লাকী’র মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে- অভিযোগ পরিবারের

প্রকাশিত: 4:20 PM, September 6, 2020

লাকী’র মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে- অভিযোগ পরিবারের

প্রভাতবেলা ডেস্ক:

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট অফিসের কম্পিউটার ডাটা অপারেটর দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের সেন গ্রামের বাসিন্দা হিমাদ্রী পালের স্ত্রী লাকী রাণী পাল শরীরে আগুন লেগেই মৃত্যুবরণ করেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন লাকীর শ্বশুর জালালপুর সেনগ্রামের বাসিন্দা মৃত নরেশ পালের পুত্র হলধর চন্দ্র পাল। হলধর পাল অভিযোগ করেন, লাকীর অপমৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলায় রুপান্তর করতে অপপ্রচার ও নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন তার বোন প্রিয়াংকা রাণী পাল।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হলধর পালের বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবল চন্দ্র পাল। লিখিত বক্তব্যে হলধর চন্দ্র পাল বলেন, আমার বড় ছেলে হিমাদ্রী পাল দক্ষিণ সুরমার ধরাধরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। আমার ছেলে হিমাদ্রী পালের সাথে প্রায় ৩ বছর পূর্বে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার কঠালপুর গ্রামের বাসিন্দা বর্তমানে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাটস্থ মৌবন ১০৪ নং বাসায় বসবাসকারী প্রদীপ পালের বড় মেয়ে লাকী রাণী পালের সাথে বিবাহ হয়। তাদের দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

আরও পড়ুন  রায়হান হত্যা: ২০ লাখ টাকায় আপসের প্রস্তাব

তিনি বলেন,  গত ৯ আগস্ট রাতে  লাকী অগ্নিদগ্ধ হলে পরদিন ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন ।  ওই দিনই লাকীর পিতা প্রদীপ পাল এসএমপির মোগলাবাজার থানায় হাজির হয়ে লিখিতভাবে তার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ প্রেরণ করেন।  এ ঘটনায় মোগলাবাজার থানা পুলিশ একটি অপমৃত্যু মামালা দায়ের করে। যার নং ০৬/২০। প্রদীপ পাল একইভাবে ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিনা ময়না তদন্তে লাশ সৎকারের জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেটের নিকট আবেদন করেন। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ পর হঠাৎ করেই লাকী রাণী পালের ছোট বোন প্রিয়াংকা রাণী পাল গত ১৭ আগস্ট মোগলাবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০০৩, যৌতুকের জন্য মৃত্যু ঘটানো ও সহায়তার অপরাধ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। যা মোগলাবাজার থানার মামলা নং ১২ হিসেবে রুজু হয়ে বর্তমানে মহানগর হাকিম আদালতে মোগলাবাজার জি.আর ১১৬/২০২০ রুপে দায়েরী আছে।

তিনি বলেন, একটি অপমৃত্যুর ঘটনাকে হত্যা মামলায় রুপান্তর করতে লাকীর বোন প্রিয়াংকা রাণী পাল অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। তার বোনের মৃত্যুর তিন দিন পর প্রিয়াংকা রাণী পাল আমার বড় ছেলে হিমাদ্রীর নিকট ১০ লক্ষ টাকা দাবী করেছিলেন যেটা দিতে আমরা অস্বীকৃতি জানাই। পিতার কথার অবাধ্য হয়ে স্বার্থ হাছিল করতেই প্রিয়াংকা মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের উপর মামলা দায়ের করেছেন। মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনার তদন্ত না করেই মামলাটি রুজু করেছেন।

আরও পড়ুন  "দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সেবা পৌঁছে দেবে সিটি ডিজিটাল সেন্টার"

হলধর চন্দ্র পাল বলেন, প্রিয়াংকা রাণী পাল এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে একের পর এক অপপ্রচার চালাচ্ছে। যেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও মানহানীকর। আমাদের কোন বক্তব্য না নিয়ে এমনকি সরেজমিন তদন্ত না করে এসব সংবাদ ছাপানো হয়েছে। আমি তাদের এমন ভিত্তিহীন অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনে হলধর পাল প্রিয়াংকা গংদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন...

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ