প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে দপ্তরিদের বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১:১০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২০

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে দপ্তরিদের বিক্ষোভ

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক, ঢাকা:

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম প্রহরীরা। বেতন বৈষম্য নিরসন ও চাকরি জাতীয়করণসহ ৩ দফা দাবিতে বিক্ষোভে নামেন তারা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েক হাজার দপ্তরি কাম প্রহরী অধিদপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৭ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে চাকরি করেও তারা ন্যায্য বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। তাদের অমানবিকভাবে দিনে দাপ্তরিক কাজ ও রাতে প্রহরার দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ২০১৩ সালে এ পদে নিয়োগের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এভাবে চলতে পারে না। তাই তারা ৩ দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঘেরাও করেছেন।

প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক দাবিগুলোর বিষয়ে বলেন- পদ জাতীয়করণ, ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও বেতন বৈষম্য নিরসনের দাবিতে তারা অন্তত ১০ হাজার দপ্তরি কাম প্রহরী বিক্ষোভ করছেন। দাবি মানা না পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলবে।

আরও পড়ুন  সেরা অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, অভিনেত্রী জয়া-শিমু

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনের সড়কে অবস্থান করছেন দপ্তরিরা। তারা বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নিয়ে আছেন। এ কারণে মিরপুর-১ থেকে ১০ নম্বর পর্যন্ত সড়কে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তাদের গাড়ি আটকে দিয়েছেন। তাদের অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। তারা ৩ দফা দাবিতে অবস্থান নিয়ে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও বিক্ষোভ করছেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, দপ্তরি কাম প্রহরী পদটি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, হাইকোর্টে দাখিলকৃত অধিদপ্তরের দেয়া জবাব মোতাবেক কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, বেতন বৈষম্য নিরসন, কাজের ধরন নির্ধারণ ও অবিলম্বে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নের জন্য সারা দেশ থেকে একত্রিত হয়ে অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের কোনো সপ্তাহিক ছুটি নেই, নানাবিধ সমস্যার কারণে এবং চাকরি জাতীয়করণের জন্য ২০১৭ সালে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন করি। চলতি বছরের ৩০ জুলাই আদালতের রায় আমাদের পক্ষে আসলেও এ বিষয়ে অধিদপ্তর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমরা বাধ্য হয়ে দেশের সব জেলা থেকে দপ্তরি কাম প্রহরী একত্রে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

আরও পড়ুন  প্রলোভনে ফাঁদে ফেলে ছাত্রীদের ধর্ষণ করতো শিক্ষক আরিফ

দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে জানান প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্মচারী কল্যাণ সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন সরদার।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ