বউখেঁকো সেবুল মিয়া!

প্রকাশিত: ৭:৫২ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৭, ২০১৭

প্রভাতবেলা প্রতিবেদক: বহুল আলোচিত নির্যাতিত গৃহবধূ সাথী বেগমের স্বামী সেবুল মিয়ার চরিত্রের সমালোচনা এলাকাবাসীর মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ছে।তার কেচ্ছা-কাহিনী হার মানিয়ে দিচ্ছে সকল অপকর্মের।

স্থানীয় ঘিলাছড়া ইউ পি সদস্যের বক্তব্য থেকে জানা যায়, প্রবাসী সেবুল মিয়া একজন দুঃচরিত্র ব্যাক্তি।তার বয়স যখন ১৪ বছর পূর্ব যুধিষ্টিপুর গ্রামের ৩৫ বছরের মহিলা তওয়াকুল আলীর স্ত্রী মুসলিমা বেগমকে ধর্ষণের জন্য ঐ মহিলার ঘরের বেতের বেড়া ভেঙ্গে ঢুকে পড়ে। পরবর্তীতে ধর্ষণের সময় মুসলিমা বেগম সেবুলের পুরুষাঙ্গ কাটার জন্য ব্লেইড দিয়ে তার পুরুষাঙ্গে আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় সে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
পরে সে ১৮ বছর বয়সে একই উপজেলার ছত্তিস গ্রামের আদন মিয়ার মেয়ে গুলাই বেগমকে বিয়ে করে।পরে গুলাই বেগমকে তাড়ানোর জন্য ফাদ পেতে স্থানীয় পূর্ব যুধিষ্টিপুর গ্রামের আসকীর আলীর ছেলে মুসা মিয়া (২৩)কে ভাড়া করে গুলাই বেগমের ঘরে ঢুকিয়ে কৌশলে এলাকাবাসীকে ঢেকে নিয়ে স্ত্রীকে দুশ্চরিত্রা প্রমানিত করে তাড়িয়ে দেয়। পরে মুসা মিয়ার সাথে গুলাই বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  কাকরাইল মসজিদে তাবলিগের দুই দলে মারামারি

আর কিছু দিন পরে সে যুধিষ্টিপুর গ্রামের আক্তার আলীর মেয়ে সিরিজা বেগমকে বিয়ে করে, বিয়ের ৬ মাস পরে সিরিজা অন্তঃত্ত্বা হলে সে নিজের ঔরস জাত সন্তানকে অস্বীকার করে কৌশলে নিজের ভাইয়ের উপর প্রাগন্যান্সির দায় চাপিয়ে দ্বিতীয় বউকেও তাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয় বউ ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ এর মেয়ে সাথী বেগমকে সে বিয়ে করে কয়েক বছর আগে। সাথীর সাথে তার পরিচয় হয় দুবাইয়ে।পরিচয়ের পর তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে।এই সম্পর্কের পেছনে সেবুলের ছিল সাথী বেগমের অর্থের প্রতি লিপ্সা।সাথী দুবাইয়ে প্রচুর টাকা আয় করতো।কৌশলে সাথীর টাকা অতœসাত করে সেবুল ঘর বাড়ি নির্মান করে নিজের আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনে।বর্তমানে সেবুল ও সাথীর ২ বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
সেবুল তার তৃতীয় স্ত্রী সাথী বেগমকেও তাড়ানোর জন্য বিদেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করছেন।সেবুলের পিতা মারফত আলী(৭০) এবং সৎ মা(১৯)বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন চালাতেন।বিভিন্ন সময় ঘরে একা রেখে বাইরে তালা দিয়ে চলে যান।গত ২৩ শে এপ্রিল সেবুলের পরিবারের লোকজন সাথী বেগমকে শারিরীক নির্যাতনের পরে ঘরে তালা দিয়ে রেখে যান।পরে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার পুলিশ এবং সাংবাদিকদের সহযোগীতায় সাথী বেগমকে উদ্ধার করে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল চিকিৎসা করানো হয়।
এ ব্যাপারে প্রবাসী সেবুল মিয়ার সাথে প্রভাত বেলার সংবাদদাতা ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে সেবুল মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এলাকার আরেক যুবকের ভাষ্যমতে সেবুলের প্রথম স্ত্রী গুলাই বেগমকে তালাকের ৩ মাস পরে স্থানীয় শারিরীক প্রতিবন্ধি নওসাদ মিয়ার নতুন স্ত্রীকে ঘরে ঢুকে ধর্ষন করে এই সেবুল মিয়া।
এ ব্যাপারে এলাকাবাসী এবং প্রতিবেশীদের সাথে যোগাযোগ করলে তারা প্রতিক্রিয়ায় জানান যেমন বাপ তেমন বেটা। সেবুল মিয়ার সত্তোর্ধ পিতা মারফত আলী মাত্র কিছু দিন আগে ১৯ বয়সী এক মেয়েকে বিয়ে করেছে।এই পরিবারের কেলেঙ্কারি এলাকার ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।অবিলম্বে প্রসাশনের মাধ্যমে এর প্রতিকার করা উচিত মনে করেন এলাকবাসী।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ