বেআইনিভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেইঃ রিজভী

প্রকাশিত: ১:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৮

প্রভাতবেলা প্রতিবেদকঃ গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

রিজভী আহমেদ বলেন, ’বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কৃত্যে পরিণত হয়েছে। যা মানবধিকারের পরিপন্থি ও আইনের সুস্পষ্ট লংঘন’।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘মানবধিকারের এ রক্তাক্ত মুর্তি দেশবাসীর মধ্যে ভয়ের শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। বেআইনিভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেই। গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। বেআইনি মৃত্যূদন্ড অপরাধ দমনের মানদন্ড হতে পারে না’।

মঙ্গলবার (২২ মে) বেলা ১২টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশের তল্লাশীর নামে তান্ডব চালিয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ সোমবার গভীর রাতে সেহরীর কিছুক্ষণ আগে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর রাজধানীর বনানীর সিলেট হাউসের বাসায় ডিবি পরিচয়ে পুলিশের তল্লাশীর নামে তান্ডব চালায়।

ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যক্তিরা দরজায় জোরে জোরে ধাক্কা দিয়ে ইলিয়াস আলীর অসুস্থ স্ত্রীকে দরজা খোলার জন্য বলে। আতঙ্কিত হয়ে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা আমাকেসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে ফোনে আকুতি জানাতে থাকেন’।
এই সংবাদ পাবার পর ইলিয়াস আলীর বাসার সামনে গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে ইলিয়াস আলীর বাসার বাইরে অবস্থান নেয়া ডিবি পুলিশ পরিচয় ব্যক্তিরা চলে যায় বলে জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বিরোধী দলের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরির জন্যই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমি সরকারি সাদা পোশাকধারী বাহিনীর কাপুরুষচিত সন্ত্রাসী ভুমিকা যা ওন ভাবেই কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী আহমেদ।

আরও পড়ুন  কুষ্টিয়া ছাত্রদলের সভাপতি-সা.সম্পাদকসহ ৪০ নেতাকর্মী আটক

রিজভী আহমেদ আরো বলেন, ‘ বিচারবর্হিভূত হত্যার নামে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মানুষ হত্যা প্রাত্যহিক কৃত্যে পরিণত হচ্ছে। যা মানবধিকারের পরিপন্থি ও আইনের সুস্পষ্ট লংঘন’।

তিনি বলেন, ‘মানবধিকারের এ রক্তাক্ত মুর্তি দেশবাসীর মধ্যে ভয়ের শিহরণ বয়ে যাচ্ছে। এ অনাচারের সরকারি প্রশাসনের মানবতার অধঃপতন আরও নিচের দিকে নামছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বেআইনিভাবে মানুষ হত্যার অধিকার কারও নেই’।

বেআইনি মৃত্যূদন্ড অপরাধ দমনের মানদন্ড হতে পারে না। গতরাতেও চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী, নেত্রকোনা, দিনাজপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০জনকে ক্রসফায়ার দেওয়া হয়েছে। এর পিছনে সরকারের অসৎ থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন রিজভী আহমেদ ।

তিনি বলেন, ‘আসলে মাদক নির্মূলের নামে বিচার বর্হিভূত হত্যার যে হিড়িক চলছে এর গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হচ্ছে মাদকবিরোধীদের নির্মূল করতে যেয়ে টার্গেট করে বিরোধী দলের তরুণ নেতা-কর্মীদের মিথ্যা অভিযোগে গ্রেফতার করে মেরে ফেলা’।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন,’ গতরাতে নেত্রকোনায় কথিত ক্রসফায়ারে হত্যা করা হয়েছে ছাত্রদলের সদস্য আমজাদ হোসেনকে’ ।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আতঙ্ক তৈরি করাই সরকারের উদ্দেশ্য। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের সুখবর আওয়ামী ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিতে নেই। মানুষকে ভয় পাইয়ে দেয়ার নতুন প্রকল্প। সুদুর প্রসারি নীল নকশা বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ।

এ রমজান মাসে কর্দমাক্ত খানাখন্দে ভরা রাস্তাঘাট, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মুল্যে জনজীবনে নাভিশ্বাস এবং আইনশৃঙ্খলার করুণ পরিণতিতে দেশের বেহাল অবস্থা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতেই দৃষ্টি ফেরানোর কৌশলে লিপ্ত রয়েছে বলে মন্তব্য করেন রিজভী আহমেদ।

আরও পড়ুন  বিএনপি-জামায়াত ইতিহাসকে বিকৃত করছেঃ তথ্যমন্ত্রী

অপরাধিদের গ্রেফতার করুন, আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করুন, আইনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করুন। দেশের প্রচলিত আইনেই তো মাদক প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘ মাদক বিরোধী অভিযানের নামে কাদেরকে ধরা হচ্ছে, মাদকের গডফাদারদের নয়, চুনোপুঁটিদের’ ।

বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে ৯ বছরে মাদকে ছেয়ে গেছে দেশ। গোটা যুব সমাজকে ধ্বংস করতে পরিকল্পিতভাবে মাদকের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। এর পিছনে দায়ী ব্যক্তিরা হলেন সরকার দলীয় এমপি বদির মতো রাঘব বোয়ালরা। যারা মাদক ব্যবসার মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা আবার তাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করতে দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে গাজীপুরের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় গাজীপুর এলাকার সংসদ সদস্য ও সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির উদ্দেশে তিনি এ নির্দেশ দেন বলেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

রিজভী আহমেদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এমন আচরণ নির্বাচন আচরণ বিধির সুস্পষ্ট লংঘন’।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সহ-দফতর সম্পাদক মো. মুনির হোসেন, আমিনুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ