পুলিশ কেন নারীতে আটকায়?

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৩

পুলিশ কেন নারীতে আটকায়?

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

বাংলাদেশ পুলিশ । দেশের আইন শৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত । তারই ধারাবাহিকতায় স্মার্ট একটি বাহিনীতে রুপান্তরিত হওয়ার পথে বাংলাদেশ পুলিশ। কিন্তু এ বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্য জনগণের বন্ধু হওয়ার স্বপ্নকে বারবার নানাভাবে সমালোচনার মুখে ফেলেছেন। তারা পুলিশের পোশাক পরে এবং পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নের সম্মুখীন করেছেন। নানান অপরাধের পাশাপাশি জড়িয়ে পড়ছেন নারী কেলেঙ্কারিতে।

 

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নারীঘটিত কেলেঙ্কারি দেশজুড়ে সমালোচিত হয়েছে। এসব কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- পুলিশ কেন নারীতে আটকায়?

 

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, সমাজে যারা অপরাধী তাদের দমন করাই পুলিশের কাজ। সেই পুলিশ যদি রক্ষক হয়ে ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তা হলে পুলিশকে জনগণ মেনে নেবে না। পুলিশ বাহিনীর প্রতি মানুষের ধারণা আরো নেতিবাচক হয়ে উঠবে ।

আরও পড়ুন  আফগানিস্তানে তালেবানের হামলায় ৭০ সেনা নিহত

 

অতিসম্প্রতি ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) হারুন অর রশিদের সঙ্গে ডিএমপির সদর দফতরে কর্মরত সানজিদা আফরিন নিপার অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

 

পুলিশ কর্মকর্তাদের নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত কয়েক বছরে এ ধরনের কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম বেশি আলোচনায় এসেছে তাদের মধ্যে ডিআইজি মিজান, পুলিশ সুপার মুক্তার ও এডিসি সাকলায়েনের নাম উল্লেখযোগ্য।

 

২০১৭ সালের জুলাই মাসে কর্মসংস্থান ব্যাংকের কর্মকর্তা ইকো নামের এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বিয়ে করেন ডিআইজি মিজান। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বেশ কিছুটা বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেয়। ডিআইজি মিজানের আরও নারী কেলেঙ্কারির তথ্য পাওয়া যায় ওই সময়। এর জেরে এক পর্যায়ে ডিআইজি মিজানের অবৈধ অর্থ সম্পদের হিসাবের বিষয়ে তদন্ত শুরু করে দুদক। ওই মামলায় তাকে ১৪ বছরের সাজা দেন আদালত।

 

২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টের কমান্ডার পুলিশ সুপার মোকতার হোসেনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এক নারী কর্মকর্তার। দেশে ফিরে ২০২১ সালের ১২ আগস্ট ওই নারী মোকতার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করলে এ নিয়ে তোলপাড় হয় । পুলিশ প্রশাসন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পাড়ে ।

আরও পড়ুন  বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক অভিন্ন সত্তা : রাষ্ট্রপতি

 

চলতি বছরের ২৭ মার্চ অফিস কাম বাসার একটি কক্ষে মেয়েদের নিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়ায় ময়মনসিংহের ত্রিশাল সার্কেলে সহকারী পুলিশ সুপার মোহা. আবদুর রকিব খানকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।

 

২০২১ সালে আলোচিত অভিনেত্রী পরী মণির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় সামনে আসার পর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনকে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ