সিলেট ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ |
প্রকাশিত: ৭:০৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২০, ২০২৪
তবে নিয়মিত খেলছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে, বিশেষ করে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল টি২০) তে দেখা যাচ্ছে তার সরব উপস্থিতি। আরেকটু আলাদা করে বললে, বিপিএলের কথাই বলতে হয়ে বিশেষভাবে। যেখানে খেলোয়াড় মাশরাফির চেয়ে অধিনায়ক মাশরাফির কদরটা একটু বেশিই। গেল বছর তাকে কেন্দ্র করে বিপিএলের নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি সিলেট স্ট্রাইকার্স দল সাজায় । সেখানে দেশী কোচিং স্টাফ ও দেশী খেলোয়াড়দের উপর নির্ভরশীল দল গঠন করে বিপিএল বাজিমাত করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেবার মাশরাফির নেতৃত্বে ফাইনাল খেলে সিলেট স্ট্রাইকার্স।
এবার যখন বিপিএলে দশম আসর শুরুর দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসল, তখন সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে পাওয়া না পাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিল। একে তো ছিল জাতীয় নির্বাচনের ব্যস্ততা, তার উপরে ছিল ইনজুরি। এবারের বিপিএল না খেলে পায়ের ইনজুরির ডাক্তার দেখাতে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ফ্র্যাঞ্চাইজির বিশেষ চাহিদায় তাকে মাঠে নামতে হয়েছে ইনজুরি নিয়ে।
সিলেট স্ট্রাইকার্সে এমডি জগলুল হুদা মিঠু বিপিএল শুরু আগেই জানিয়েছিলেন, “অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফিকে চাই-ই চাই।’’ তিনি বোলিং-ব্যাটিং করতে না পারলেও ফ্র্যাঞ্চাইজিটির তাতে কোনো আক্ষেপ নেই। শুধু অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি মাঠে থাকলেই তাদের চলবে। এমন ফ্র্যাঞ্চাইজি এমন চাহিদা ফেলতে পারেননি মাশরাফি বিন মর্তুজা। দু পায়ে সাত অপারেশন করানো মাশরাফি আবারও পায়ের ইনজুরি নিয়ে টস করতে নামেন দশম আসরে — নিজেদের প্রথম ম্যাচে।
টস হেরে সিলেট স্ট্রাইকার্স প্রথমে ব্যাটিং করলে মাশরাফি বোলিং দেখান জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকতে হয় দ্বিতীয় ইনিংস পর্যন্ত। পায়ের ইনজুরি নিয়ে মাশরাফি কতটাও বোলিং করতে পারেন সেটাও ছিল দেখার বিষয়। ইনিংসের অষ্টম ওভারে এসে মাশরাফি করলেন বাজিমাত। ২৫০ দিন পর কোনো রকম অনুশীলন ছাড়াই বোলিং করতে এসে প্রথম বলেই ফেলেন উইকেটের দেখা৷ ইমরানউজ্জামানকে ফিরিয়ে তাক লাগিয়ে দেন সবাইকে। যেখানে ফুটে উঠেছিল মাশরাফির পেশাদারিত্বের ছাপ ও দলের প্রতি নিবেদন।
সিলেট স্ট্রাইকার্স প্রাণভোমরা হয়ে উঠা মাশরাফি যে কতটা পেশাদারিত্বের ছাপ রেখেছেন তা ফুটে উঠেছে তাঁর ছোট ভাইয়ের ফেইসবুক পোস্টে। ছোট ভাই মুরসালিন বিন মর্তুজা নিজের ভেরিফাইড আইডিতে লিখেন, “পায়ে ব্যথায় দাড়াইতে কষ্ট হচ্ছিল, আমাকে বলেছিল BPL এর সময় Australia যাবে। অপারেশন করাতে। আর করতেছে টা কি। খালি মিথ্যা কথা কয়।”
এমনটা বা আজ নতুন কী, এভাবে তো কতবার ইনজুরি নিয়ে খেলেছেন। বোলিং করতে গিয়ে পড়েও গিয়েছেন একাধিকবার, আবার উঠে দাঁড়িয়েছেন; ছোট ছোট রানআপে নিখুঁত বোলিংয়ে বারবার তাক লাগিয়েছেন। ইনজুরি কাটিয়ে ফিরেছেন বারবার, তাও আগের চেয়ে ধারালো এবং ভয়ংকর রুপে। নাম যে তার মাশরাফি, যাকে নিয়ে লেখা হয় বই, লেখা হয় গান। যেখানে তাকে অনুপ্রেরণার গল্প, ইনজুরি জর্জরিত পেসারদের ফিরে আসার গল্পের নায়ক তো হয়েই আছেন মাশরাফি। একবার ইনজুরিতে পড়লে ভেঙ্গে পড়া পেসারদের ফিরে আসার অনুপ্রেরণার নিয়ামক হিসেবে কাজ করে মাশরাফি নামটি। করবেই বা না কেন, কারণ এমন চরিত্র যে বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।
প্রশংসার বাণের পাশে আছে সমালোচনাও, সিলেট স্ট্রাইকার্স পুরোপুরি ফিট না এমন একজন খেলোয়াড়কে নামিয়ে কি পেশাদারিত্বের পরিচয় দিলো? এমন একজনকে নামিয়ে প্রতিপক্ষকে আগেই ‘দূর্বল দিক’ জানিয়ে দেওয়াই শেষ পর্যন্ত ম্যাচ হারার কারণ হয়েছে কি না — আলোচনা-সমালোচনা চলছে এটা নিয়েও।
তানজিম সাকিবের বলে আভিষ্কা সজোরে কভার ড্রাইভ করেছিলেন, মাশরাফি সেই বল ধরতে গিয়ে শরীর নামাতে চাইলেই পারেননি, বল তাঁর হাতে লেগে চলে গিয়েছে সীমানার বাইরে। যে ক্রিকেটার নিজেই জানেন তিনি কতটা ফিট, তাঁকে মাঠে নামিয়ে দেওয়ার ফল কী হতে পারে সেটা কি কেউ ভেবে দেখেছেন?
পেশাদার জগতে আবেগের স্থান খুব কম। মাশরাফি যদি খেলতে অনীহা প্রকাশ করেই থাকেন, তবে কেনো তাকে জোর করে নামানো, বিপিএল-এর মত চরম পেশাদার এক আয়োজনে একজন ‘আনফিট’ ক্রিকেটারকে নামিয়ে দেওয়া কি সমীচীন হলো?
বিশ্ব ক্রিকেটে বর্তমানে সমীহ জাগানিয়া দলে পরিণত হওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই ঘটনা বিশেষ এক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলাই বাহুল্য।

সম্পাদক : কবীর আহমদ সোহেল
নির্বাহী সম্পাদক: মোঃ আব্দুল হক
ঢাকা অফিস : ২৩৪/৪ উত্তর গোড়ান, খিলগাঁও, ঢাকা ।
সম্পাদক কর্তৃক প্রগতি প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ, ১৪৯ আরামবাগ, ঢাকা থেকে মুদ্রিত ও প্রকাশিত।
সিলেট অফিস: ২৩০ সুরমা টাওয়ার (৩য় তলা)
ভিআইপি রোড, তালতলা, সিলেট।
মোবাইল-০১৭১২-৫৯৩৬৫৩, ০১৭১২-০৩৩৭১৫
E-mail: provatbela@gmail.com,
কপিরাইট : দৈনিক প্রভাতবেলা.কম
আমাদের সর্ম্পকে গোপনীয়তা যোগাযোগ
Design and developed by ওয়েব হোম বিডি