পাঁচভাই,পানসীর খাবারে টেক্সটাইল ডাই, ক্যানসারের ঝুঁকি। সিলেটের জনপ্রিয় এবং ব্যস্ত দুটি রেস্তোরা ‘পাঁচ ভাই’ এবং ‘পানসী’তে খাবারের সঙ্গে ‘ফুড ডাই’ এর বদলে ‘টেক্সটাইল ডাই’ মেশানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করেছে। এ খবর এখন পুরনো। জিন্দাবাজার জল্লারপাড় রোডে গ্রাহকব্যস্ত এ দুটি রেস্টুরেন্ট জীবন বিনাশী ক্যামিকেল খাবারে মিশিয়ে ব্যবসা করছে।
কেমিস্ট্রি’র (রসায়ন) শিক্ষক শাহাদাত চৌধুরী খাবারে কাপড়ের রঙ মেশানোকে বলছেন, ভয়ানক, ভয়াবহ পরিণতি মানে ক্যান্সার আক্রান্ত হবার ঝুঁকি।
তাঁর ভাষায়, ‘ বুঝতে পারছেন ভয়াবহতা, নাকি সিম্পলি নিচ্ছেন? কাপড়ের রং, কাপড়ের। ‘ফুড ডাই’ নয়। কার্সিনোজেনিক!
‘ডাই(রং)’ নিয়ে যাদের বেসিক জ্ঞান আছে তারা জানেন কেমন ভয়ানক সংবাদ এটি। আর রসায়নের শিক্ষক হয়ে পড়েছি এক জ্বালায়। সংবাদটি নিতে পারছি না কিছুতেই। নিজের শহরে হাজার হাজার মানুষ খাচ্ছে এটি। নিজেও খেয়েছি কত, বাচ্চা কাচ্চাসহ! কত পার্সেল! হায় খোদা!’
শাহাদাত চৌধুরী আরো বলছেন, ‘ পঁচা-বাসি নোংরা খাবার, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন ইত্যাদির কথা বলছি না জনাব। এগুলোতে ডায়রিয়া হবে, জন্ডিস হবে, আমাশয় হবে। হোক। শখ করে বা ঠেকায় পড়ে খেয়েছেন, তারা আদর আপ্যায়ন করে খাইয়েছে, একটু আক্কেল সেলামী দিলেনই না হয়। ডাক্তার-অষুধ ইত্যাদি করবেন, শেষমেশ সেরে উঠবেন, এই আর কি?’
তিনি উদ্বেগ উৎকন্ঠা প্রকাশ করে বলছেন,‘ কিন্তু কাপড়ের রং। ক্যান্সার হবে ক্যান্সার। সেরে উঠবেন না। ডেঞ্জারটা কেমন একটু বলি। ট্যাক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে যারা ডাই সেকশনে কাজ করেন, তারা খালি হাতে রং ধরতে যান না, নিয়ম নেই। গ্লাবস, মাস্ক ইত্যাদি পরতেই হয় তাদের। কারনটা স্পষ্ট। যদি হাতের কোনো ক্র্যাক(ফাঁটল) দিয়ে ডাই শরীরে প্রবেশ করে ফেলে! আর এখানে? এখানে আমরা সরাসরি গিলে ফেলছি! ইন্নালিল্লাহ!
এমনিতে যে অবস্থা, ‘ফুড ডাই’যুক্ত খাবার খেতেই ভরসা পাই না, কতটুকু ফুড গ্রেড মানা হয় এই ভয়ে। সেখানে টেক্সটাইল ডাই! মা গো মা ’
আরেকটি বিষয় মনে পড়ে গেল। যত মিষ্টির দোকান আছে শহরে, সেগুলোর কী অবস্থা? বলছেন শাহাদাত চৌধুরী।

এই জীবন বিধ্বংসী টেক্সটাইল ডাই এভাবে চিকেনে মেশানো হচ্ছে
মানুষের আবেগ- আগ্রহকে পূঁজি করে অসাধু ব্যবসা করছে পানসী- পাঁচভাই রেস্টুরেন্ট। এটাই প্রথম নয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। মরা মোরগ, পচা খাবার, খাবরে ক্যামিকেল মেশানো। বিভিন্ন সেক্টর ম্যানেজ করে তাদের এই অসাধুিতা অনেকটা অপেন সিক্রেট।
মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত, র্যাব , ভোক্তা অধিকার ইত্যাদি সংস্থা অভিযান চালায়। জরিমানা করে। কিছুদিন সতর্ক, সচেতন, সজাগ সবাই। তারপর সেই আগের অবস্থায়।
সচেতন মহল মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিয়মিত মনিটরিং করলে পরিস্থিতি উত্তরণ করা যেতে পারে। আর সবচেয়ে বড় গ্রাহক সচতেনতা। জনমানুষ এসব রেস্টুরেন্ট বর্জন করলেই, খাবারে সচেতন হলেই আমরা বাঁচতে পারি।
সুত্র: শাহাদাত চৌধুরীর টাইমলাইন।