প্রিয়াঙ্কার আহবানে হাজারো মানুষ সোনালী জমিনে

প্রকাশিত: ২:৫৮ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৩, ২০২০

প্রিয়াঙ্কার আহবানে হাজারো মানুষ সোনালী জমিনে

প্রভাতবেলা ফিচার : একজন প্রিয়াঙ্কা পাল। একজন নারী। একজন অভিভাবক। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্তা। মাতৃ হৃদয় দিনে অনুভব করেন সৃষ্টির কষ্ট। সুনামগঞ্জের প্রান্তিক জনপদ জামালগঞ্জ। কৃষকের উৎপাদন গোলায় উঠাতে যে উৎকন্ঠা তা তিনি অনুভব করেন নারী বৈশিষ্ট্যের অমিয় মমতায়। ডাক দেন সকল শ্রেণী পেশার মানুষকে। কৃষক আমাদের , সম্পদ আমাদের। দশে মিলে গোলায় তুলি সোনালী সম্পদ ধান। প্রিয়াঙ্কা পালের এমন আহবানে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ নামে সোনালী জমিনে। হাতে কাস্তে, মুখে হাসি, মনে তাদের বল।

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াঙ্কা পাল। তার অফিসিয়াল ও ব্যাক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজনকে কৃষকদের ধান কেটে দেয়ার আহবান জানান। একজন  নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)’র আহবানে সাড়া দিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার দেড় সহস্রাধিক লোকজন কাস্তে (কাঁচি) হাতে জমিনে নামে। এ যেন ধান কাটার উৎসব জামালগঞ্জের মাঠে প্রান্তরে। বিস্তীর্ণ হাওরের বুক জুড়ে বিদ্যমান  সোনালী  ধান কৃষকের গোলায় তুলে দিতে মানুষের মানবিক যুদ্ধ।

আরও পড়ুন  এ জাতির গন্তব্য কোথায়?

ইউএনও’র ওই আহবানে সাড়া দিয়ে  উপজেলার দশ পয়েন্টে বিভক্ত হয়ে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে উপজেলার অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন শ্রেণিপেশার ১৫ শতাধিক লোক কাস্তে হাতে ধান কাটতে হাওরে নামেন। মঙ্গলবার
দিনব্যাপী উপজেলার বৃহৎ পাগনার,হালি ও মহালিয়া হাওরে উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী,আনাসার সদস্য, নৌ পরিবহন শ্রমিক, বালু পাথর শ্রমিকগণ ধান কাটায় অংশ নেন।

করোনা ভাইরাস ক্রান্তিকাল শেষে ভবিষ্যতে দেশে যাতে খাদ্য সংকট সৃষ্টি না হয় সে জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের একফসলী পাকা বোরো ধান আগামবন্যা বা অকাল বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাবার পুর্বেই দ্রত গোলায় তোলার নির্দেশনা দেন।
বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস সংক্রমের ভয়ে চলতি বোরো মৌসুমে  হাওরের ধান কাটা (ধাওয়ালী)’র শ্রমিক সংকট দেখা দেয়।  আগামবন্যা ও অকাল বৃষ্টির আগেই বোরো ধান কেটে ঘরে গোলায় তোলা নিয়ে নানামুখী শংকা, উৎকন্ঠা দেয় জামালগঞ্জের কৃষক পরিবারে।
বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা পাল বলেন,মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশানার আলোকে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ধান কাটায় অংশ নেয়ায় আশা করি আগামবন্যা আসার পূর্বেই ধান কেটে কৃষকের ঘরে গোলায় তোলে দেয়া সম্ভব হবে।
তিনি আরো বলেন,মঙ্গলবার সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান এনডিসি ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ মহোদয় সরজমিনে জামালগঞ্জ এসে উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ধান কাটা কার্যক্রম তদারকি করে গেছেন,এতে করে ধান কাটায় অংশ নেয়া বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোকজন ও ধান কাটা শ্রমিকরা অনেকটা উৎসাহিত হয়েছেন দ্রুত ধান কেটে কৃষকের ঘরে গোলায় তোলে দিতে।

হাবিব সরোয়ার আজাদ এর তথ্য ও চিত্র অবলম্বনে প্রভাতবেলা ফিচার

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ