সরকার। তিন ম্যাচে ৩৪৯ রান নিয়ে সিরিজসেরা হয়েছেন ইমরুল কায়েস।

আরও পড়ুন  পুলিশের টিয়ারসেলে আহত সাংবাদিক রফিক মারা গেছেন

জিম্বাবুয়ের করা ২৮৭ রাবকে সামনে রেখে খেলতে নেমে দিতে নেমে একদম প্রথম ওভারের প্রথম বলেই লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন ওপেনার লিটন দাস। এরপর অপর ওপেনার ইমরুল কায়েস ও সৌম্য সরকার দলের হাল ধরেন।

ক্রীজে থেকে দুজনেই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। সৌম্য সরকার ৯২ বলে ৯ চার ও ৬ ছক্কায় ১১৭ করে মাসাকাদজার বলে আউট হয়ে যান। এর আগে ৮১ বলে সেঞ্চুরি করেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

সৌম্য ও ইমরুল ২২০ রানের অসাধারণ জুটি গড়ে জিম্বাবুয়ের জয়ে আশা বাতিল করে দেন। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। এর আগের রেকর্ড ছিল সাকিব-তামিমের। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তারা ২০৭ রানের জুটি ছিল তাদের। ওয়ানডে ক্যারিয়ার ইমরুল চতুর্থ সেঞ্চুরির দেখা পান।

একই সাথে ম্যাচে ব্যক্তিগত মাইলফলকে নাম লিখিয়েছেন ইমরুল।  তিন ম্যাচের এই সিরিজে তার রান যথাক্রমে ১৪৪, ৯০ ও ১১৫, সবমিলিয়ে ৩৪৯। নতু রেকর্ডটি ইমরুলের। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড ছিল তামিমের (৩১২)।

বাংলাদেশ দলের এই ওপেনার ১১২ বল মোকাবেলায় ১০ চার ও ২ ছক্কায় ব্যক্তিগত ১১৫ রানে মাসাকাদজার দ্বিতীয় শিকার পরিণত হয়ে ফেরেন। বাকি পথটা সহজেই পাড় করেন মুশফিক ও মোহাম্মদ মিঠুন। ফলে ৪৭ বল বাকি থাকতেই ৭ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয় টাইগাররা। আর সেই সঙ্গে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজও জিতে নেয় তারা।

আরও পড়ুন  শেষ দুই ওভারের নাটকীয়তা, তবুও টাইগারদের হার !

 

চট্টগ্রামের শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) টসে জিতে ফিল্ডিং বেছে নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা।

শুরুটাও হয়েছিল দারুন। মাত্র ৬ রানেই জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনারকে বোল্ড করে চমৎকার শুরু এনে দেন দুই পেসার সাইফউদ্দিন ও আবু হায়দার।

কিন্তু এরপরই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান ব্র্যান্ডন টেইলর ও শেন উইলিয়ামস। দুজনে মিলে ১৩২ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারে ৭২ বলে ৭৫ রান করা টেইলরকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন বাঁহাতি স্পিনার নাজমুল ইসলাম অপু।

টেইলর বিদায় নেওয়ার পর ফের সিকান্দার রাজাকে নিয়ে জুটি গড়েন শেন উইলেইয়ামস। এর মাঝে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন উইলিয়ামস। ৪৩তম ওভারে সিকান্দারকে (৪০) সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন অপু। কিন্তু লোয়ার মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান পিটার মুরকে (২৮) নিয়ে দলকে রানের পাহাড়ে নিয়ে যান উইলিয়ামস। শেষ পর্যন্ত ১৪৩ বলে ১০ চার ও ১ ছক্কায় ১২৯ রানে অপরাজিত থেকে যান তিনি।

 

বাংলাদেশের বোলিং ইনিংসে  ৮ ওভারে ৫৮ রান খরচে ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার নাজমুল ইসলাম অপু।

 

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ