সিলেট ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০১৮
মাকসুদা লিসাঃ মালয়েশিয়ায় কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ১৯৯৭ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচ। কিলাত ক্লাব মাঠ। ফাইনালের সেই শেষ বলে এক রান নেবার দৃশ্যটি মনে করিয়ে দিয়েছেন আজ জাহানারা আলম।
সেই দিন এক বলে এক রান দরকার ছিল। বল প্যাটে লাগতেই রান নেবার জন্য ছুটছিলেন স্ট্রাইকার এন্ডের ব্যাটসম্যান হাসিবুল হোসোইন শান্ত।
রোববার (১০ জুন) আবারও ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে। পার্থক্য শুরু নারী আর পুরুষের দলের। সেই ক্রিকেট। সেই কুয়ালালামপুর। আবারও ইতিহাসের পাতায়।
এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টির ফাইনাল ম্যাচের শেষ বলে দুই রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। কুয়ালালামপুরে আরো একটি ইতিহাস রচনার।
আর সেই ইতিহাসে নাম লিখালেন জাহানারা। শেষ বলে দৌড়ে দুই রান নিয়ে। জয়ের আনন্দে উন্মাতাল ব্যাট উঁচিয়ে ছূটে যাচ্ছেন জাহানারা । ড্রেসিং রুম থেকে ছটে আসা সতীর্থদের দিকে। সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি যেন ফিরে এলো কিনরারা ওভাল একাডেমি মাঠে।
শান্ত থেকে জাহানারা। বিজয়ের অস্তিম মুহূর্তে, ব্যাট ছুঁয়ে আসা রান আর দিক্বিদিক ছুট।
ইতিহাস, আর ইতিহাস। স্মরণীয় ও বরণীয় হয়ে থাকলো কুয়ালালামপুর।
বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ইতিহাসে সেরা অর্জন। সেরা জয়। সেরা সাফল্য। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন। বাংলার বাঘিনীরা এক অসম্ভব জয় তুলে দিলেন দেশবাসীকে। এ যেন আসন্ন ঈদের চমৎকার উপহার।
নারী এশিয়া কাপের ভারত ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন দল। এই কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছে টাইগ্রেসরা।
ভারতের মত শক্তিশালী দলকে বলে-ব্যাটে পেছনে ফেলে সেরা দলের খ্যাতি নিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে চুমু দেয়া।
সালমা খাতুন, রুমারা আহমেদ, আয়েশা রহমান, শারমিন সুলতানা, ফারজানা হক পিংকি, নিগার সুলতানা জ্যোতি, ফাহিমা খাতুন, সানজিদা ইসলামরা ইতিহাস রচনা করলেন।
এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল।
ফাইনালে ১১২ রানের টার্গেট নিয়ে খেলতে নেমে ম্যাচটা নিজেদের করে নেন শারমিন, আয়েশা, জ্যোতি, রুমানারা। এক রোমাঞ্চকর ফাইনাল দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব। ম্যাচের উত্তেজনা, উৎকণ্ঠা সব শেষ ওভারে। দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দিয়ে রোমানার আউটটা পুড়াচ্ছিল বাংলাদেশকে। আর মাত্র ১ বলে ২ রান প্রয়োজন যখন। সেই কাংখিত রান তুলে নিয়ে সবই সম্ভব করে দিলেন বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটাররা। দেশকে ভাসালেন আনন্দের বন্যায়।
এশিয়া কাপে এত দারুণ পারফর্ম্যান্স। তাক লাগানো। ছয় জাতী এ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের একটিই হার। প্রথম ম্যাচে শ্রীলংকার কাছে। এরপর টানা জয়। পাকিস্তান, ভারত, থ্যাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াকে হারিয়ে ফাইনালের রোড ম্যাপ তৈরী করে নেয় টারগ্রেসরা।
দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলা। চোখ ধাঁধানো নৈপুণ্য।
ফাইনালে ভাততের দেয়া ১১২ রানকে সামনে রেখে মাঠে নামেন শারমিন সুলতানা ও আয়েশা রহমান। এই দুই ওপেনার চমৎকার বোঝাপড়ায় দেখে শুনে খেলছিলেন। শামিমার কব্জিতে জোড় আছে। হাট হিটার। কম যাননা আয়েশাও। দীর্ঘ সময় পর দলে ফিরে জানান দিয়েছেন ফুরিয়ে যাননি তিনি। উভয়ের ৩৫ রানের পাটনারশীপ ভেঙ্গে দেন স্পিনার পুমন। তার ছুঁড়ে দেয়া লুজ বলে জুনুন গোস্বামীর হাতে ধরা পড়েন আয়েশা (১৭)। এর আগে তুলে নেন ১২ রান। পরের বলেই তার পাটনার শামিমা (১৬) বল ব্যাটে টাইমিং করতে না পেরে সটে মিতালী রাজকে ক্যাচ ফিরে যান।
ফারজানা ও নিগার সুলতানা নতুন করে আবার শুরু করেন। পুনম তার স্পিনের ভেল্কিতে বার কয়েক বাংলাদেশের ইনিংসে আঘাত হানেন। ফারজানা (১১) তার স্পিনে সামনে এগিয়ে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্প আউট হন। দলের তখন ৫৫ রান। নিগার সুলতানা পুনমের ফুট টস বল ক্রীজ ছেড়ে বেড়িয়ে এসে খেলতে চেষ্টা করে ক্যাচ তুলে দেন শর্মার কাছে। এর আগে মাত্র ২৪ বলে ২৭ রান তুলে দলকে জয়ের পথে নিয়ে যান নিগার। ৮৩ রানে চতুর্থ উইকেট হারানো বাংলাদেশের হাল ধরেন অভিজ্ঞ রুমানা ও ফাহিমা। এই বোলার কাম ব্যাটার বেশী সময় টিকতে পারেননি। ৯ রান করে হারপ্রিতের বলে পরাস্ত হয়ে ফিরে যান।
রুমানা দায়িত্ব নিয়ে খেলছিলেন। তাকে ক্রীজে রেখেই সানজিদা ফিরে যান দলের ১১০ রানে। বাংলাদেশের দলের ফাইনাল ম্যাচ জয়ে মাত্র ২ রান দরকার সেসময়। রুমানা রান আউটের কবলে পরে ফিরে যান। তার করা ২২ বলে ২৩ রান করে অত্যান্ত কার্যকরী ছিল টাইগ্রেসদের জন্য। বাকি কাজটা করেন জাহানারা।
ভারতীয় বোলার পুনম ইয়াদেব ৪ ওভারে ৯ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছে।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত ১১২ রান করে। বাংলাদেশী স্পিনের সামনে সুবিধা করতে পারেননি মিতালী রাজ, ভাতীয়া, পান্ডেরা। একমাত্র ব্যাতিক্রম ছিলেন হারপ্রতি। এই টপ অর্ডার ব্যাটার একাই করেছেন ৫৬ রান রান। বাকিরা তেমন ইছু করতে পারেন নি রুমানা, কুবরা, নাহিদা ও ফাহিমাদের স্পিনের যাদুতে।
ভারতের ফাইনাল ম্যাচ জয়ের জন্য এটি খুব বড় সংগ্রহ ছিল না। বাংলাদেশ এই রান চেজ করে সহজ জয় তুলে নেয়। রচনা করে ইতিহাসের।
বাংলাদেশে নারী ক্রিকেট ইতিহাস এক যুগান্তকারী সাফল্য তুলে দেন শামিমা, আয়েশা, ফারজানা, রুমানা, ফাহিমা, জাহানারা ও সালমা, কুবরা, নাহিদারা।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এই সাফল্যে আনন্দে ভাসছে গোটা দেশ।
ফাইনাল ম্যাচঃ বাংলাদেশ – ভারত
টস বাংলাদেশ
ভারতঃ ১১২/৯ ( ২০ ওভার)।
হারপ্রতি-৫৬, কুবরা-২/২২, রুমানা-২/২৩,
বাংলাদেশঃ১১৩/৭ (২০ ওভার)।
শামিমা – ১৬, আয়েশা-১৭, ফারজানা-১২, রুমানা-২৩, ফাহিমা-৯,
ফলাফলঃ বাংলাদেশ তিন উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দ্যা ফাইনালঃ রুমানা আহমেদ।
প্রভাতবেলার সম্পাদক, কবীর আহমদ সোহেল বাংলাদেশ নারী দলের সাফল্যে শুভেচ্ছা ও শুভ কামনা জানিয়েছেন।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি